উচ্চ আদালতের আদেশ মানছেনা প্রভাবশালীরা : ভৈরব নদের যশোর সদরের কৈখালির বিস্তীর্ণ অংশ ফের দখলে

0

স্টাফ রিপোর্টার ॥ ফের দখল হয়ে গেছে যশোরের ভৈরব নদের কৈখালি অংশের বিস্তীর্ণ এলাকা। উচ্চ আদালতের রায় অমাণ্য করে এলাকার একটি প্রভাবশালী মহল ইতিমধ্যে ভৈরব নদের কৈখালিস্থ উত্তর এবং পূর্ব অংশের ১২ একর এলাকা মাটি দিয়ে বাধ দিয়ে পাটা স্থাপন করে মাছ চাষ করছে। এতে এলাকার সচেতন মহল জেলা প্রশাসনের কাছে কয়েক দফা আবেদন করেও কোনো প্রতিকার পাচ্ছে না বলে অভিযোগ করেছেন। ভৈরবের যশোর সদরের কৈখালিস্থ এলাকার বিস্তীর্ণ এলাকা নিয়ে বিতর্ক নয়। নদের গুরুত্বপূর্ন এ অংশে অবৈধ দখলদারদের দৌরাত্ম চলে আসছে কয়েক যুগ ধরে। দখল নিয়ে এলাকার সচেতন একটি মহল দীর্ঘদিন ধরে সোচ্চার। কিন্তু প্রভাবশালীরা কোনো কিছুই তোয়াক্কা না করে নদের এ অংশ দখল করে পাটা স্থাপন করে মাছ চাষ করে আসছেন। এর আগে প্রভাবশালীরা নদের বিশাল অংশ লিজ নিয়ে মাছ ও ধান চাষ করে ভোগদখল করে আসছিলেন। এ অবস্থায় দখদালদের হাত থেকে নদটিকে বাঁচাতে এলাকাবাসি আদালতের আশ্রয় নেয়। ২০১২ সালের মার্চ মাসে যশোর সদর উপজেলার কৈখালি গ্রামের ১০ ব্যক্তি কৈখালি থেকে জামালপুর পর্যন্ত ভৈরব নদের আট কিলোমিটার এলাকার ইজারা বাতিলের জন্য উচ্চ আদালতে রিট আবেদন করেন। আদালত ২০১৬ সালের ১৫ জুন নদের ওই অংশের ইজারা বাতিল করে রায় দেন। হাইকোর্টের পিটিশন নং ৩০৫৫/২০১২ মোতাবেক ওই আদেশে লিজ বাতিলপূর্বক প্রাকৃতিক জলাধার সংরক্ষণ আইন মোতাবেক অবমুক্ত করার আদেশ প্রদান করে এ বিষয়ে জেলা প্রশাসনকে নির্দেশ দেয়া হয়। অথচ এ রায়ের পূর্নাঙ্গ বাস্তবায়ন আজও করতে পারেনি সংশ্লিষ্ট প্রশাসন।
কৈখালি গ্রামের বাসিন্দা আতিয়ার রহমান বলেন, ভৈরবের কৈখালি অংশে যারা এখন দখল করে আছেন তারা সকলেই অবৈধ কর্মকান্ড করছে। কারণ এ বিষয়ে উচ্চ আদালতের স্পষ্ট আদেশ রয়েছে। সরকার এর আগে যে লিজ দিয়েছিলো তা বাতিল করেছে আদালত। এরপরও এলাকার সেই প্রভাবশালীরা নদের কৈখালি অংশের উত্তর ও পূর্ব অংশে মাটি দিয়ে পাটা স্থাপন করে ভোখদখল করে আসছে। তিনি বলেন, এ বিষয়ে আমরা জেলা প্রশাসনের কাছে গত ২০২১ সালের ৩১ আগস্ট স্মারকলিপি দেয়ার পরও কোনো প্রতিকার পাওয়া যায়নি। একই এলাকার হাসান মোল্যা বলেন, অবৈধ দখলদারদের কারণে ভৈরব নদের নব্যতা চরমভাবে বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। এর বড় প্রভাব পড়ছে আশপাশের বসবাসকারীদের জীবন-যাপনের ওপর। অথচ অন্যায়ভাবে উচ্চ আদালতের রায়কে তারা উপেক্ষ করছে। কেউ প্রতিবাদ করতে সাহস তাদের এসব কর্মকান্ডের। তিনি বলেন, ০গত বছরের ৩১ জুন আমরা জেলা প্রশাসকের কাছে এর প্রতিকার চেয়ে আবেদন করেছিলাম। দীর্ঘ এ সময়ে প্রশাসনের কোনো পদক্ষেপ না নেওয়ায় বাধ্য হয়ে গত ৩১ জানুয়ারি ২০২২ জেলা প্রশাসকের কাছে আবার আবেদন করেছি। কিন্তু এখনও কোনো ব্যবস্থা নেয়া হয়নি। এ অবস্থায় দখলদাররা ফের মারমুখি হয়ে উঠছে সাধারন মানুষের ওপর। এ বিষয়ে ভৈরব নদ আন্দোলনের উপদেষ্টা ইকবাল কবির জাহিদ বলেন, ভৈরব নদের কৈখালির বিস্তীর্ণ উন্মুক্ত এ অংশ দিয়ে যশোর শহরসহ এ অঞ্চলের যত পানি তা প্রবাহিত হয়। এজন্য এ অংশের দখলদারমুক্ত রাখার দাবি আমাদের দীর্ঘদিনের। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট এলাকার ভূক্তভোগীদের আবেদনের প্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট একটি আদেশ দিয়েছেন। আমাদের দাবি ওই আদেশের অনুযায়ী ওই অঞ্চলকে দখলমুক্ত করে খনন করা হোক। এ ক্ষেত্রে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেন তিনি।

Lab Scan