আমদানিতে বিলম্ব কেন ?

পেঁয়াজ নিয়ে এবার নতুন খবর হয়েছে। আকাশ ছোঁয়া মূল্যের পর এবার এসেছে বস্তা বস্তা পঁচা পেঁয়াজ নদী-ভাগাড়ে ফেলার খবর। গতকাল দেশের প্রায় সকল পত্রিকায় এ জাতীয় খবর ছবিসহ প্রকাশ হয়েছে। পেঁয়াজের আকাল ও মূল্য বৃদ্ধির নজিরবিহীন রেকর্ড স্থাপনের পরও গুদামে টন টন পেঁয়াজ পঁচে যাবার খবর সত্যিই বিরল। খবরটি সর্বস্তরের মানুষের মাঝে নানা প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে। খুব স্বাভাবিকভাবেই দাবি উঠেছে তদন্তপূর্বক ব্যবস্থা গ্রহণের। পেঁয়াজের খবর এখানেই শেষ নয়, আরও কয়েকটি খবর ছিল সংবাদ মাধ্যমে। এর মধ্যে প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, ‘পেঁয়াজ বিমানে উঠে গেছে আর চিন্তা নেই’। অর্থমন্ত্রী বলেছেন, পেঁয়াজ-এর আমদানি শুল্ক বাতিল করা হয়েছে। তাই পেঁয়াজ আমদানিতে বাধা থাকার কথা নয়। এছাড়াও একটি উদ্বেগজনক খবর ছিল ‘লাভের আশায় অপরিপক্ক পেঁয়াজ তুলছেন কৃষক’। অপরদিকে, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে অঞ্চল ভিত্তিক অনেক খবর রয়েছে। আমরা মনে করি, সবগুলো সংবাদ আলোচনার যোগ্য। এর মধ্যে প্রধান সংবাদটি ব্যাপক তদন্ত প্রয়োজন।
আমরা অন্য সবার মতোই অবাক বিস্ময়ে দেখছি, গোটা দেশবাসী যখন পেঁয়াজের আকাশ ছোঁয়া মূল্যে নাকাল হয়ে পেঁয়াজ খাওয়া ছেড়ে দেবার কথা বলছে তখনও বাজারের কোথাও পেঁয়াজের অভাব নেই। টাকা দিলেই যত ইচ্ছা পাওয়া যাচ্ছে। তারপরও সকাল-বিকেল দাম বাড়ছে। শুধু তাই নয় পেঁয়াজের যে কোন সংকট নেই তারই প্রমাণ দিচ্ছে, মূল্য বৃদ্ধিতে বিক্রি কমে যাওয়ায় গুদামে পেঁয়াজের পচন, অতঃপর নদী-ভাগাড়ে ফেলে দেয়া। তবে অবাক হবার বিষয় হচ্ছে প্রায় দুইমাস ধরে দেশে পেঁয়াজের দাম বাড়ছে, ক্রেতারা কষ্ট পাচ্ছে, মিডিয়ায় খবর হচ্ছে- সরকারের সমালোচনা বাড়ছে, কিন্তু সরকারি কর্তারা কোন ভূমিকা রাখছেন না। ভারত রফতানি বন্ধ করেছে বলেই এতো দাম বাড়ছে ্কথা বলেই তারা দায়িত্ব কর্তব্য শেষ করছেন। সমালোচকদের ভাষায় তারা যেন বুঝাতে চাইছেন ভারত রফতানি বন্ধ করলে কী ধরনের বিরূপ প্রভাব পড়ে তা দেখে নাও! আমরা অবশ্য তা মনে করি না। তবে এটাকে কর্তাদের দায়িত্বে চরম অবহেলা মনে করি আমরা বলতে পারি সরকারের ওপর মহল তৎপর হয়ে আমদানিকারক ও মজুদারদের গুদামে অভিযান চালালে জনদুর্ভোগ সবসীমা ছাড়াতো না। আর এতো বিপুল পরিমণ পেঁয়াজ ভাগাড়ে ফেলতে হতো না। এখন প্রশ্ন উঠেছে কাজটি কেন করা হলো না। প্রশ্ন আরও একটি উঠেছে, তা হচ্ছে পেঁয়াজের মূল্য ২শ’ ছাড়ানোর পর বিভিন্ন বাজারে অভিযান চালিয়ে মূল্য বৃদ্ধির দায়ে কিছু ব্যবসায়ীকে জরিমানা করা হয়। কিন্তু অভিযোগ উঠেছে, জরিমানার শিকার যারা তারা কেউ আমদানিকারক বা মজুদদার নয়। সবাই খুচরা বিক্রেতা। অভিযান কেন এমন হলো সে প্রশ্ন সব মহলেই রয়েছে। সর্বশেষ যে প্রশ্নটি বড় হয়ে দাঁড়িয়েছে তা হচ্ছে- ভারত পেঁয়াজ দেবে না বলার সাথে সাথে কেন আমদানি শুল্ক বাতিল করে আমদানির পথ পরিস্কার হলো না ? দেশের মানুষের অর্থ অপচয় ও দুর্ভোগের শেষ সীমায় পৌঁছানোর পর যখন নতুন পেঁয়াজ বাজারে আসছে তখন কেন আমাদনির এতো আয়োজন ? এতে তো একদিকে মানুষের অর্থ কষ্ট, অন্যদিকে, প্রান্তিক চাষির লোকসান হবে। এছাড়াও অগ্রিম পেঁয়াজ তোলার জন্য মওসুমের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত নতুন সংকট হবে।
আমরা মনে করি, সরকারের দায়িত্বশীলদের এ প্রশ্নগুলো ভেবে দেখা দরকার। বারবার সংকটের চূড়ান্ত পর্বে এসে কেন আমদানি শুল্ক হ্রাস ও আমাদনি বৃদ্ধি করা হয় তাও তদন্ত করা দরকার। আমরা চাই সংকটের আগেই সমাধানের পথ কাজে লাগানো হোক। জনগণকে জিম্মি করে মহল বিশেষের টাকার পাহাড় গড়ার পথ রুদ্ধ হোক। শাস্তি হোক জনদুর্ভোগ সৃষ্টিকারীর। সেবা তারা যত ক্ষমতাধরই হোক জনগণের বন্ধু নয়।

ভাগ