ঈদ হোক আনন্দের

‘রমজানের ওই রোজার শেষে এলো খুশির ঈদ’। জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের কবিতার মতো মৃণ্ময়ী রূপে মাহে রমজান শেষে পবিত্র ঈদুল ফিতর হাজির হয়েছে আমাদের মাঝে। ধর্মীয় বিশ্বাস অনুসারে রমজান হলো সিয়াম সাধকদের জন্য আল্লাহর পুরস্কার। যারা আলাহর কাছ থেকে এই মহিমান্বিত পুরস্কার অর্জন করেছেন, মাহে রমজানের শিায় নিজেদের আলোকিত করেছেন ঈদুল ফিতরের আনন্দ তাদের জন্যই। শাব্দিক মূল্যায়নে ঈদের উৎপত্তি আরবি আওদুন থেকে যার অর্থ ‘বার বার ফিরে আসে এমন আনন্দ’। আর ফিতর শব্দটির উৎপত্তি আরবি ‘ফুতুর’ থেকে। যার অর্থ সকাল বেলার নাস্তা বা মূল্যবান পুরস্কার। মাহে রমজানে আল্লাহর যেসব বান্দা সিয়াম সাধনা করেছে শাওয়াল মাসের প্রথম তারিখের সকালে তাদের রোজা ভঙ্গ করা এবং ঈদের জামাতে হাজির হওয়াই হলো ইসলামী পরিভাষায় ঈদুল ফিতর। ঈদুল ফিতরের সকালে বিশ্বাসী মানুষ ছুটে যান ঈদগাহে। ঈদের নামাজ শেষে তারা একে-অপরের সঙ্গে ঐশী আনন্দে কোলাকুলি করেন। মুমিনদের মধ্যে আত্মিক সম্পর্ক সৃষ্টি করে ঈদগাহের এই মিলনমেলা। মানুষ আনন্দঘন পরিবেশ ও পরিচ্ছন্ন মনমানসিকতা দিয়ে একে-অপরের সঙ্গে সৌহার্দ্যপূর্ণ পবিত্র জীবনযাপন করবে আল্লাহ তেমনটিই চান। ঈদুল ফিতর ভ্রাতৃত্বের মেলবন্ধন সৃষ্টিতে বরাবরই অবদান রাখছে। সে বিবেচনায় এটি এক সার্বজনীন উৎসব। এই উৎসবে সমাজের ধনী-গরিব নির্বিশেষে সব বিশ্বাসী মানুষ যাতে অংশ নিতে পারে সে জন্য রয়েছে আলাহর সুস্পষ্ট বিধান। এ জন্যই ফিতরা আদায় বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। মাহে রমজানের মাসব্যাপী সিয়াম সাধনা মানুষকে যেমন ত্যাগের শিা দেয়, ঠিক তেমনি ঈদ উৎসবকে ধনী-নির্ধন নির্বিশেষে আত্মীয়-স্বজন প্রতিবেশীদের মধ্যে ভাগাভাগির তাগিদ দেয়। এ বছর ঈদুল ফিতর এমন এক সময় এসেছে যে, যখন আমাদের মাঝে নেই এই পত্রিকার জনক যশোর উন্নয়নের কারিগর আমাদের অভিভাবক সাবেক মন্ত্রী তরিকুল ইসলাম। পত্রিকার ২৩ বছরে আমরা কখনো তাঁর আর্শিবাদ ছাড়া ঈদ করিনি। গতবার অসুস্থতার কারণে তিনি না থাকলেও আমরা অভিভাবকহীন ছিলাম না। কিন্তু এবার অনেকটা শূন্যতা নিয়েই হচ্ছে আমাদের ঈদ।
অপরদিকে, এখন দেশে এখন বিরাজ করছে কার্যত বাক স্বাধীনতা ও গণতন্ত্রহীন পরিবেশ। লোকসমাজ-এর প্রধান পৃষ্ঠপোষক তিনবারের সফল প্রধানমন্ত্রী বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়া আছেন কারাবন্দি। গুরুতর অসুস্থ বেগম জিয়ার ঈদের আগেই মুক্তির দাবিতে দেশ -বিদেশের মানুষ সোচ্চার হলেও সরকার নির্বাক। এ নিয়ে দেশের বেশিরভাগ মানুষই আছে অশান্তিতে। সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমে মুক্তির দাবিই তার প্রমাণ। এছাড়াও মানুষের জীবন দুর্বিষহ করে তুলছে দুর্নীতি, সন্ত্রাস, খুন, গুম। বাজারে ধানের ন্যায্য মূল্যের অভাব কৃষকের ঈদ আনন্দ ম্লান করেছে। মামলা হামলা গণগ্রেফতার আতঙ্ক চলছে ঘরে ঘরে। প্রশাসনিক অপতৎপরতায় নিজ বাড়িতে ঈদ করতে পারছেন না অসংখ্য মানুষ। তাদের পরিবার বিরাজ করছে মানষিক যন্ত্রণা। এমন একটি অসহনীয় আতঙ্কময় পরিস্থিতির মাঝে ঈদের আনন্দই আসলে কতটা আনন্দময় হতে পারে তা সহজেই অনুমেয়। অথচ আমরা চাই- ঈদ উৎসবকে সবার মাঝে সারা বছরের জন্য ছড়িয়ে দিতে। এ জন্য আমরা চাই অন্যায়-অবিচার, দুর্নীতিসহ দেশ, জাতি ও সমাজের জন্য তিকর সব অপশক্তির বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়িয়ে বাঁচার অধিকার আদায়ের আন্দোলন সোচ্চার ও সফল হোক। আল্লাহ আমাদের সবাইকে ঈদুল ফিতর উদ্যাপনের তৌফিক দান করুন। আমরা লোকসমাজ পরিবারের পক্ষ থেকে আমরা এই দিনে পত্রিকার প্রতিষ্ঠাতা প্রয়াত জননেতা তরিকুল ইসলামের আত্মার মাগফেরাত কামনায় সবার কাছে দোয়া চাই। সবশেষে সকলকে জানাই ঈদ মোবারক।

ভাগ