এসেছে কুমড়ো বড়ির মৌসুম

0

মুকুরুল ইসলাম মিন্টু, চৌগাছা (যশোর) ॥ শীতের খাবারে নতুন মাত্রা যোগ করে কুমড়ো বড়ি। সেই কুমড়ো বড়ি তৈরিতে যশোরের চৌগাছার গৃহিণীরা এখন ব্যস্ত। উপজেলার প্রতিটি গ্রামে ধুম পড়ে গেছে বড়ি তৈরির।
কুমড়ো বড়ি গ্রাম বাংলার মানুষের কাছে খুবই পরিচিত একম নাম। শীত এলেই মজাদার এই খাবার তৈরিতে ব্যস্ত হয়ে পড়েন গ্রামের গৃহবধূরা। প্রতিটি পাড়া মহল্লার নারীরা দল বেঁধে সন্ধ্যা বা ভোর রাতে বড়ি তৈরির কাজে ব্যস্ত হয়ে পড়েন। দিনের আলোতে সেই দল পুনরায় বড়ি বিভিন্ন ভাবে থালা, কাঠ, জাল বা অন্য কিছুর উপর বসিয়ে তা রোদে শুকাতে দেন। রোদে শুকানোর পরই খাওয়ার উপযোগী হয়। মাসকলাইয়ের ডাল আর চাল কুমড়োর মিশ্রণে রোদে শুকিয়ে তৈরি হয় কুমড়ো বড়ি। কুমড়ো বড়ির সাথে রুই মাছ, ইলিশ মাছ, চিংড়ি মাছ, বেগুন, হাঁস, মুরগীর ডিম বেশ মজাদার খাবার। এছাড়া বড়ি আলাদাভাবে রান্না করেও খাওয়া যায়।
উপজেলার মুক্তদাহ, তেহরী, ইছাপুর, ভবানীপুরসহ বেশ কিছু গ্রাম ঘুরে দেখা গেছে, গ্রামের নারীরা চাল কুমড়ো আর মাসকলাই দিয়ে তৈরি করা বড়ি প্রস্তুত করতে বেশ ব্যস্ত। এসময় কথা হয় গৃহবধূ ফাতিমা খাতুন, লাইলী বেগম, শিল্পি পাল, বাসন্তি রানী পালের সাথে। তারা জানান, কুমড়ো বড়ি গ্রামের মানুষের কাছে অত্যন্ত পরিচিত ও সুস্বাদু এক খাবারের নাম। কেবলমাত্র শীতেই এই বড়ি তেরি করা হয়। তাই প্রতি বছর শীত এলে আমরা বড়ি তৈরিতে ব্যস্ত হয়ে পড়ি।
গৃহবধূ লাবনী পাল বলেন, চাল কুমড়ো আর পরিমাণমতো মাসকলাই হলেই তৈরি করা যায় বড়ি। বর্তমান মৌসুম হচ্ছে বড়ি তৈরির উত্তম সময়। সে কারণে গ্রামাঞ্চলে প্রতিটি বাড়িতে চলছে বড়ি তৈরির প্রস্তুুতি। শহরে বসবাসরত অনেক আত্মীয় স্বজনকে বড়ি তৈরি করে দিতে হয়। এছাড়া গ্রামের অধিকাংশ পরিবার হতে ছেলেরা বিশ্বের কোন না কোন দেশে আছেন। তারা ছুটিতে এলে বিশেষ কায়দায় এই বড়ি নিয়ে যান সেই দেশে।

Lab Scan