এক আকুতি!

0

শিপলু জামান,কালীগঞ্জ (ঝিনাইদহ) ॥ কালীগঞ্জ-যশোর মহাসড়কের লাউদিয়া নামক স্থানে রাস্তার পাশে একটি মেহগনি গাছে কাঠের ফ্রেমে একটি ব্যানার টানানো রয়েছে। সেখানে লাল আর সাদা রং দিয়ে বড় বড় অক্ষরে লেখা, ‘দয়া করে গাড়ি ধীরে চালান, এই জায়গায় আমি আমার মাকে হারিয়েছি। (আসিফ আহমেদ পাপ্পু)।’ দুর্ঘটনায় মাকে হারিয়ে ছেলে আসিফ আহমেদ পাপ্পু ব্যানারটি গাছে ঝুলিয়ে দিয়েছেন কোনো এক সময়। ওই সড়ক দিয়ে যাওয়ার সময় গাছে টানানো ব্যানারটি সবার দৃষ্টি আকর্ষণ করছে।
২০১৯ সালের ১৯ অক্টোবর বেলা ১১টার দিকে একটি থ্রি-হুইলার (মাহেন্দ্র) যাত্রী নিয়ে কালীগঞ্জের দিকে যাচ্ছিল। লাউদিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের কাছে পেছন থেকে আসা বালিবোঝাই একটি ট্রাক থ্রি-হুইলারকে ধাক্কা দিয়ে পাশের একটি দোকানে ঢুকে পড়ে। ওই সংঘর্ষে থ্রি-হুইলারের তিন নারী যাত্রী নিহত হন। সে সময় নিহতদের মধ্যে পলি খাতুন নামে একজনের পরিচয় পাওয়া গেলেও অপর দুই নারী অজ্ঞাত পরিচয় থেকে যান। ওই দুর্ঘটনায় আহত হন আরও ৯ যাত্রী। নিহত পলি খাতুন গড়িয়ালা গ্রামের আলাউদ্দিনের স্ত্রী। ঘটনাস্থলেই পলি খাতুনসহ তিন যাত্রী মারা যান। জানা যায়, নিহত পলি খাতুনের বড় ছেলে ঢাকায় থাকেন। ছোট ছেলে নানা বাড়িতে পড়ালেখা করছেন। আর তাদের বাবা কাজের জন্য দেশে বিভিন্ন স্থানে ঘুরে বেড়ান। এ সড়কে চলাচল করা সাকিব নামে এক ব্যক্তি বলেন, ‘ব্যবসার কাজে আমি সপ্তাহে তিন দিন কালীগঞ্জে যাই এ সড়ক দিয়ে। তবে বেশ কিছু দিন ধরে চোখে পড়ছে এ ব্যানারটি। ব্যানারটি দেখে আমারও মন খারাপ হয়েছে। আমিও এখন এ পথ দিয়ে সতর্কভাবে বাইক চালিয়ে যাই।’ ওই এলাকার মেহেদী বলেন, ‘ছেলেটি মা হারিয়েছে। সে বুঝতে পারছে মা হারোনোর কী যন্ত্রণা। তাই তো কোনো একসময় এখানে সে ব্যানারটি ঝুলিয়ে দিয়েছে। পাপ্পুর আশা, আর কাউকে যাতে তার মতো কষ্ট পেতে না হয়। ব্যানারটি দেখে চালক-পথচারীরা সচেতন হবে। এ কারণে হয়তো ছেলেটি এটি লিখে ঝুলিয়ে দিয়েছে।

Lab Scan