ঐতিহ্যের যশোরে যোগ হতে চলেছে আরও একটি প্রত্নতত্ত্ব

0

মজনুর রহমান,মনিরামপুর (যশোর)॥ সহস্রাধিক বছরের ঐতিহ্যের ধারক যশোরে যোগ হচ্ছে আরও একটি প্রতœতত্ত্ব সম্পদ। ঐতিহ্যের জনপদে আরও একবার যোগ হতে চলেছে মনিরামপুর উপজেলার নাম। এবার খনন করা হচ্ছে
বিরাট রাজার ধনপোতা বা গুপ্তধনের ঢিবির খননকাজ শুরু করেছে প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তর। উপজেলার খেদাপাড়া গ্রামে মাঠের মধ্যে অবস্থিত এ ঢিবির বর্তমান মালিক স্থানীয় প্রতাপ বিশ্বাসের পিতা পঙ্কজ বিশ্বাস। এলাকাবাসীসহ প্রতাপ বিশ্বাসের দাবি তাদের পূর্বপুরুষরা শুনে আসছেন হাজার বছর আগে এখানে জমিদার বিরাট রাজার বাড়ি ছিল। তাদের ধারণা ধনপোতা এ ঢিবির তলে হয়ত গুপ্তধনের সন্ধান মিলতে পারে। তবে প্রকৃত ইতিহাসের সন্ধানে এ ঢিবির খননকাজ শুরু করেছে প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তর। কর্মকর্তাদের ধারণা পুরো খননকাজ সম্পন্ন হবার পর উদ্ঘাটন হতে পারে মনিরামপুরসহ যশোর জেলার গুরুত্বপূর্ণ আদি ইতিহাস।
শনিবার দুপুরে সরজমিন খননকাজের দেখভালের দায়িত্বে থাকা বরিশাল বিভাগীয় জাদুঘরের কাস্টডিয়ান আরিফুর রহমান ও কুষ্টিয়ার রবীন্দ্র কুঠিবাড়ির কাস্টডিয়ান আল আমিনের সাথে কথা হয়। তারা জানান, ২০০৬ সালে মনিরামপুরের দোনার এলাকায় দমদম পীরের ঢিবি খনন করা হয়। মূলত তখন খেদাপাড়া অঞ্চলের এ ধনপোতা ঢিবির সন্ধান মেলে। কর্তৃপক্ষের নির্দেশে খেদাপাড়া এলাকার বিরাট রাজার ধনপোতা এ ঢিবির কাজ শুরু হয়েছে গত ১০ ডিসেম্বর থেকে। এখানে মোট ২০টি কূপ খনন করা হবে। ইতোমধ্যে ১০ টির মত কূপ খনন করা হয়েছে। খননকালে পোড়া ইটের বেশ কয়েকটি চওড়া দেয়াল বেরিয়ে এসেছে। প্রাচীন স্থাপনার এই অংশগুলো ছাড়াও পাওয়া গেছে মৃৎপাত্রের ভগ্নাংশ, পাথরের টুকরা, বাটি, পশুর হাড় ও পেরেক।
প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তর খুলনা অঞ্চলের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ধনপোতা ঢিবিতে পাওয়া ইটের সঙ্গে মনিরামপুরের দোনার অঞ্চলের দমদম পীরের ঢিবি ও কেশবপুরের ভরতভায়নার দেউল ঢিবির অনেক মিল রয়েছে। তাঁদের ধারণা এখানকার স্থাপনাগুলো এক হাজার থেকে বারো শ বছর আগের নিদর্শন। তবে ঢিবিতে প্রাপ্ত স্থাপনা উপাসনালয় নাকি আবাসস্থল সেই বিষয়ে স্পষ্ট কিছু জানাননি তাঁরা। কর্মকর্তারা জানান, জানুয়ারি মাস জুড়ে খনন কাজ চলবে। বাকি কূপসমুহ খনন কাজ শেষ হলে এ বিষয়ে বিস্তারিত জানা যাবে।
এলাকাবাসী জানান, সনাতন ধর্মে যে বিরাট রাজার ইতিহাস রয়েছে সেই বিরাট রাজার বসতি ছিল এখানে। প্রাচীনকালে রাজার এ বাড়ির পূর্বপাশ দিয়ে প্রবাহিত ছিল স্বরুপ নদী। জাহাজও চলতো সে নদীতে। তিনি এখানে বসে বিচার কাজ চালাতেন। ধনপোতা ঢিবিটির বর্তমান মালিক খেদাপাড়া গ্রামের পঙ্কজ বিশ্বাস ও তার গোত্ররা। পঙ্কজ বিশ্বাসের ছেলে কলেজ পড়ুয়া ছাত্র প্রতাপ বিশ্বাস জানান, ৫৭ শতক এলাকার ঢিবিটি তাদের ঠাকুর দাদাদের পৈত্রিক সম্পদ। তাদের সাত পুরুষ (প্রজন্ম) এখানে (ঢিবিতে) কোনো বসতি দেখেননি। পরিত্যক্ত ঢিবিতে ঝোপঝাড়ে ভরে যায়। আশপাশের বসতির গবাদিপশুর খাদ্য ও রান্নার জ্বালানির জোগান হয় এই বাগান থেকে। স্থানীয় সুকুমার সরকার জানান, প্রায় ৪০ বছর আগে একবার এ ঢিবিটি খোঁড়াখুঁড়ি করা হয়। সেখান থেকে তিনি এক মণ ওজনের একটি পাথর পেয়েছিলেন। এ দিকে বিরাট রাজার ধনপোতা বা গুপ্তধনের ঢিবি খননের খবর জানজানি হলে প্রাচীন নিদর্শন দেখতে প্রতিদিনই দূর-দূরান্ত থেকে উৎসুক লোকের ভিড় হচ্ছে। আশপাশে হরেক রকমের দোকানও বসেছে।
প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তর খুলনার আঞ্চলিক পরিচালক লাভলী ইয়াসমিন জানান, বিরাট রাজার ধনপোতা ঢিবি খননে প্রাপ্ত স্থাপনা দেখে নিশ্চিত কিছু বলা যাচ্ছে না। তবে খনন কাজ শেষ হলে নিশ্চিত হওয়া যাবে এখানে উপাসনালয় নাকি আবাসস্থল ছিল। তবে আশা করা হচ্ছে খননে প্রাপ্ত ফলাফল মনিসরামপুরসহ যশোর জেলার আদি ইতিহাস পুনর্গঠনে ভূমিকা রাখবে।

 

 

Lab Scan