অভয়নগরে কুল চাষে লাভবান হচ্ছেন চাষি

0

নজরুল ইসলাম মল্লিক, অভয়নগর (যশোর) ॥ যশোরের অভয়নগরে এবার আবহাওয়ার অনুকূলে থাকায় কুলের বাম্পার ফলন হয়েছে। এতে লাভবান হয়েছেন কুল চাষিরা। উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা যায়, অভয়নগরে অনুকূল পরিবেশ এবং কম খরচে বেশি লাভবান হওয়া যায় বলে এই অঞ্চলের বেশিরভাগ কৃষক কুল চাষে আগ্রহী হয়ে উঠেছেন। এছাড়া এ অঞ্চলের বেশিরভাগ ঘেরের মালিকরা ঘের পাড়ে কুল চাষে আগ্রহ দেখাচ্ছেন। তাদের মতে, মাছ চাষের সাথে ঘেরের পাড়ে গত বছর অভয়নগর উপজেলার ৪৮ হেক্টর জমিতে কুল চাষ হয়েছে। এ অঞ্চলে আপেল কুল, বাউকুল, বল সুন্দরী কুলের চাষের প্রচলন ছিল। কিন্তু বেশ কয়েক বছর ধরে বাণিজ্যিকভাবে টক কুলের চাহিদা বেড়েছে। নতুন করে কেউ বাগান করতে চাইলে কুলের চারা এবং প্রয়োজনীয় পরামর্শ দিয়ে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর সহযোগিতা প্রদান করবে।
গত শুক্রবার সরেজমিনে অভয়নগর উপজেলার পুড়াখালী গ্রামের নতুন উদ্যোক্তা মো. বুলবুল গাজীর সাথে কথা হয়। তিনি জানান, গত বছর মাত্র এক বিঘা জমি লিজ নিয়ে তিনি কুল চাষ করেন। সব মিলে খরচ হয় ২৫ হাজার টাকা। তিনি কুল বিক্রি করেন ১ লাখ ৬০ হাজার টাকার। এবছর ইতিমধ্যে ২ লাখ টাকার কুল বিক্রি করেছেন তিনি। ক্ষেতে এখনো ৬০/৭০ হাজার টাকার কুল রয়েছে বলে জানান বুলবুল গাজী। তিনি বলেন, কুলের জমিতে গোবর সার ও রাসায়নিক সারের সাথে ৪/৫ বার পানি দিতে হয়। পোকার আক্রমণ থেকে বাঁচাতে কুলের ফুল আসার আগেই কীটনাশক প্রয়োগ করতে হয়। তিনি শুধু কুল চাষ করেননি, পাশাপাশি একই জমিতে শশা, করোলা, মালটাও চাষ করেছেন। তিনি শশা ও করোলা বিক্রি করে এ বছর আড়াই লাখ টাকা আয় করেছেন। তবে তিনি আক্ষেপ করে বলেন, মূলধন কম থাকায় তিনি বেশি জমিতে চাষ করতে পারছেন না। ব্যাংক লোনের জন্য কৃষি কর্মকর্তার চিঠি নিয়ে গেলেও কোন সাড়া পাননি। অভয়নগর উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা কৃষিবিদ গোলাম ছামদানী বলেন, ‘অল্প খরচে বেশি লাভ হওয়ায় কুল চাষে আগ্রহ বেড়েছে। আমরা এ অঞ্চলের কুল চাষিদের সব ধরনের পরামর্শ ও সহযোগিতা প্রদান করছি।’

Lab Scan