অফিস কক্ষে তালা মেরে এলাকাবাসীর বিক্ষোভ : মনিরামপুরে মাদ্রাসা ছাত্রীকে ধর্ষণের ঘটনায় দুই শিক্ষকের বিরুদ্ধে মামলা

স্টাফ রিপোর্টার, মনিরামপুর (যশোর) ॥ যশোর মনিরামপুরের ঝাঁপা বালিকা দাখিল মাদ্রাসায় এক ছাত্রীকে পালাক্রমে ধর্ষণের ঘটনায় থানায় মামলা হয়েছে। ধর্ষিতার পিতা বাদী হয়ে বৃহস্পতিবার রাতে থানায় ওই মাদ্রাসার মৌলভী শিক্ষক নজরুল ইসলাম ও কৃষি শিক্ষক তরিকুল ইসলামের বিরুদ্ধে এ মামলাটি দায়ের করেন। এর মধ্যে নজরুল ইসলাম ঝাঁপা গ্রামের গাছিপাড়ার মৃত আবদুল মজিদের ছেলে ও তরিকুল ইসলাম খানপুর ইউনিয়নের বালিয়াডাঙ্গা গ্রামের মোন্তাজ আলীর ছেলে। তবে পুলিশ অভিযুক্ত দুই লম্পট শিক্ষককে আটক করতে পারেনি। অন্যদিকে ধর্ষিত ছাত্রীকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে।
মনিরামপুর থানা পুলিশের ওসি (তদন্ত) শিকদার মতিয়ার রহমান মামলার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, আসামিদের আটকের জন্য পুলিশ তৎপর রয়েছে। ধর্ষিত ছাত্রীকে উদ্ধারের পর ঘটনার রাতেই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। তার অবস্থার উন্নতি হলে আদালতে জবানবন্দি রেকর্ড করা হবে। উল্লেখ্য, গত সোমবার সন্ধ্যার পর ওই ছাত্রী ও তার অন্য সহপাঠীরা মাদ্রাসায় যায় কোচিং কাশ করতে। ওই রাতে কোচিংয়ের দায়িত্বে ছিলেন শিক নজরুল ইসলাম ও তরিকুল ইসলাম। গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টির মধ্যে রাত সাড়ে আটটার দিকে ওই ছাত্রীকে কে রেখে অন্যদেরকে ছুটি দেওয়া হয়। এরপর দুই শিক্ষক মিলে মাদ্রাসার একটি করে মধ্যে ওই ছাত্রীকে পালাক্রমে ধর্ষণ করেন। প্রচুর রক্তরণের কারণে ছাত্রীটি জ্ঞান হারিয়ে ফেললে শিক্ষকরা ভাবেন সে মারা গেছে। ফলে তারা মাদ্রাসার বাইরে টয়লেটের পাশে তাকে ফেলে রেখে চলে যান। গভীর রাতে অচেতন অবস্থায় সেখান থেকে ওই ছাত্রীকে তার মা-বাবা উদ্ধারের পর লোকলজ্জার ভয়ে গোপনে যশোর ২৫০ শয্যা হাসপাতালে ভর্তি করেন। চিকিৎসার পর অবস্থার কিছুটা উন্নতি হলে বুধবার মেয়েকে বাড়িতে আনা হয়। পরে বিষয়টি জানাজানি হলে অভিভাবকসহ এলাকাবাসীর মধ্যে চরম ােভ ও অসন্তোষ সৃষ্টি হয়। এ ঘটনার প্রতিবাদে বৃহস্পতিবার বেলা ১২ টার দিকে বিুব্ধ এলাকাবাসী মাদ্রাসায় হামলা চালিয়ে অফিস কে তালা মেরে সকল শিককে দু ঘন্টা অবরুদ্ধ করে রাখেন। এ সময় তারা অভিযুক্ত দুই শিকের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে নানা শ্লোগান দেন। খবর পেয়ে সহকারি কমিশনার (ভূমি) সাইয়েমা হাসান, সহকারি পুলিশ সুপার রাকিব হাসান, থানা পুলিশের ওসি রফিকুল ইসলাম, মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা মৌসুমি সুলতানা, মাধ্যমিক শিা কর্মকর্তা বিকাশ চন্দ্র সরকার ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। রাতেই পুলিশ ওই ছাত্রীকে উদ্ধারের পর চিকিৎসার জন্য উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করে।

ভাগ