আবারো পাটকল শ্রমিকদের ৯ দফা দাবিতে সাত দিনের আন্দোলন কর্মসূচির ঘোষণা

খুলনা ব্যুরো ॥ খুলনা-যশোর অঞ্চলের পাটকল শ্রমিকরা আবারো মজুরি কমিশন বাস্তবায়ন, অবসর শ্রমিক-কর্মচারীদের বকেয়া প্রদান, নিয়মিত সাপ্তাহিক মজুরি, বেতনসহ ৯ দফা বাস্তবায়নের দাবিতে ৭ দিনের আন্দোলন কর্মসূচি ঘোষণা করেছে।
বাংলাদেশ পাটকল শ্রমিক লীগের ডাকে খুলনা, যশোরসহ সারাদেশের পাটকলে এ আন্দোলন শুরু হয়েছে। শনিবার খুলনার ক্রিসেন্ট, প্লাটিনাম, খালিশপুর, দৌলতপুর, স্টার, আলিম, ইস্টার্ন এবং যশোরের কার্পেটিং ও জেজেআই জুট মিলে এক সাথে গেটসভার মধ্যে দিয়ে আন্দোলন কর্মসূচি ঘোষণা করে পাটকল শ্রমিক লীগ ও সিবিএন-নন সিবিএ শ্রমিক নেতারা।
কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে আজ সোমবার ৪ মার্চ রাজপথে বিক্ষোভ মিছিল, ৮ মার্চ সারাদেশের পাটকলে শ্রমিক সমাবেশ, ১০ মার্চ হরতাল পালনের সমর্থনে লাল পতাকা মিছিল, ১২ মার্চ ২৪ ঘন্টা ধর্মঘট পালন, ১৯ মার্চ আবারও ৪৮ ঘন্টা ধর্মঘট ও বিক্ষোভ মিছিল এবং ২৪ মার্চ ঢাকায় বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে, সেখানে পরবর্তী কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে বলে শ্রমিক নেতারা জানান।
প্লাটিনাম জুবিলি জুট মিলে শ্রমিক সভায় ৭ দিনের আন্দোলন কর্মসূচি ঘোষণা করেন কেন্দ্রীয় পাটকল শ্রমিক লীগের সভাপতি, প্লাটিনাম জুট মিলের সিবিএ সভাপতি সরদার মোতাহার উদ্দিন। সভায় বক্তৃতা করেন সিবিএর সাধারণ সম্পাদক সেলিম আকন, সাবেক সভাপতি কাওসার আলী মৃধা, শাহানা শারমিন, নুরুল হক, খলিলুর রহমান, হুমায়ুন কবির খান, তরিকুল ইসলাম, সৈয়দ আরব আলী, বাদশা মিয়া, মনিরুল ইসলাম শিকদার, বেল্লাল হোসেন, আব্দুর রহিম, খলিলুর রহমান, আব্দুল গফ্ফার খান, শাহ আলম, মোস্তফা কামাল, মোল্যা নাসির উদ্দিন, গিয়াস উদ্দিন, আব্দুর রউফ বিশ্বাস।
ক্রিসেন্ট জুট মিলের গেটসভায় সভাপতিত্ব করেন সিবিএ সভাপতিমুরাদ হোসেন। সভায় প্রধান বক্তা ছিলেন সিবিএর সাধারণ সম্পাদক সোহরাব হোসেন। খালিশপুর জুট মিলে শ্রমিক সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন সিবিএর সভাপতি আবু দাউদ দ্বীন মোহাম্মাদ। স্টার জুট মিলে গেট সভায় সভাপতিত্ব করেন মিন্টু গাজী।
দাবির মধ্যে রয়েছে সরকার ঘোষিত জাতীয় মজুরি ও উৎপাদনশীলতা কমিশন-২০১৫ এর রোয়েদাদসহ উল্লেখিত দাবি ও সুপারিশ বাস্তবায়ন, অবসরপ্রাপ্ত শ্রমিক কর্মচারীদের পি,এফ, গ্রাচ্যুইটি ও মৃত শ্রমিকের বীমার বকেয়া প্রদান, টার্মিনেশন, বরখাস্ত শ্রমিকদের কাজে পুনঃবহাল, বরখাস্ত শ্রমিক, কর্মচারীদের শ্রম আদালত ও শ্রম ট্রাইব্যুনালে মামলার রায় পাওয়ার পর কর্তৃপক্ষ নিয়োগকৃত আইনজীবী মামলা না চালানোর মতামত দেওয়া সত্ত্বেও বিজেএমসি উচ্চতর আদালতে আপিল করার ফলে মিলগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে, এ বিষয়ে উভয় পক্ষের মধ্যে নীতিগত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা, সেটআপ অনুযায়ী শ্রমিক-কর্মচারীদের নিয়োগ ও স্থায়ী করা, পাট মৌসুমে পাটক্রয়ের অর্থ বরাদ্দ, উৎপাদন বৃদ্ধির লক্ষ্যে মিলগুলোকে পর্যায়ক্রমে বি,এম,আর,ই করাসহ ৯ দফা বাস্তবায়নের দাবি উল্লেখযোগ্য।

ভাগ