এফআর টাওয়ারের অনিয়ম অনুসন্ধানে ৯ প্রতিষ্ঠানের নথি তলব

১৮ তলা অনুমোদন নিয়ে অবৈধভাবে ২৩ তলা ভবন নির্মাণে অনিয়ম হয়েছে কিনা তা খতিয়ে দেখতে রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষসহ (রাজউক) ৯ প্রতিষ্ঠানের নথিপত্র তলব করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। যেসব প্রতিষ্ঠানে চিঠি দেওয়া হয়েছে তা হলো অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ট্রাফিক), রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (রাজউক), বাংলাদেশ বেসরকারি বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ, ঢাকা ওয়াসা, পরিবেশ অধিদপ্তর, বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ রেগুলেশন কমিটি, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন, তিতাস গ্যাস কোম্পানি লিমিটেড ও ফায়ার সার্ভিস। বৃহস্পতিবার দুদকের প্রধান কার্যালয় থেকে সংস্থাটির উপপরিচালক আবু বকর সিদ্দিক সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোতে নথি-পত্র চেয়ে চিঠি দেন। যেখানে আগামি তিন কর্মদিবসের মধ্যে চাহিদাকৃত নথি পাঠানোর জন্য অনুরোধ করা হয়েছে। সংস্থাটির জনসংযোগ কর্মকর্তা প্রনব কুমার ভট্টাচার্য্য রাইজিংবিডিকে এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
তলবকৃত নথিপত্রগুলো হলো ভবনের ছাড়পত্র প্রদান সংক্রান্ত নথির সত্যায়িত কপি এবং হাইরাইজ ভবনের ছাড়পত্র প্রদান সংক্রান্ত সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর সংশ্লিষ্ট বিধিমালা বা নীতিমালার সত্যায়িত কপি। তবে রাজউকের ক্ষেত্রে ভবন নির্মাণের সময়ে কোন কোন কর্মকর্তা দায়িত্বে পালন করেছেন এবং কতবার ভবন পরিদর্শন করেছেন তার বিববরণসহ প্রতিবেদন ইত্যাদি নথিপত্র। ১৮ তলা অনুমোদন নিয়ে অবৈধভাবে ২৩ তলা ভবন নির্মাণ ও অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগে বনানীর এফ আর টাওয়ারের জমির মালিক এস এম এইচ আই ফারুক হোসেন ও রূপায়ন গ্রুপের চেয়ারম্যান লিয়াকত আলী খান মুকুল, কাশেম ড্রাইসেল ব্যাটারির মালিক ও এফ আর টাওয়ারের বর্ধিত অংশের মালিক তাসভির উল ইসলাম এবং রাজউকের সংশ্লিষ্ট ইমারত পরিদর্শকসহ কয়েকজনের বিরুদ্ধে অনুসন্ধানের সিদ্ধান্ত নেয় দুদক। অনুসন্ধানের সিদ্ধান্ত হওয়ার পর ৩ মার্চ সংস্থাটির উপপরিচালক আবু বকর সিদ্দিককে অনুসন্ধান কর্মকর্তা হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়।
ঘুষ দিয়ে রাজউক কর্মকর্তাদের সহযোগিতায় ১৮ তলা অনুমোদন নিয়ে ২৩ তলা ভবন নির্মাণ করেছিলেন বলে অভিযোগে বলা হয়েছে। যাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ তারা অবৈধভাবে ভবন নির্মাণ ও অবৈধ সম্পদ অর্জন করেছেন কিনা তা খতিয়ে দেখার জন্য দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে অনুসন্ধানকারী কর্মকর্তাকে। দুদকে আসা অভিযোগে বলা হয়, ফারুক হোসেন ১৯৯৬ সালে তার মালিকানাধীন ১০ কাঠা জায়গাতে ১৮ তলা ভবন নির্মাণের জন্য রাজউকে আবেদন করেন। সে অনুসারে ভবন নির্মাণ কাজ শুরু হয়। পরবর্তী সময়ে ২০০৩ সালে রাজউক অনুমোদিত নকশা অনুযায়ী ভবন নির্মাণের জন্য মালিকের ৪৫ শতাংশ ও ডেভলপারের ৫৫ শতাংশ হিসেবে রূপায়ন গ্রুপের চেয়ারম্যান লিয়াকত আলীর সঙ্গে রাজউকের মাধ্যমে আমমোক্তারনামা চুক্তি করেন। কিন্তু ২০০৫ সালে ভবনের মালিক ফারুক হোসেন কর্তৃক রাজউক অনুমোদিত নকশায় ২৩ তলা ভবন নির্মাণ করা হয়েছে মর্মে রাজউককে জানানো হয় এবং ২০০৭ সালে বিষয়টি তদন্ত করে অনুমোদিত নকশায় অতিরিক্ত পাঁচতলা নির্মাণের প্রমাণ পেয়েও কোনো আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। রাজউক সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা ঘুষ নিয়ে অবৈধভাবে নির্মিত অংশ বিক্রির অনুমোদন দিলে কাশেম ড্রাইসেল ব্যাটারির মালিক তাসভির উল ইসলাম ক্রয় করেন। এর আগে গত ৩১ মার্চ দুদকের চেয়ারম্যান ইকবাল মাহমুদ অনুসন্ধানের বিষয়টি ইঙ্গিত দিয়েছিলেন।
দুদক চেয়ারম্যান বলেন, ‘এফআর টাওয়ারের ১৮ তলা অনুমোদন নিয়ে ২৩ তলা করেছে। এই অনিয়মের সঙ্গে কারা জড়িত, এটা আস্তে আস্তে বেরিয়ে আসছে এবং বেরিয়ে আসবে। আমি বিশ্বাস করি এদের ক্ষমা হবে না। যদি এরা কোর্ট থেকেও ছাড়া পায়, দুদক থেকে তারা ছাড়া পাবে না। এভাবে জনগণকে নিয়ে ছিনিমিনি খেলা আর সহ্য করা উচিত না। তারা কোর্ট থেকে ছাড়া পেলেও দুদক থেকে ছাড়া পাবে না। গত ২৮ মার্চ দুপুরে বনানীর এফআর টাওয়ারে আগুন লাগে। এখন পর্যন্ত বনানীর আগুনের ঘটনায় নিহত হয়েছেন ২৬ জন। আরও বহু লোক দগ্ধ ও গুরুতর আহত হয়ে রাজধানীর বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। বনানীর আগুনে হতাহত হওয়ার ঘটনায় মামলা হয়। মামলার এজাহারে তিনজনের নাম উল্লেখ করে ও অজ্ঞাত ব্যক্তিদের আসামি করা হয়েছে। তিন আসামি হলেন প্রকৌশলী ফারুক হোসেন, রূপায়ণ গ্রুপের চেয়ারম্যান লিয়াকত আলী খান মুকুল এবং বিএনপি নেতা তাসভির উল ইসলাম। এ ঘটনায় এফ আর টাওয়ারের জমির মালিক এস এম এইচ আই ফারুক ও এফ আর টাওয়ারের বর্ধিত অংশের মালিক তাসভির উল ইসলামকে আটক করে ডিবি।

ভাগ