কপিলমুনিতে তাল শাঁসের চাহিদা বেড়েছে

0

কপিলমুনি (খুলনা) সংবাদদাতা ॥ প্রচন্ড তাপদাহে দুর্বিষহ হয়ে উঠেছে সাধারণ মানুষের জীবনযাপন।  তীব্র গরমে তালের শাঁসের চাহিদা বেড়েছে। পাইকগাছা উপজেলার সকল হাটবাজারে প্রচুর পরিমাণ তাল বিক্রি হচ্ছে।
তালের শাঁস পানি শূন্যতা দূর করে। দেহকে রাখে ক্লান্তিহীন। খাবারে রুচি বাড়িয়ে দেয়। তাল শাঁসে থাকা উপকারী উপাদান লিভার সমস্যা ও রক্ত শূন্যতা দূরীকরণে দারুণ ভূমিকা রাখে। এতে থাকা ভিটামিন এ দৃষ্টিশক্তির উন্নতি করে। তালশাঁস বমিভাব আর বিস্বাদ দূর করতে ভূমিকা রাখে। তালশাঁস জেলির মত হওয়ায় খেতে খুব মুখরোচক এবং শিশুদের কাছে খুব প্রিয়। পাকা তালে বড়া, হালুয়াসহ নানা ধরণের খাবার তৈরি করা যায়। তাছাড়া তালের আটি কেঁটে আটির ভেতর থেকে সাদা রঙ্গের শাঁস বের করে খাওয়া যায়। যা খেতে খুব সুস্বাধু।
প্রতিদিন গ্রামের হাট বাজারে প্রচুর পরিমাণে তাল বিক্রি হচ্ছে। গ্রাম অঞ্চল থেকে তাল জেলা শহর ও রাজধানী ঢাকা শহরে সরবরাহ হচ্ছে। পাইকগাছা থেকে প্রতি সপ্তাহে ২/৩ ট্রাক তাল ঢাকা শহরে সরবরাহ হচ্ছে। এলাকার ব্যবসায়ীরা ঢাকা কারওয়ান বাজারে পাইকারি বিক্রি করছে। তবে বিগত বছরের তুলনায় তালের দাম বেশি ।
এ বছর পাইকগাছা উপজেলা অঞ্চলে তালের প্রচুর ফলন হয়েছে । বৈরি আবহাওয়া আর অনাবৃষ্টির পরও ফলন ভালো হয়েছে । ছোট-বড় কাঁদি হিসেবে ১০/৪০ টি পর্যন্ত তাল একটি কাঁদিতে ধরেছে। এ এলাকায় দুই রকম তালের জাত দেখা যায়। একটি কালছে রঙ্গের আর একটি ধুষর হলদে বর্ণের। স্থানীয় বাজারে এক একটি তাল পাচ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। একটি তালে দুই থেকে চারটে আটি হয়। প্রতিটি আঁটির ভেতরে শাঁস। তাল ছোট-বড় হিসেবে বিভিন্ন দামে বিক্রি হচ্ছে। স্থানীয় ব্যবসায়ীরা তাল গাছের মালিকের কাছ থেকে গাছ চুক্তি ৩শ থেকে ১ হাজার টাকায় তাল ক্রয় করছেন।
উপজেলার সিলেমানপুর গ্রামের তাল ব্যাবসায়ী মুজিবুর রহমান জানান, প্রতিদিন ফেরি করে ২ থেকে ৩ হাজার টাকার তাল বিক্রি করি। গরম বেশি থাকায় প্রচুর পরিমাণে তাল বিক্রি হচ্ছে।
স্থানীয় ফল ব্যবসায়ী আব্দুর সাত্তার জানান, পাইকগাছার বিভিন্ন এলাকা থেকে প্রতি সপ্তাহে ২ থেকে ৩ ট্রাক তাল ঢাকায় পাঠানো হচ্ছে।

Lab Scan