একইদিনে পহেলা ফাল্গুন ও ভ্যালেন্টাইন’স ডে, বিপাকে ব্যবসায়ীরা

লোকসমাজ ডেস্ক ॥ বাংলা বর্ষপঞ্জিতে সংশোধনের কারণে এ বছর থেকে বাংলা ফাল্গুন মাসের প্রথম দিন ও ভ্যালেন্টাইন’স ডে বা ভালোবাসা দিবস একইদিনে পড়েছে। এতদিন ফেব্রুয়ারি মাসের ১৩ তারিখে ফাল্গুন মাসের প্রথম দিন পালিত হতো, আর ১৪ই ফেব্রুয়ারি বিশ্বজুড়ে পালন করা হয় ভ্যালেন্টাইন’স ডে বা ভালোবাসা দিবস। তবে গতকাল থেকে দুটি দিবসই বাংলাদেশে একই দিনে পালিত হচ্ছে। এই দুইদিন ঘিরে পৃথক পৃথক আনন্দ উদযাপনের যেমন ব্যাপার থাকে তেমনি থাকে লাভ-লোকসানের হিসেব। বসন্ত উৎসবে সাড়া দিতে ঢাকার বিভিন্ন বিনোদন কেন্দ্রগুলোতে মানুষে মেতে উঠেছে বসন্তের পোশাক, ফুল এবং গানে। আবার গতকাল একই থাকে ভ্যালেন্টাইন’স ডে হওয়াতে পোশাকের ভিন্নতা নজরে পড়েছে । বাংলা বর্ষপঞ্জিতে সংশোধনের কারণে এ বছর থেকে বাংলা ফাল্গুন মাসের প্রথম দিন ও ভ্যালেন্টাইন’স ডে একইদিনে পালিত হচ্ছে।
কেমন লাগছে দুই উৎসব এক দিনে পালন করতে- ঢাকার একজন নারী বলছিলেন, “একদিনে সুবিধা হয় যে আমরা একবারে বের হয়ে দুটো অনুষ্ঠান একবারে দেখে যেতে পারলাম। আমাদের আরো অনেক কাজ থাকে, দুই দিনে হলে একটা মিস করতে হয়”। আরেকজন নারী বলছিলেন ” দুইটা অনুষ্ঠান থাকলে যে খারাপ হয় তা না। কিন্তু ঠিক আছে। নেগেটিভ ভাবে দেখার কিছু নেই।” ঢাকার অন্যতম ফুলের বাজার শাহবাগের একাধিক ফুল বিক্রেতার থাকে কথা বলে জানা যাচ্ছে দুই দিনে অন্তত প্রত্যেক ব্যবসায়ী দেড় লক্ষ টাকার লোকসান দিচ্ছেন।
ফুল ব্যবসায়ী ফালু মিয়া বলছিলেন, “ফাল্গুনের দিন এক লাখ আর ভালোবাসা দিবসে দেড় লাখ , মোট আড়াই লাখ টাকার ফুল বেচি আমরা এখানকার সব ফুল ব্যবসায়ী। এখন দেড় লাখ টাকা নাই। ফুল চাষির কাছে যে টাকা দিয়েছি সেখানেও জমা দিতে হবে”। ফ্যাশন হাউস দেশাল বলছে, এবারে একই দিন পড়াতে তাদের লোকসানের মধ্যে পড়তে হয়েছে। ফানুস নামের একটা ফ্যাশন হাউজের রুবেল হাসান বলছিলেন ফাল্গুন এবং ভ্যালেন্টাইন’স ডে উপলক্ষে তারা ভিন্ন ভিন্ন ডিজাইন নিয়ে এসেছিলেন। কিন্তু একদিনে হওয়াতে ক্রেতারা বিভ্রান্ত – তারা কী ধরণের পোশাক পরবেন। যার খেসারত দিতে হচ্ছে পোশাক ব্যবসায়ীদের। ব্যবসায়ীদের লাভ-লোকসান যেটাই যোক না কেন উদযাপনকারীদের কাছে যে খুব একটা তফাত হচ্ছে সেটা তারা মনে করছেন না।
সূত্র : বিবিসি বাংলা।

ভাগ