আর্জেন্টিনায় রেকর্ড গম উৎপাদনের সম্ভাবনা

চলতি বছর ইউরোপ, অস্ট্রেলিয়াসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে তীব্র খরা দেখা দিয়েছে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রে বন্যায় কৃষি উৎপাদন ব্যাহত হয়েছে। এ পরিস্থিতিতে বিশ্বের বিভিন্ন কৃষি সংস্থা একের পর এক কৃষিপণ্য উৎপাদনের প্রাক্কলন কমিয়ে আনছে। এর মধ্যেও লাতিন আমেরিকার দেশ আর্জেন্টিনায় গম উৎপাদনে চাঙ্গা ভাব বজায় থাকবে বলে জানিয়েছে দেশটির সরকারি কৃষি সংস্থা। চলতি বছর বাড়তি উৎপাদনের পাশাপাশি আর্জেন্টিনা থেকে আন্তর্জাতিক বাজারে কৃষিপণ্যটি রফতানিতেও রেকর্ডের সম্ভাবনা রয়েছে। খবর ওয়ার্ল্ডগ্রেইনডটকম ও ফিন্যান্সিয়াল এক্সপ্রেস।
গম উৎপাদনকারী দেশগুলোর শীর্ষ তালিকায় আর্জেন্টিনার অবস্থান বিশ্বে নবম। অভ্যন্তরীণ চাহিদা পূরণের পর প্রতি বছর দেশটি থেকে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ গম আন্তর্জাতিক বাজারে রফতানি হয়। কৃষিপণ্যটির রফতানিকারকদের বৈশ্বিক তালিকায় দেশটির অবস্থান ষষ্ঠ। দেশে দেশে খরার কারণে কৃষিপণ্যের উৎপাদন কমলেও প্রতিকূল আবহাওয়া পাশ কাটিয়ে গত বছর আর্জেন্টিনায় রেকর্ড পরিমাণ গম উৎপাদন হয়েছিল। খাতসংশ্লিষ্টরা বলছেন, এ ধারাবাহিকতা বজায় থাকবে চলতি বছরেও। দেশটির গ্রেইন এক্সচেঞ্জের প্রাক্কলন অনুযায়ী, চলতি বছরে আর্জেন্টিনা সব মিলিয়ে ২ কোটি ১০ লাখ থেকে ২ কোটি ২০ লাখ টন গম উৎপাদন করতে পারে। আগের বছর দেশটি মোট ১ কোটি ৯০ লাখ টন গম উৎপাদন করেছিল, যা ছিল রেকর্ড সর্বোচ্চ। অর্থাত্ চলতি বছর আগের বছরের তুলনায় ২০-৩০ লাখ টন বেশি গম উৎপাদন করে নতুন রেকর্ড গড়তে যাচ্ছে দেশটি।
গ্লোবাল এগ্রিট্রেন্ড কনসালট্যান্সির প্রধান গুসতাভো লোপেজ বলেন, গত বছরের ন্যায় এবারো আর্জেন্টিনায় গমের বাম্পার ফলন হতে পারে। বছরের শুরুতে প্রতিকূল আবহাওয়ার জেরে যুক্তরাষ্ট্রে আগাম আবাদ করা কৃষিপণ্যটির চাষাবাদ বাধাগ্রস্ত হয়েছে। এছাড়া মাত্রাতিরিক্ত দাবদাহের কারণে ইউরোপীয় ইউনিয়নভুক্ত দেশগুলোয় গমের ফলন কম হতে পারে। এ সুবাদে আর্জেন্টিনা থেকে বিশ্ববাজারে কৃষিপণ্যটির রফতানি বাড়বে। দেশটি থেকে রফতানিকৃত গমের গন্তব্যস্থল হতে পারে উত্তর আফ্রিকা, দক্ষিণ এশিয়া, ব্রাজিলসহ লাতিন আমেরিকার অন্য দেশগুলো।
বিশ্বব্যাপী গমের সম্মিলিত উৎপাদন ক্রমেই কমছে। চাহিদা অনুপাতে সরবরাহ সংকটের আশঙ্কায় আন্তর্জাতিক বাজারে কৃষিপণ্যটির বাজারে বেশ চাঙ্গা ভাব বজায় রয়েছে। চলতি বছরের মে-জুনে যুক্তরাষ্ট্রের শিকাগো বোর্ড অব ট্রেডে কৃষিপণ্যটির দাম আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ২৩ শতাংশ বেড়ে গেছে। জুলাইয়ে দাম কিছুটা স্থিতিশীল অবস্থানে আসে। এ অবস্থা বিদ্যমান থাকলে গম রফতানি বাবদ আর্জেন্টিনা আগের যেকোনো বছরকে ছাড়িয়ে যেতে পারে।
ইউএস ডিপার্টমেন্ট অব এগ্রিকালচারের (ইউএসডিএ) তথ্য অনুযায়ী, চলতি অর্থবছরে আর্জেন্টিনা গম রফতানিতে অস্ট্রেলিয়াকে ছাড়িয়ে যেতে পারে। এবার আন্তর্জাতিক গমের বাজারে আর্জেন্টিনার দখল বেড়ে ৭ দশমিক ৭ শতাংশে দাঁড়াতে পারে, যা গত আট বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ। অন্যদিকে বিশ্বের শীর্ষ গম রফতানিকারক দেশ রাশিয়ার বাজার হিস্যা গত তিন বছরের মধ্যে সর্বনিম্নে নেমে আসতে পারে। আর কৃষিপণ্যটির অন্যতম রফতানিকারক দেশ অস্ট্রেলিয়ার বাজার হিস্যা কমে ১২ বছরের মধ্যে দ্বিতীয় সর্বনিম্নে নেমে আসতে পারে।
উল্লেখ্য, চলতি বছরে প্রতিকূল পরিবেশের জেরে বিশ্বের বিভিন্ন সংস্থা বৈশ্বিক গম উৎপাদনের প্রাক্কলন কমিয়ে এনেছে। ইন্টারন্যাশনাল গ্রেইন কাউন্সিল (আইজিসি) সম্প্রতি বৈশ্বিক গম উৎপাদন প্রাক্কলন আগের তুলনায় ৬০ লাখ টন কমিয়ে এনেছে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের কৃষি বিভাগ ইউএসডিএ সর্বশেষ বৃহস্পতিবার রাশিয়া, ইউক্রেন, অস্ট্রেলিয়া ও ইউরোপীয় ইউনিয়নে একই কারণে কৃষিপণ্যটির চাষাবাদ বাধাগ্রস্ত হওয়ায় আবারো উৎপাদন প্রাক্কলন কমিয়ে এনেছে।

ভাগ