এক হালি লেবু ৮০ টাকা, সবজির বাজারে আগুন

0

আকরামুজ্জামান ॥ রোজার মাসে তুলনামূলকভাবে লেবুর চাহিদা একটু বেশিই থাকে। বিশেষ করে ইফতারে লেবুর শরবত ছাড়া যেনো চলেই না। এজন্যে বাজারে এর চাহিদাও বেড়ে যায়। এ সুযোগে ব্যবসায়ীরা লেবুর দাম ইচ্ছা মতো বাড়িয়ে অধিক মুনাফা লুটে নেয়া শুরু করেছেন। রোজার আগের দিনই প্রকারভেদে লেবু বিক্রি হয়েছে ৬০ থেকে ৮০ টাকা হালি। ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন, সামনে রোজায় লেবুর দাম আরও বাড়লে অবাক হওয়ার কিছু থাকবে না।
বৃহস্পতিবার বিকেলে যশোরের বাজার ঘুরে দেখা গেছে, লেবুসহ সব ধরনের সবজির দাম আকাশছোঁয়া। ক্রেতারা জানান, রোজা উপলক্ষে ব্যবসায়ীরা পরিকল্পিত মুনাফা লুটে নিচ্ছে নিত্যপণ্যের বাড়তি দামে। বাজার ঘুরে দেখা গেছে, এক হালি দেশি কাগুজে লেবু বিক্রি হচ্ছে ৮০ টাকা। অর্থাৎ একটির দাম ২০ টাকা। আর মাঝারি সাইজের এলাচি লেবুর হালি ৬০ থেকে ৭০ টাকা। বড় সাইজের কলম্বো লেবুর হালি ৮০ টাকা।
সবজি দোকানি আব্দুর রহমান বলেন, লেবুর দাম গত কয়েকদিন ধরেই বাড়তি। তবে রোজায় চাহিদা বেশি হওয়ায় আজ একটু বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে। আড়ৎ থেকে বাড়তি দামেই তাদের লেবু কিনতে হচ্ছে।
শরিফুল ইসলাম নামে এক লেবু বিক্রেতা বলেন, অন্যান্য বছরে এই সময়ে বাজারে পর্যাপ্ত পরিমাণ লেবুর সরবরাহ থাকে। তবে এ বছর অপেক্ষাকৃত বৃষ্টি কম হওয়ায় লেবুর ফলন কম হয়েছে। যে কারণে দাম একটু বেশি। সামনে বাজারে সরবরাহ বাড়লে দাম কমবে বলে তিনি দাবি করেন।
বাড়তি দাম নিয়ে ক্রেতারাও হতাশা প্রকাশ করেন। সাঈদুর রহমান নামে এক ব্যাংক কর্মকর্তা বলেন, রোজার মাসে আমার লেবু ছাড়া চলে না। মাত্র কয়েকদিন আগেও এসব লেবু ১০ থেকে ১৫ টাকা পিস বিক্রি হয়েছে। কিন্তু দুর্ভাগ্য, রোজাকে কেন্দ্র করে দাম বাড়ানো হয়েছে। তিনি বলেন, শুধু লেবু নয়, বাজারে প্রতিটি পণ্যের দাম আকাশছোঁয়া। এ অবস্থায় মানুষ কী খেয়ে রোজা রাখবে?
লেবুর পাশাপাশি সবজির বাজারেও উত্তাপ দেখা গেছে গতকাল। বাজার ঘুরে দেখা যায়, প্রতিকেজি বেগুন বিক্রি হচ্ছে ৬০ টাকা, লাউ প্রতিপিস ৫০ থেকে ৬০ টাকা, সজিনা ১২০ টাকা, কলা ৩০ টাকা, পেঁপে ২৫ টাকা, ঝিঙে ৮০ টাকা কেজি, উচ্ছে ৮০ টাকা, বরবটি ৮০ টাকা কেজি, শিম ৬০ টাকা কেজি, ঢেড়স ৮০ টাকা কেজি, কুশি ৮০ টাকা কেজি ও টমেটো ৪০ টাকা কেজি। এক সবজি বিক্রেতা বলেন, পরিবহণসহ আনুষাঙ্গিক খরচ বেড়ে যাওয়ায় এর বড় প্রভাব পড়েছে সবজির বাজারে। যে কারণে প্রতিটি সবজির দাম বেশি। এছাড়া প্রতি কেজি আদার দাম ১২০, রসুন ১৪০ ও পেঁয়াজ ৪০ টাকা।
শাহাজাহান আলী নামে এক ক্রেতা বলেন, মাছ, মাংস, ডিমের দোকানেতো যাওয়ার কোনো উপায় নেই। এখন শাক-সবজি কিনে কোনো রকম সংসারের চাহিদা মেটাবো তাও সম্ভব হচ্ছে না। সবজি কিনতে গেলেই আর অন্য বাজার করা যাচ্ছে না। তিনি বলেন, এমনিতে বাজারের দুর্মূল্য, তারপর রোজা। রোজাকে পুঁজি করেই ব্যবসায়ীরা ইচ্ছামতো পণ্যের দাম বাড়িয়ে দিচ্ছে।
আনোয়ার হোসেন নামে এক সবজি বিক্রেতা বলেন, সবজির দাম গত কয়েকদিন ধরেই একই রকম। তবে রোজা উপলক্ষে দাম বাড়ানো হয়েছে বলে ক্রেতারা যে অভিযোগ করছেন তা শতভাগ সত্যি না। রমজান মাসে এমনিতে জিনিসপত্রের দাম বাড়ে। সেই তুলনায় সবজির দাম আগের মতই আছে।

Lab Scan