অবশেষে মেডিক্যাল ভিসায় ভারত গেলেন ৪৫ বাংলাদেশি

0

বেনাপোল প্রতিনিধি॥দুই মাস পর শর্ত মেনে মেডিক্যাল ভিসায় ভারত ভ্রমণের অনুমতি পেয়েছেন বাংলাদেশি পাসপোর্টযাত্রীরাদুই মাস পর শর্ত মেনে মেডিক্যাল ভিসায় ভারত ভ্রমণের অনুমতি পেয়েছেন বাংলাদেশি পাসপোর্টযাত্রীরা
দুই মাস পর শর্ত মেনে মেডিক্যাল ভিসায় ভারত ভ্রমণের অনুমতি পেয়েছেন বাংলাদেশি পাসপোর্টযাত্রীরা। নিষেধাজ্ঞার পর প্রথম বেনাপোল চেকপোস্ট দিয়ে চিকিৎসা নিতে ভারতে যাওয়ার সুযোগ পেলেন তারা। এর আগে নিষেধাজ্ঞার মধ্যে শুধু রাষ্ট্রীয় কাজে সীমিত পরিসরে যাতায়াতের সুযোগ ছিল।
বুধবার (২৩ জুন) বেনাপোল বন্দর দিয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সুরক্ষাসেবা বিভাগের বহিরাগমন-২ শাখার অনুমতিপত্র নিয়ে মেডিক্যাল ভিসায় ভারতে গেছেন ১৯ জন বাংলাদেশি। এ নিয়ে গত তিন দিনে মেডিক্যাল ভিসায় ভারত গেলেন ৪৫ বাংলাদেশি।
এদিকে বাংলাদেশিদের ভারতে ১৪ দিনের প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারেন্টিনে থাকতে না হলেও ভারতফেরত বাংলাদেশিদের বেনাপোল ও যশোরের বিভিন্ন হোটেলে ১৪ দিনের প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারেন্টিনে থাকতে হচ্ছে। বাংলাদেশিরা ভারতে প্রবেশের পর সরাসরি গন্তব্যে যেতে পারছেন।
বেনাপোল ইমিগ্রেশন সূত্রে জানা যায়, ভারতে করোনার প্রকোপ বেড়ে যাওয়ায় বাংলাদেশ সরকার গত ২৬ এপ্রিল থেকে দেশটিতে ভ্রমণে নিষেধাজ্ঞা জারি করে। এতে বাংলাদেশিদের ভারত ভ্রমণ বন্ধ হয়ে যায়। এক্ষেত্রে জটিল রোগে আক্রান্তরা বিপাকে পড়েন। চিকিৎসা করাতে না পেরে অনেকে রোগী যন্ত্রণায় ভুগছেন। দুই মাস পর মানবিক দিক বিবেচনা করে চিকিৎসাসেবা প্রত্যাশীদের শর্তসাপেক্ষে ভারত ভ্রমণের সুযোগ দেয় সরকার। ভারত সরকারও ইতিবাচক সাড়া দিয়ে ভিসা দিচ্ছে।
ভারত ভ্রমণে যাওয়ার পথে বাংলাদেশি পাসপোর্টধারী যাত্রী ধীমান সরকার বলেন, আমার মেয়ে জটিল রোগে আক্রান্ত। তিন মাস আগে একবার ভারতে গিয়েছিলাম চিকিৎসার জন্য। এক মাস পর যাওয়ার কথা ছিল। কিন্তু করোনার কারণে ভারত ভ্রমণে নিষেধাজ্ঞায় পড়ে যেতে পারিনি। এখন দুই দেশের সরকার রোগীদের কথা চিন্তা করে ভিসা দেওয়ার জন্য একমত হয়েছে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে ভারত ভ্রমণের অনুমতি চেয়ে আবেদন করলে ছাড়পত্র পাই। আগের নিয়মে ৭২ ঘণ্টার মধ্যে করানো পরীক্ষার নেগেটিভ সনদসহ বিভিন্ন শর্ত পালনের প্রতিশ্রুতি দিতে হয়েছে। আমার মতো শত শত মানুষ ভারতে যেতে আবেদন করেছেন।
পাসপোর্টযাত্রী জাহানারা বেগম বলেন, দেশে চিকিৎসাসেবা উন্নতমানের না হওয়ায় করোনাকালীন সময়ে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে চিকিৎসা গ্রহণে বাধ্য হয়ে ভারতে যেতে হচ্ছে। দেশে চিকিৎসাসেবা উন্নত হলে ঝুঁকি নিয়ে হয়তো ভারতে যাওয়ার দরকার হতো না। এতে যেমন খরচ কমতো তেমনি সময়ও বাঁচতো। দেশে চিকিৎসা ব্যবস্থার উন্নতিতে সরকারকে গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জানাই।
বেনাপোল চেকপোস্ট ইমিগ্রেশন পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আহসান হাবিব বলেন, বর্তমানে জটিল রোগে আক্রান্তরা স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ছাড়পত্র এবং ৭২ ঘণ্টার করোনার নেগেটিভ সনদ নিয়ে ভারতে যাওয়ার সুযোগ পাচ্ছেন। বাংলাদেশি যারা ভারত থেকে ফিরছেন, তারা ভারতে নিযুক্ত বাংলাদেশ দূতাবাসের বিশেষ ছাড়পত্র নিয়ে ফিরছেন। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অনুমতি থাকলে যে কেউ ভারত ভ্রমণে যেতে পারবেন।
তিনি আরও বলেন, গত ৫৭ দিনে ভারত থেকে দেশে ফিরেছেন পাঁচ হাজার ৫৬২ জন বাংলাদেশি। এ সময়ের মধ্যে বাংলাদেশি ও ভারতীয় মিলে এক হাজার ৪৫ জন ভারত গেছেন।
উল্লেখ্য, ভারতে করোনা সংক্রমণ বৃদ্ধি পেলে গত বছরের ১৩ মার্চ বাংলাদেশিদের ভারত ভ্রমণে নিষেধাজ্ঞা জারি করে ভারত সরকার। করোনা পরিস্থিতি কিছুটা নিয়ন্ত্রণে এলে প্রায় আট মাস পর তিন শর্তে ট্যুরিস্ট ভিসা বন্ধ রেখে বাংলাদেশি যাত্রীদের চিকিৎসা, ব্যবসা আর স্টুডেন্ট ভিসায় ভারত ভ্রমণের সুযোগ দেয়। গত ২৩ এপ্রিল থেকে পুনরায় স্থলপথে ভারত-বাংলাদেশের মধ্যে ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়। এখনও পর্যন্ত সেই নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। তবে দুই দেশের হাইকমিশনের ছাড়পত্র থাকলে যাতায়াতের সুযোগ আছে।

Lab Scan