উপানুষ্ঠানিক শিক্ষা ব্যুরোর নিয়োগ: ২ বছরেও হয়নি মৌখিক পরীক্ষার ফল

0

লোকসমাজ ডেস্ক॥ ঝরে পড়া শিক্ষার্থীদের নিয়ে কাজ করতে আউট অব স্কুল চিলড্রেন প্রোগ্রামের জন্য উপজেলা প্রোগ্রাম কো-অর্ডিনেটর পদের মৌখিক পরীক্ষার ফল আটকে আছে প্রায় দুই বছর ধরে। দ্রুত এটি কার্যকর করতে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ে চিঠি দিয়েছেন নিয়োগপ্রত্যাশীরা। সম্প্রতি পাঠানো মন্ত্রণালয়ের সচিব বরাবর লেখা চিঠিতে প্রার্থীরা উল্লেখ করেছেন, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অধীনে উপানুষ্ঠানিক শিক্ষা ব্যুরোর কর্মসূচি বাস্তবায়নে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের তত্ত্বাবধানে উপজেলা বা আরবান প্রোগ্রাম কো-অর্ডিনেটর পদে গত ২০১৯ সালের ২৮ অক্টোবর ৩০০ খালি পদের নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশিত হয়। এতে যথাযথ শর্তপূরণ করে ২২ হাজার ৮৬৩ জন চাকরিপ্রার্থী বেকারত্ব দূরীকরণের জন্য আবেদন সম্পন্ন করেন।
২০২০ সালের ৩ জানুয়ারি এর লিখিত পরীক্ষা হয়। এতে আট হাজারের বেশি পরীক্ষার্থী লিখিত পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন। ১৩ জানুয়ারি মৌখিক পরীক্ষায় সময়সূচি নির্ধারণ করা হয়। ২৫ জানুয়ারি পর্যন্ত মৌখিক পরীক্ষা নেওয়া হয়। এরপর প্রায় দুই বছর ধরে প্রার্থীরা ফলাফলের অপেক্ষায় দিন গুনছেন। প্রার্থীরা বলছেন, আমরা বেকার জীবনের অভিশাপ থেকে রেহাই পেয়ে নিজেদের পরিবারের বোঝা থেকে মুক্ত হতে চাই। দেশ ও জাতির সেবা করবো ও ঝরে পড়া শিক্ষার্থীদের জন্য কাজ করতে চাই। কিন্তু গত ৩০ নভেম্বর উপানুষ্ঠানিক শিক্ষা ব্যুরো একটি প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে উপজেলা বা আরবান প্রোগ্রাম কো-অর্ডিনেটর পদের মৌখিক পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশ ছাড়াই আগামী ১৫ ডিসেম্বর থেকে আউট অব স্কুল চিলড্রেন, পিইডিপি-৪, সাব কম্পোনেন্ট ২.৫ প্রোগ্রামটি চালুর ঘোষণা দেয়। যা খুবই দুঃখজনক সিদ্ধান্ত। এ ঘোষণাটি আমাদের সবাইকে অত্যন্ত মর্মাহত করেছে। প্রার্থীরা চিঠিতে উল্লেখ করেছেন, সংবিধানের ২৯ নং অনুচ্ছেদে প্রদত্ত নাগরিকের মৌলিক অধিকার হিসেবে যোগ্যতানুসারে চাকরি পাওয়ার অধিকার, সংবিধানের ২৭ নং অনুচ্ছেদ অনুসারে আইনের দৃষ্টিতে সমতা বিধানকে সুস্পষ্টভাবে লঙ্ঘন করা হয়েছে। এছাড়া আইনের মৌলিক নীতি হিসেবে বৈধ প্রত্যাশা নীতিরও লঙ্ঘন হয়েছে। সংবিধানে প্রদত্ত মৌলিক অধিকার হিসেবে চাকরি পাওয়ার পথ সুগম করতে দ্রুত সময়ের মধ্যে মৌখিক পরীক্ষায় ফল প্রকাশ ও সেই ফল অনুসারে নিয়োগ দেওয়ার দাবি জানান প্রার্থীরা। জনবল নিয়োগ ছাড়া প্রকল্পের কাজ শুরু করা হলে তাতে সুফল আসবে না বলেও মনে করেন ভুক্তভোগীরা।

Lab Scan