উত্তাল বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় : ভিসির পদত্যাগের দাবিতে অনড় শিক্ষার্থীরা

শিক্ষার্থীদের ‘রাজাকারের বাচ্চা’ বলে কটুক্তি করার অভিযোগে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের (ববি) ভিসি প্রফেসর ড. এসএম ইমামুল হক দুঃখ প্রকাশ করেও উদ্ভূত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পারেননি। রোববার ষষ্টদিনের মতো ভিসি’র পদত্যাগের দাবিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা মুখে কালো কাপড় বেঁধে বিক্ষোভ মিছিল করেছে। এদিন ভিসির পদত্যাগের দাবি সংবলিত বিভিন্ন প্লাকার্ড নিয়ে শিক্ষার্থীরা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস থেকে বিক্ষোভ মিছিল বের করে বরিশাল-পটুয়াখালী মহাসড়কের বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনের অংশ প্রদক্ষিণ করে ক্যাম্পাসে অবস্থান নিয়ে শান্তিপূর্ণভাবে বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করে। ভিসি’র পদত্যাগের দাবিতে ‘প্রতিবাদী সাংস্কৃতিক’ কার্যক্রমের মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা নতুন করে আন্দোলন কর্মসূচি চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দেয়। কর্মসূচির অংশ হিসেবে প্রতিবাদী সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে রণসঙ্গীত, ব্যঙ্গ নাটিকা, কবিতা ও প্রতিবাদী গান উপস্থাপন করা হয়। এর আগে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা ক্যাম্পাসের কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ প্রদর্শন করে ভিসি কর্তৃক দুঃখ প্রকাশের কাগজের বিজ্ঞপ্তি আগুন দিয়ে পুড়িয়ে ফেলে।
আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা জানায়, শুধু দুঃখ প্রকাশ করলে চলবে না। আনুষ্ঠানিকভাবে ক্ষমা চাওয়া এবং বক্তব্য প্রত্যাহার না করা পর্যন্ত তাদের আন্দোলন অব্যাহত থাকবে। ক্ষমা না চাইলে ভিসিকে পদত্যাগ করতে বাধ্য করা হবে বলেও তারা হুমকি দেয়। এদিকে ঢাবি’র নবাগত নির্বাচিত ভিপি এবং বাংলাদেশ সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদের নেতৃবৃন্দরা বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের চলমান আন্দোলনে একাত্মতা প্রকাশ করায় তাদের প্রতি ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেছেন ববি’র আন্দোলনকারীরা। পাশাপাশি সব বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এ স্বৈরাচার ভিসির পদত্যাগের দাবিতে বিবৃতি দিয়ে ন্যায়ের পক্ষে থাকার আহবান করেছেন বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা। আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা আরও জানায়, সোমবার সকালে তারা তাদের দাবি সংবলিত একটি স্মারকলিপি বিভাগীয় কমিশনার বরাবরে পেশ করে সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে পরবর্তী আন্দোলন কর্মসূচী ঘোষণা করবে।
উল্লেখ্য, বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের বাদ দিয়ে স্বাধীনতা দিবস উদযাপনের প্রতিবাদ করায় ভিসি ড. এসএম ইমামুল হক শিক্ষার্থীদের ‘রাজাকারের বাচ্চা’ বলে গালি দেন। এর প্রতিবাদে গত ২৬ মার্চ থেকে শিক্ষার্থীরা লাগাতার আন্দোলন কর্মসূচি পালন শুরু করেন। এরই মধ্যে ২৮ মার্চ থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসন সকল কার্যক্রম বন্ধ ঘোষণা করে শিক্ষার্থীদের হল ত্যাগের নির্দেশ দিলেও আন্দোলনকারীরা তা প্রত্যাখ্যান করে। ঘটনার ধারবাহিকতায় শুক্রবার রাতে দুঃখ প্রকাশ করে ভিসি ড. এসএম ইমানুল হকের পক্ষে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়। তবে দুঃখ প্রকাশ করে ভিসির দেওয়া বক্তব্য ও আহবান প্রত্যাখ্যান করেছেন আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা। ভিসি তার বক্তব্যের মাধ্যমে মিথ্যাচার করেছেন বলেও আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা অভিযোগ করেন।

ভাগ