আম্পান তাণ্ডবে চুয়াডাঙ্গার আম চাষিদের ৩২ কোটি টাকার ক্ষতি

রিফাত রহমান, চুয়াডাঙ্গা ॥ করোনাভাইরাসের কারণে দেশে কার্যত যে লকডাউন চলছে, তাতে চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়েছেন চুয়াডাঙ্গা জেলার আম বাগানের মালিক ও ব্যবসায়ীরা। ঘূর্ণিঝড় আম্পানের কারণে বাগান মালিকরাও ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। এরপরও সময়মতো সব আম বিক্রি করতে পারবেন কি না তা নিয়েও তারা সংশয়ে আছেন। চুয়াডাঙ্গা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, গত মৌসুমে জেলাতে ১ হাজার ৯৫০ হেক্টর জমিতে আম বাগান ছিলো। চলতি মৌসুমে ১ হাজার ৯৮০ হেক্টর জমিতে আম বাগান আছে। এ হিসেবে চলতি মৌসুমে ৩০ হেক্টর জমিতে আমের নতুন বাগান হয়েছে। এ সব বাগান থেকে ফলন হবে ২৯ হাজার ৭০০ মেট্রিক টন আম। পাইকারী প্রতি মণ ১ হাজার ২০০ টাকা হিসেবে আম বিক্রি হলে মোট হবে ৮৯ কোটি ১০ লাখ টাকা। মূলত আম চাষ লাভজনক হওয়ায় জেলার চাষিরা আম বাগান তৈরি করার দিকে ঝুঁকছেন। তবে সাম্প্রতিক ঝড়ে ১০ হাজার ৫৮৪ মেট্টিক টন আমের ক্ষতি হয়েছে। যার মূল্য ৩১ কোটি ৭৫ লাখ ২০ হাজার টাকা।
চুয়াডাঙ্গার আম বর্গাচাষি জেলা আম ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক আবুল কালাম জানান, ‘চুয়াডাঙ্গার দামুড়হুদা উপজেলার কেশবপুর গ্রামের মাঠে ২০১২ সালে ৪০ লাখ টাকায় ৭০ বিঘা জমি বর্গা নিই। এরপর ১০ হাজার আমের চারা রোপনসহ বাগান তৈরি করতে আরো ৩৫ লাখ টাকা খরচ হয়। এখনো খরচের সিংহভাগই উঠে আসেনি। এবার ফলন ভাল হয়েছে। করোনার কারণে বাজারজাত নিয়ে দুঃচিন্তায় আছি। আমাদের এলাকায় হিমসাগর, ল্যাংড়া, বোম্বাই, আ¤্রপালিসহ অনেক ভাল ভাল জাতের আম হয়। এ সব আম খুবই সুস্বাদু, দেশ বিদেশে এর খ্যাতি আছে। তবে পর পর দুটি ঝড়ে আমের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। এ মৌসুমে আম বিক্রি করে সারা বছরের বাগান পরিচর্যা ও শ্রমিকের মজুরি উঠে আসবে না।’ আম বর্গাচাষি জাহাঙ্গীর হোসেন বলেন, ‘চুয়াডাঙ্গায় উৎপাদিত আম জেলার চাহিদা মিটিয়ে রাজধানী ঢাকা, চট্টগ্রাম, বরিশাল, সিলেটসহ দেশের বিভিন্ন মোকামে পাঠিয়ে থাকি। কিন্তু করোনার কারণে আমাদের এই আমগুলো বাজারজাত করার জন্য কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর ও জেলা প্রশাসকের সার্বিক সহযোগিতা প্রয়োজন।’ বর্গাচাষি রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘গত কয়েকদিন আগে বয়ে যাওয়া আম্পান ও কালবৈশাখী ঝড়ে প্রচুর আম, গাছ থেকে মাটিতে লুটিয়ে পড়েছে। এতে আমরা ব্যাপক ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছি। অবশিষ্ট যে আমগুলো গাছে আছে তার সঠিক বাজারজাতকরণ দরকার। এজন্য আমরা সরকারের কাছে দাবি জানাচ্ছি।’ আমবাগান শ্রমিক ফরজুল খাঁ জানান, আম গাছে মুকুল আসার আগ থেকে ১৮-২০ জন শ্রমিক নিয়মিত কাজ করি। আমরা প্রতিমাসে ৯ থেকে ১৫ হাজার টাকা বেতন পাই। গাছ থেকে আম পাড়ার সময় আরো অতিরিক্ত শ্রমিক নেয়া হয় দিন হাজিরাতে। তাদেরকে ৩৫০ থেকে ৪০০ টাকা করে দেয়া হয়। চুয়াডাঙ্গা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক আলী হাসান বলেন, ‘চুয়াডাঙ্গার হিমসাগর আম বিখ্যাত। আম চাষি ও ব্যবসায়ীরা যাতে সঠিক দামে আম বিক্রি করতে পারেন সে জন্য জেলা প্রশাসনকে সাথে নিয়ে আমরা এক সঙ্গে কাজ করছি। এ জেলা থেকে বিভিন্ন মোকামে আম পাঠাতে বা বিক্রি করতে কোন ধরনের সমস্যা যাতে না হয় সেদিকে সজাগ দৃষ্টি রাখছি। বিভিন্ন মোকাম থেকে যে সকল ব্যবসায়ী চুয়াডাঙ্গায় আম কিনতে আসবেন তাদের নির্বিঘেœ আসা, থাকা, খাওয়া এবং নিয়ে যাওয়া পর্যন্ত সবকিছুর দেখভাল করার জন্য আমরা প্রস্তুত আছি। তবে সম্প্রতি ঝড়ে ক্ষতিগ্রস্থ আমসহ সকল প্রান্তিক চাষিকে কৃষি প্রণোদনার আওতায় নিয়ে আসার জন্য সরকার ইতোমধ্যে কাজ শুরু করেছে। এ জেলার হিমসাগরসহ বিভিন্ন জাতের আমের চাহিদা রয়েছে দেশে বিদেশে।’

ভাগ