আম্পান:যশোরে ফসলের বেশুমার ক্ষতি

আকরামুজ্জামান ॥ সিডর, ফণী, বুলবুল যতটা না ক্ষতি করতে পেরেছে তার চেয়ে যশোরের বেশি ক্ষতি করেছে সুপার সাইকোন আম্পান। প্রলয়ঙ্করী এ ঝড়ের প্রভাবে জেলায় ব্যাপক হতাহতের পাশাপাশি ফসলের অপূরণীয় ক্ষতি হয়েছে। সবজি, আম,লিচু, পানসহ মোট ৩২ হাজার ৫শ ১৬ হেক্টর জমির ফল ও ফসল নষ্ট হয়েছে। প্রাথমিকভাবে কৃষি বিভাগের হিসেবে এ ক্ষতির কথা বলা হলেও প্রকৃত হিসেবে তির পরিমাণ আরও বাড়বে বলে মনে করা হচ্ছে।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর যশোরের উপ-পরিচালক ড. আখতারুজ্জামান শুক্রবার জানিয়েছেন, যশোরে এবার পাট চাষ হয়েছিল ২৩ হাজার ৫ শ ৬৫ হেক্টর জমিতে, এর ১১ হাজার ৭ শ ৮৩ হেক্টর জমির পাটই ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, যা মোট আবাদের ৫০ শতাংশ। শাক-সবজি চাষ হয়েছিল ১৪ হাজার ৬ শ ৮৫ হেক্টর জমিতে, ক্ষতি হয়েছে ১১ হাজার ৭শ ৪৮ হেক্টর জমির, যা মোট আবাদের ৮০ শতাংশ। পেঁপে চাষ হয়েছিল ৭৫০ হেক্টর জমিতে, ক্ষতি হয়েছে ৬০০ হেক্টর জমির, যা মোট আবাদের ৮০ শতাংশ। কলা চাষ হয়েছিল ১ হাজার ৫০০ হেক্টর জমিতে, ক্ষতি হয়েছে ১ হাজার ১২৫ হেক্টর জমির, যা মোট আবাদের ৭৫ শতাংশ। মরিচ আবাদ হয়েছিল ৬৭৫ হেক্টর জমিতে, ক্ষতি হয়েছে ৪০৫ হেক্টর জমির, যা মোট আবাদের ৬০ শতাংশ। মুগডাল চাষ হয়েছিল ১ হাজার ৪৫ হেক্টর জমিতে, ক্ষতি হয়েছে ৭৩২ হেক্টর জমির, যা মোট আবাদের ৭০ শতাংশ। তিল আবাদ হয়েছিল ২ হাজার ৬৩৫ হেক্টর জমিতে, ক্ষতি হয়েছে ২ হাজার ১০৮ হেক্টর জমির, যা মোট আবাদের ৮০ শতাংশ। ভুট্টা আবাদ হয়েছিল ৫৫ হেক্টর জমিতে, ক্ষতি হয়েছে ৪৪ হেক্টর, যা মোট আবাদের ৮০ শতাংশ। আম ছিল ৩ হাজার ৮৯৫ হেক্টর জমিতে, তার মধ্যে ক্ষতি হয়েছে ২ হাজার ৭১৬ হেক্টর জমির, যা মোট আবাদের ৮০ শতাংশ। লিচু ছিল ৭০০ হেক্টর জমিতে, ক্ষতি হয়েছে ৪৮০ হেক্টর জমির, যা মোট আবাদের ৮০ শতাংশ। পান ছিল ১ হাজার ১০০ হেক্টর জমিতে, ক্ষতি হয়েছে ৭৭৫ হেক্টর জমির, যা মোট আবাদের ৭৫ শতাংশ।
যশোরের চুড়ামনকাটি এলাকার সবজি চাষি হজরত আলী জানান, এ বছর তিনি তিন বিঘা জমিতে পটল, চার বিঘা জমিতে করোলা চাষ করেছিলেন। বুধবারের ঝড়ে তার পটল ও করোলা সম্পূর্নটাই নষ্ট হয়ে গেছে। তিনি বলেন. শুধু আমার নয়। আমার এ এলাকার বেশিরভাগ সবজি চাষির ফসল নষ্ট হয়েছে। একই কথা বলেন, সদর উপজেলার নোঙরপুর এলাকার সবজি চাষি রমজান আলী। তিনি বলেন, বুধবারের ঝড়ে আমাদের সবজি ফসল শুধু নষ্ট করেনি। এ্ এলাকার বিস্তীর্ণ বাগানের আম লিচুর ব্যাপক তি হয়েছে। অধিকাংশ গাছের ডাল ভেঙে মাটিতে পড়ে গেছে। উপড়ে গেছে বহু গাছ। কৃষক রমজান আলী বলেন, করোনার কারণে আমরা এমনিতে সবজি বিক্রি করতে পারছিলাম না। গত কয়েকদিন ধরে ঢাকার মোকামে সবজি পাঠাতে শুরু করেছি। ঠিক সেই মুহূর্তে এ ধরনের ধাক্কা আমাদের পথে বসার উপক্রম করে দিয়েছে। এ ব্যাপারে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর যশোরের উপ-পরিচালক ড. মোহাম্মদ আকতারুজ্জামান বলেন, ‘আম্পান এ অঞ্চলের কৃষকের জন্য মরার ওপর খাঁড়ার ঘা হয়ে এসেছে। এমনিতেই করোনার কারণে কৃষকরা সমস্যায় ছিল। তারপর এ তি বড় ধরনের প্রভাব ফেলেছে। তিনি বলেন কৃষি মন্ত্রণালয়ের প থেকে প্রণোদনা দেয়ার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। প্রণোদনায় তিগ্রস্ত এসব কৃষককে অন্তর্ভুক্ত করা হবে। এছাড়া কৃষকরা যাতে তি পুষিয়ে নিতে পারে সেজন্য কারিগরি সহায়তা সহায়তাসহ সার্বিক সহায়তা দেয়া হবে। প্রসঙ্গত যে, ঘূর্ণিঝড় আম্পান যশোরকে লণ্ডভণ্ড করে দিয়েছে। এ জেলার চার উপজেলায় বুধবার রাতে এ ঝড়ে ১২ জনের প্রাণহানি হয়েছে। শুক্রবার পর্যন্ত গ্রামগুলোতে পল্লী বিদ্যুতের সংযোগ চালু হয়নি।

ভাগ