আহরণে নিষেধাজ্ঞা-প্রাকৃতিক দুর্যোগ ভরা মৌসুমেও দেখা নেই ইলিশের

শেখ আব্দুল্লাহ হুসাইন ॥ একের পর এক নিষেধাজ্ঞার বেড়াজালে বছরের ৩২৭ দিনই নদ-নদী ও সাগরে ইলিশ মাছ আহরণ বন্ধ থাকছে। সর্বশেষ সাগরে মাছ ধরার ৬৫ দিনের নিষেধাজ্ঞা জারি গত ২৩ জুলাই শেষ হয়। কিন্তু এর পরই শুরু হয় প্রাকৃতিক দুর্যোগ। সাগর উত্তাল হওয়ায় জেলেরা কূলে ফিরে আসতে বাধ্য হন। ফলে ভোজনরসিক বাঙালির কপালে ভরা মৌসুমেও জোটেনি ইলিশ। অল্প পরিমাণে নদীর ইলিশ যা বাজারে আসছে তা কেনার সামর্থ নেই সাধারণ মানুষের। তবে গতকাল শুক্রবার থেকে সাগরে ৩ নং সংকেত উঠিয়ে নেয়ায় আবারও জেলেরা মাছ আহরণে সমুদ্রে রওনা হয়েছেন বলে সংশ্লিষ্টরা বলছেন।
সরকার ২০ মে থেকে ২৩ জুলাই ৬৫ দিন দেশের সামৃদ্রিক মৎস্য সম্পদ বৃদ্ধি করার ল্েয বঙ্গোপসাগরে মাছ আহরণে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে। তবে এ সময় নদ-নদীতে ইলিশ শিকার করা যাবে। ১২ অক্টোবর থেকে ২ নভেম্বর পর্যন্ত ২২ দিন দেশের সব নদ-নদীতে ইলিশ মাছ ধরার ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি আছে। এ সময় সাগর থেকে ঝাঁকে ঝাঁকে মা ইলিশ মিষ্টি পানির নদ-নদীতে এসে ডিম পাড়ে। ২ নভেম্বর থেকে ৩০ জুন পর্যন্ত টানা ২৪০ দিন বা আট মাস জাটকা (৯ ইঞ্চির ছোট ইলিশ) ধরা নিষিদ্ধ। এই আট মাস বড় ইলিশ আহরণে নিষেধাজ্ঞা নেই।
জ্যৈষ্ঠ, আষাঢ়, শ্রাবণ ও ভাদ্র এই চার মাস ইলিশের ভরা মৌসুম। এমনিতেই এই সময়টা সাগর অশান্ত থাকায় জেলেরা ঠিকমত সমুদ্রে যেতে পারে না। তার ওপর নতুন করে সাগরে ৬৫ দিনের মাছ ধরা নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে। গত ২৩ জুলাই রাত ১২ টার পর এই নিষেধাজ্ঞা উঠে যাবার পর জেলেরা ফিশিং ট্রলার নিয়ে সাগরে নেমেছিল। দুদিন না যেতেই সাগর হয়ে উঠলো উত্তাল। আবহাওয়া অধিদপ্তরের ৩ নং সতর্ক সংকেত দেয়ার পর জেলেরা ট্রলার নিয়ে কূলে ফিরে আসতে বাধ্য হয়। সেই সংকেত উঠিয়ে নিতে বলা হয় গতকাল শুক্রবার। আবহাওয়া অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, গতকাল থেকে সাগরে ৩ নং সংকেত উঠিয়ে নেয়া হয়েছে। এ ঘোষণার সাথে সাথে আবারও জেলেরা তাদের বোট নিয়ে সমুদ্রযাত্রা শুরু করেছেন। স্থানীয় ব্যবসায়ীরা আশা করছেন কুরবানি ঈদের আগের দিন থেকে যশোরের বাজারে সাগরের ইলিশের আমদানি বাড়বে। এতে করে ইলিশ মাছ সাধারণ মানুষের ক্রয় মতার মধ্যে চলে আসবে বলে জানিয়েছেন মৎস্য আড়তদাররা। গতকাল যশোর বড়বাজার মাছ বাজারে এক কেজি ৩০০/৪০০ গ্রাম ওজনের নদীর ইলিশের কেজি বিক্রি হয়েছে ২১০০/২২০০ টাকায়। আর ৯০০ গ্রাম ওজনের ইলিশের কেজি বিক্রি হয়েছে ১৪০০/১৫০০ টাকায়। আড়তদার পিয়ার মুহাম্মদ পিয়ারু এ প্রতিবেদককে জানান, সাগরে ৩ নং সতর্ক সংকেত জারি থাকায় জেলেরা মাছ ধরতে পারেননি। কিন্ত গতকাল থেকে সতর্ক সংকেত উঠিয়ে নেয়ায় জেলেরা সমুদ্র অভিমুখে রওনা দিয়েছেন। তিনি আশা করছেন আগামী দুদিনের মধ্যে বা কুরবানি ঈদের আগেই যশোর বাজারে ইলিশের প্রচুর আমদানি ঘটবে।

ভাগ