আবারও শৈত্যপ্রবাহের পূর্বাভাস

0

 

আকরামুজ্জামান ॥ তীব্র শীতৈর মাঝে বৃষ্টি ঝরিয়ে পরদিন রৌদ্রজ্জল আবহাওয়া ছড়িয়ে যশোরে প্রকৃতিতে অনেকটা স্বস্তি ফিরে এলেও মাত্র এক দিনের ব্যবধানে আবার শীত জেঁকে বসেছে এ অঞ্চলে। এরই মধ্যে আবহাওয়া অফিস এ অঞ্চলে আবারও শৈত্যপ্রবাহের পূর্বাভাস দিয়েছে।
যশোর বীরশ্রেষ্ঠ শহীদ মতিউর রহমান বিমানঘাঁটি নিয়ন্ত্রিত আবহাওয়া অফিস সূত্রে জানা গেছে, রাজশাহী, যশোর, চুয়াডাঙ্গা ও রংপুর বিভাগের বেশ কিছু এলাকায় শনিবার বিকেল থেকে শৈত্যপ্রবাহ শুরু হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। দুপুরের পর থেকে যশোরে শীতের অনুভূতি বাড়তে শুরু করে। সন্ধ্যার পর থেকে রাতে তাপমাত্রা আরও কমার সম্ভাবনা রয়েছে। বৃষ্টির পর মেঘ কেটে যাওয়ার পাশাপাশি উত্তরের হিমেল হাওয়ার কারণে শীত অনুভূত বেশি হচ্ছে বলে আবহাওয়া অফিস সূত্রে জানা গেছে।
বৃষ্টির পর শীতের তীব্রতা বাড়বে-আগেই এমন পূর্বাভাস দিয়েছিলো আবহাওয়া অফিস। সে পূর্বাভাসই সঠিক হচ্ছে। গত বুধ ও বৃহস্পতিবার দুদিনে যশোরে ২২ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়। মেঘ কেটে গেছে, বৃষ্টির সম্ভাবনাও নেই। তবে শীত কমার কোনো সম্ভাবনা দেখছে না এ অঞ্চলের মানুষ। এরই মধ্যে আবহাওয়া অফিসের দেওয়া শৈত্যপ্রবাহের খবরে উদ্বিগ্ন মানুষ।
আবহাওয়া অফিস সূত্রে জানা গেছে, শনিবার যশোরে ১২ দশমিক ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়। এটি রোববার থেকে আরও কমার সম্ভাবনা রয়েছে। এসময়ে ১০ থেকে ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে নেমে এলে সেটিকে মৃদু শৈত্যপ্রবাহ বলা যাবে। শনিবার বিকেল ৫টার পর থেকে মৃদু শৈত্যপ্রবাহের কাছাকাছি ছিলো বলে যমোর আবহাওয়া অফিস সূত্রে জানা গেছে। যা সামনে আরও কমতে পারে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়। তবে এটি তিন থেকে চারদিন অব্যাহত থাকার পর শীত কমে পরিস্থিতি অনুকূলে আসতে পারে।
বিমানঘাঁটি নিয়ন্ত্রিত আবহাওয়া অফিস সূত্রে জানা গেছে, তাপমাত্রা যাই হোক না কেনো শীত অনুভূত হচ্ছে অনেক বেশি। এর কারণ হিসেবে আবহাওয়া অফিসের দায়িত্বে থাকা একজন কর্মকর্তা বলেন, জানুয়ারি মাসের শেষ সময়ে ১২ দশমিক ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস অনেকটা স্বাভাবিক তাপমাত্রা। তবে দিনের পুরোটা সময় সূর্যের দেখা না পাওয়া ও উত্তরে হিমেল হাওয়ার কারণে অসহণীয় শীত অনুভূত হচ্ছে। যা গত কয়েক বছরে এমনটা হয়নি । গত কয়েক বছরে যশোরাঞ্চলে তাপমাত্রা ৫ ডিগ্রির মধ্যে ওঠানামা করলেও তখনকার সময়ে এমন শীত অনুভূত হয়নি বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়।
কনকনে শীতে পর্যুদস্ত হয়ে পড়েছে গোটা দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের জনজীবন। শীতে জবুথবু মানুষ সকাল ১০টার আগে ঘর থেকে বেরুতেই পারছে না। সন্ধ্যার মধ্যেই ফিরতে হচ্ছে আশ্রয়ে। তবে শ্রমজীবী মানুষের পক্ষে তা সম্ভব হচ্ছে না। গরম পোশাক থাক আর না থাক, কাকডাকা ভোরেই যথারীতি কাজের সন্ধানে বেরুতে হচ্ছে তাদের।
ঠা-ার কারণে যশোরের গরম কাপড়ের দোকানগুলোতে অন্যান্য দিনের মতো ক্রেতাদের ভিড়ে ঠাঁসা ছিলো গতকাল। সকাল থেকে রাত পর্যন্ত জেলার বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা নানা বয়সী লোক দোকানগুলোতে এসে ভিড় জমান। তারা সাধ্যমত গরম কাপড় কিনে নিয়ে যান। তবে ক্রেতারা বলেন, শীতকে পুঁজি করে বিক্রেতারা প্রতিটি কাপড়ের দাম লাগামছাড়া নিচ্ছে।
শহরের কালেক্টরেট মসজিদ মার্কেটে কথা হয়, শরাফত হোসেন নামে এক ক্রেতার সাথে। তিনি জেলার মনিরামপুর এলাকা থেকে এসেছেন বাজারটিতে শীতবস্ত্র কিনতে। তিনি বলেন, আগে যে কাপড় ২শ থেকে ৩শ টাকা বিক্রি হয়েছে। এখন তা ৪শ থেকে ৫শ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। একই কথা বলেন, আছিয়া বেগম নামে আরেক ক্রেতা। তিনি বলেন, শীতকে পুঁজি করে যশোরের বাজারগুলোতে গরম কাপড়ের দাম বেশি হাঁকাচ্ছে ক্রেতারা।

Lab Scan