আবাদি জমিতে পুকুর খনন বেড়েছে মনিরামপুরে

0

ওসমান গণি. রাজগঞ্জ (যশোর) সংবাদদাতা ॥ যশোরের মনিরামপুর উপজেলার রাজগঞ্জ অঞ্চলে আবাদি জমি কেটে পুকুর খনন ও ঘের তৈরি করে মাছ চাষ করা হচ্ছে। ফলে সুজলা-সুফলা শস্যা শ্যামলা বাংলার সেই চিরচেনা রূপ বিনষ্টের সঙ্গে কমে যাচ্ছে এলাকার শতশত হেক্টর তিন ফসলি জমি।
উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ ও মৎস্য অধিদপ্তরের তথ্যমতে গত কয়েক বছরে বৃহত্তর মনিরামপুর উপজেলায় মাছ চাষ কয়েকগুণ বেড়ে গেছে। এতে করে দুই ও তিন ফসলি কৃষি জমি কমেছে দেড়হাজার হেক্টরের বেশি। কৃষিজমির একটি বড় অংশ চলে গেছে বাণিজ্যিকভাবে পুকুর ও ঘের খননে। মাছচাষে লাভ বেশি হওয়ায় এ উপজেলায় ফসলি জমিতে বড় বড় পুকুর খনন ও ঘের খননের এমন মহোৎসব অব্যাহত রয়েছে।
তবে মাছের উৎপাদন বাড়ায় সাফল্য হিসেবে দেখছেন উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা। কিন্তু উপজেলা কৃষি অধিদপ্তর বলছে, বাণিজ্যিক এসব পুকুর বা মৎস্য ঘের খনন করা হয়েছে শতভাগ তিন ফসলি জমিতেই। এদিকে অপরিকল্পিতভাবে পুকুর বা মৎস্য ঘের খননে উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় জলাবদ্ধতার কারণে প্রতিবছরই ব্যাপক ফসলহানি হচ্ছে। সেই সাথে চাপ বাড়ছে পরিবেশের উপরও।
উপজেলার পশ্চিমাঞ্চলের রাজগঞ্জ, ঝাঁপা, হরিহরনগর, খেদাপাড়া, চালুয়াহাটি, মশ্মিমনগর, শ্যামকুড়, রোহিতা ও কাশিমনগর ইউনিয়নে এ অবস্থা চলছে বেশি।
মনিরামপুর উপজেলা কৃষি অধিদপ্তরের উপসহকারী কর্মকর্তা অঞ্জলী জোরদার জানান, বৃহত্তর এ উপজেলায় মৎস্য ঘের রয়েছে ৪হাজার ৮শ ১০টি। যার জমির পরিমাণ হলো ৬ হাজার ৩শ ২০ হেক্টর। আর পুকুর রয়েছে ১০হাজার ৬শ ৪৩টি। যার জমির পরিমাণ হলো ১৫ হাজার ৩শ ৮ হেক্টর। সাড়ে ৭ বিঘায় এক হেক্টর। গত ১০ বছরে পুকুর ও মৎস্য ঘেরের সংখ্যা বেড়েছে কয়েকগুণ। যে কারণে অনেক কৃষি জমি কমে গেছে। তবে সরকারি নির্দেশনা থাকার পরও কৃষি জমিতে পুকুর বা মৎস্য ঘের খনন খুবই দুঃখজনক বলে মনে করেন এ কর্মকর্তা।
উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা রিপন কুমার ঘোষ জানান, গত কয়েক বছরে মনিরামপুর উপজেলায় প্রায় দ্বিগুণ মাছ উৎপাদন বেড়েছে। মাছ চাষ করে এলাকার অনেক বেকার যুবক আজ সাবলম্বী হয়েছেন। এ উপজেলার একটি পৌরসভাসহ ১৭টি ইউনিয়নে মৎস্য ঘের রয়েছে ৪হাজার ৮শ ১০টি ও পুকুর রয়েছে ১০হাজার ৬শ ৪৩টি। এরমধ্যে ঘের বা পুকুর ভবদাহ অঞ্চলে সবচেয়ে বেশি বলে জানান এ কর্মকর্তা।

Lab Scan