আন্তর্জাতিক সংবাদ

আফগানিস্তানে আইএস মারতে গিয়ে মার্কিন ড্রোনে নিহত ৩০ শ্রমিক
রোকসমাজ ডেস্ক ॥ আফগানিস্তানের পূর্বাঞ্চলে এক ফসলের মাঠের কাছে মার্কিন ড্রোন হামলায় অন্তত ৩০ বেসামরিক লোক নিহত হয়েছেন, আহতের সংখ্যা ৪০ জন। বৃহস্পতিবার রয়টার্স জানায়, আইএসের গোপন আস্তানা ধ্বংস করে দিতে বুধবার রাতে এই অভিযান চালানো হয়েছে বলে দাবি করেছে আফগান কর্মকর্তারা। কিন্তু দুর্ঘটনাবশত পার্শ্ববর্তী ক্ষেতের কৃষকেরা লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হন। পূর্বাঞ্চলীয় নানগাহারের প্রাদেশিক পরিষদ সদস্য সোহরাব কাদেরি বলেন, পাইন বাদাম ক্ষেতে ড্রোন হামলায় ৩০ কৃষি শ্রমিক নিহত হয়েছেন এবং আহত হয়েছেন ৪০ জন।কাবুলে প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় নিশ্চিত করে আইএস ঘাঁটি লক্ষ্য মার্কিন ও আফগান বাহিনী এই অভিযান চালায়। তবে এ ঘটনায় বেসামরিক লোক হতাহতের ব্যাপারে কিছু বলতে রাজি হয়নি তারা।

২০ লাখ পুলিশের তদন্তের পর শনাক্ত কোরিয়ার সিরিয়াল কিলার
৩০ বছর ধরে দক্ষিণ কোরিয়ার ২০ লাখ পুলিশ অফিসার যে মামলার তদন্ত করেছেন, সেটি সমাধান হয়েছে। জাপান টাইমস জানিয়েছে, ১০ জন নারীকে খুন এবং ধর্ষণে দায়ী প্রধান অভিযুক্তকে বৃহস্পতিবার শনাক্ত করেছে দেশটির পুলিশ। ১৯৮৬ থেকে ১৯৯১ সাল পর্যন্ত কুখাত্য ওই সিরিয়াল কিলার ১৩ থেকে ৭১ বয়সী দশ নারীকে ধর্ষণ করে। নিহতদের সবাইকে পাওয়া যায় সিওলের দক্ষিণাঞ্চলের শহর ওয়াসংয়ে। ওই নারীদের কে বা কারা খুন করেছে সেটি জানতে এতদিন ২ মিলিয়ন বা ২০ লাখ পুলিশ তদন্ত চালান। এই সময়ে তারা ২১ হাজার ব্যক্তিকে টার্গেট করেন। তাদের সবার ফিঙ্গার প্রিন্ট সংগ্রহ করা হয়। কিন্তু কোনো কূলকিনারা হয়নি। রহস্যময় এই মামলা নিয়ে ২০০৩ সালে দক্ষিণ কোরিয়ার পরিচালক বং জুন ‘মেমোরিজ অব মার্ডার’ নামে একটি সিনেমা বানান। ১৯৯৪ সালে শ্যালিকাকে খুনের অভিযোগে লি চুন-জেই নামের এক ব্যক্তি গ্রেফতার হয়। সে এখন কারাগারে। পুলিশ জানিয়েছে, এই লি’র ডিএনএ পরীক্ষা করে জানা গেছে, ওই ১০ নারীকেও সে খুন করেছে। ভুক্তভোগী এক নারীর আন্ডার-ওয়্যার থেকে সংগৃহীত নমুনার সঙ্গে ৫৬ বছর বয়সী লির ডিএনএ মিলে গেছে। দক্ষিণ কোরিয়ার পুলিশ প্রধান এদিন সাংবাদিকদের বলেন, ‘নিহতদের পরিবারের প্রতি আমার সমবেদনা। এতদিন এই খুনির পরিচয় উদ্ধারে ব্যর্থতার জন্য দেশের মানুষের কাছে ক্ষমা চাচ্ছি। ঐতিহাসিক এই মামলার রহস্য সমাধান করতে আমরা ৩০ বছর ধরে সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছি।’

বিশ্বব্যাপী শিশুদের জন্য ৮ চ্যালেঞ্জ
ইউনিসেফের নির্বাহী পরিচালক হেনরিয়েটা ফোরের এক খোলা চিঠিতে শিশুদের জন্য বিশ্বব্যাপী আট চ্যালেঞ্জকে চিহ্নিত করা হয়েছে। এ আটটি চ্যালেঞ্জ হলো দীর্ঘস্থায়ী সংঘাত, দূষণ ও জলবায়ু সংকট, মানসিক অসুস্থতা বৃদ্ধি, গণ অভিবাসন ও জনসংখ্যার স্থানান্তর, রাষ্ট্রহীনতা, ভবিষ্যতের কাজের জন্য দক্ষতা, তথ্য অধিকার ও অনলাইনে গোপনীয়তা এবং অনলাইনে ভুল তথ্য। বুধবার বিশ্বের সর্বাধিক প্রশংসিত মানবাধিকার চুক্তি শিশু অধিকার সনদের ৩০তম বার্ষিকী উদযাপনের অংশ হিসেবে ইউনিসেফের পক্ষ থেকে এ চিঠি প্রকাশ করা হয়। এতে শিক্ষা গ্রহণের সুযোগ, দারিদ্র্য, অসাম্য ও বৈষম্যের মতো বিদ্যমান হুমকিগুলোর বাইরে নতুন হুমকির কথা উল্লেখ করে তা নিরসনে প্রচেষ্টা জোরদার করার উপায়ের রূপরেখা দেয়া হয়। চিঠিতে হেনরিয়েটা ফোর লেখেন, ‘আপনাদের প্রজন্ম, আজকের শিশুরা নতুন এক ধরনের চ্যালেঞ্জ ও বৈশ্বিক পরিবর্তনের মুখোমুখি হচ্ছে, যা আপনাদের বাবা-মায়েদের কাছে অকল্পনীয় ছিল। জলবায়ু আমাদের ধারণার চেয়েও বেশি বদলে যাচ্ছে। বৈষম্য আরও বাড়ছে। বিশ্ব নিয়ে আমাদের উপলব্ধি বদলে দিচ্ছে প্রযুক্তি। আর আগের যেকোন সময়ের চেয়ে বেশি সংখ্যক পরিবার অভিবাসী হচ্ছে। শৈশব বদলে গেছে আর তাই এর সঙ্গে সঙ্গে আমাদেরও দৃষ্টিভঙ্গি বদলাতে হবে।’

ভাগ