এবার কমলো না সবজির দাম

শেখ আব্দুল্লাহ হুসাইন ॥ শীত চলে গেলেও শীতের সবজির দাম এ মৌসুমে আর কমলো না। প্রাকৃতিক দুর্যোগের কবলে পড়ে পুরো মৌসুমটা এলোমেলো হয়ে গেছে বলে সবজি ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন। চালের দাম গত দু সপ্তাহ আগে প্রতি কেজিতে ৩ থেকে ৪ টাকা বাড়ার পর আর কমেনি। চাল ব্যবসায়ীরা জানান, হাট-বাজার থেকে ধান মিল মালিক আর আড়তদারদের হাতে চলে যাওয়ার পর থেকে চালের দাম বাড়ছে। প্রায় ৬ মাস ধরে পেঁয়াজের বাজার অস্থির থাকার পর এখন নতুন দেশি ভাতি (পোনা) পেঁয়াজের দেখা মিলছে।
যশোরবাসী পুরো শীতকাল পার করে আসলেও শীতের সবজির দামের নাগাল মোটেও পায়নি। অন্যান্য বছরের তুলনায় এই সময়টা সবজির বাজারে অস্বাভাবিক দাম বিরাজ করে। বসন্ত এসে গেলেও এখনও চড়া দামে ভোক্তাদের কিনতে হচ্ছে শীতের সবজি। গতকাল শুক্রবারও বড় বাজারে পেঁয়াজের কালি বিক্রি হয় প্রতি কেজি মানভেদে ৩০ থেকে ৪০ টাকা। লাউ প্রতিটি আকারভেদে ৪০ থেকে ৫০ টাকা। মটরশুটি প্রতি কেজি ৪০ থেকে ৫০ টাকা। শসা বিক্রি হয় ৩৫ থেকে ৪০ টাকা। ফুলকপি প্রতি কেজি ২০ থেকে ২৫ টাকা। গাজর প্রতি কেজি ২৫ থেকে ৩০ টাকা। টমেটো প্রতি কেজি ২৫ থেকে ৩০ টাকা। মানকচু প্রতি কেজি ৩৫ থেকে ৪০ টাকা। লাল শাক ২৫, পালং শাক ২০, কাঁচকলা ৩০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হয়। সবজির আড়তদার এইচ এম এম রোডের আরিফ ভান্ডারের শাহাবুদ্দিন আহম্দ জানান, এবার শীতের আগে এবং শীতের মধ্যে বৃষ্টি ও ঝড়ে চাষিরা ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ফলন বিপর্যয় ঘটেছে মারাত্মকভাবে। এ কারণে শীতের পুরো মৌসুমে বাজারে ক্রেতাদের চাহিদা অনুযায়ী সবজির সরবরাহ হয়নি। সবসময় ঘাটতি থেকে গেছে। ফলে বাজারে সবজি ছিল সাধারণ ক্রেতাদের ধরাছোঁয়ার বাইরে।
এদিকে আমন মৌসুমে বড় বাজারে চালের বস্তার স্তুপ থাকলেও গত দু সপ্তাহ আগে প্রতি কেজি চালে ৩ থেকে ৪ টাকা দাম বেড়ে আর কমেনি। গতকাল বড় বাজারে বিআর ২৮ ধানের চাল প্রতি কেজি বিক্রি হয় ৩৮ থেকে ৪০ টাকা, বিআর ১০ ধানের চাল ৩৬ থেকে ৩৭ টাকা, মিনিকেট ৪৪ থেকে ৪৮ টাকা, বাংলামতি ৪৮ থেকে ৫২ টাকা আর গুটি স্বর্ণা বিক্রি হয় ২৮ টাকায়। চাল ব্যবসায়ীরা বলছেন কৃষকের হাত থেকে আমন ধান মিল মালিক, আড়তদার আর মজুতদারের কাছে চলে যাওয়ায় চালের দাম বেড়েছে।
প্রায় ৬ মাস ধরে দেশের সবচেয়ে আলোচিত পণ্য পেঁয়াজের সরবরাহ বাড়ছে বাজারে। বড় বাজারে প্রতিটি খুচরা দোকানে শোভা পাচ্ছে দেশি নতুন ওঠা ভাতি (স্থানীয় ভাষায় পোনা ভাতি)। এর আগে সংকট ঠেকাতে এসেছিল দেশি মুড়িকাটা পেঁয়াজ। মুড়িকাটা শেষ হওয়ার পর এখন উঠেছে ভাতি পেঁয়াজ। গতকাল শুক্রবার বাজারে ১০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হয়। বড় বাজার হাটখোলা রোড়ের পাইকারি ব্যবসায়ী নোয়াখালী এজেন্সির স্বত্বাধিকারী আলমগীর কবির জানান, পোনা ভাতি পেঁয়াজ মাস দুয়েক মত বাজারে থাকবে। ্এর পরে আসবে আসল ভাতি পেঁয়াজ, যেটা রাখি করা যায়। তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, আগামী দু এক সপ্তাহের মধ্যে পেঁয়াজের দাম আরও কমে যাবে। তবে বাজারে মেহেরপুরের লাল পেঁয়াজ পাওয়া যাচ্ছে, প্রতি কেজি খুচরা বিক্রি হচ্ছে ৬০ টাকায়।

ভাগ