অডিট ফার্ম নিয়োগ ও সমন্বক ওয়ার্কিং কমিটি পুনঃগঠন

লোকসমাজ ডেস্ক ॥ রাষ্ট্রায়ত্ত পাঁচটি বাণিজ্যিক ব্যাংকের বিশেষ নিরীক্ষা সম্পাদনে চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট‌্যান্টস ফার্ম নিয়োগসহ কার্যক্রম সমন্বক ওয়ার্কিং কমিটি পুনঃগঠন করেছে অর্থ মন্ত্রণালয়ের ব‌্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ। বিভাগের অতিরিক্ত সচিব জাকিয়া সুলতানাকে আহ্বায়ক করে আট সদস্যের এ কমিটি পুনঃগঠন করা হয়েছে। গত ১১ ডিসেম্বর এ সংক্রন্ত একটি অফিস আদেশ করা হয়েছে বলে আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ সূত্রে জানা গেছে। কমিটির অন্য সদস্যরা হলেন- আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের যুগ্ম সচিব মু. শুকুর আলী, বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক মো. হুমায়ুন কবির, সোনালী ব্যাংকের উপ-ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. এবনুজ জাহান, জনতা ব্যাংকের উপ-ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. ইসমাইল হোসেন, অগ্রণী ব্যাংকের উপ-ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. ইউসুফ আলী, রূপালী ব্যাংকের উপ-ব্যবস্থাপনা পরিচালক বেলায়েত হোসেন, আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের অভ্যন্তরীণ ও বহিঃনিরীক্ষা শাখার উপ-সচিব মৃত্যুঞ্জয় সাহা এবং বেসিক ব্যাংকের মহাব্যবস্থাপক এ কে এম মাসুদ-উর রহমান। অভ্যন্তরীণ ও বহিঃসম্পদ বিভাগের উপ-সচিব কমিটির সাবিচিক দায়িত্ব পালন করবেন।
এ কমিটির জন্য আটটি কার্যপরিধি নির্ধারণ করে দেয়া হয়েছে। কার্যপরিধিতে বলা হয়েছে, এ বিশেষ নিরীক্ষা সম্পাদনের লক্ষ্যে অডিট ফার্ম নিয়োগের জন্য পিপিআর ২০০৮ অনুযায়ী সুনির্দিষ্ট প্রস্তাব প্রণয়ন করবে। বিশেষ অডিট কার্যক্রমের কর্মপরিধি নির্ধারণসহ বাংলাদেশ ব্যাংক, নিরীক্ষাধীন ব্যাংকসমূহ এবং সিএ ফার্মসমূহের কাজের সমন্বয় করবে। সিএ ফার্মকে নির্ধারিত ছক অনুযায়ী ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় তথ্য প্রদানসহ যাবতীয় বিষয়ে সহায়তা দেবে। অডিট প্রতিবেদনের ভিত্তিতে ব্যাংকিং খাতে ঋণ ব্যবস্থাপনায় প্রয়োজনীয় সংস্কার আনার লক্ষ্যে কর্মপন্থা নির্ধারণে উদ্যোগ গ্রহণ করবে। কার্যপরিধিতে বলা হয়েছে, ওয়ার্কিং কমিটি ১৫ দিন পর পর বৈঠক করে নিরীক্ষা কার্যক্রমের অগ্রগতি সচিব/মুখ্য হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তা কাছে উপস্থাপন করবে। সুষ্ঠু ও ফলপ্রসূভাবে নিরীক্ষা সম্পদনের উপযুক্ত কর্তৃপক্ষ কর্তৃক সময়ে সময়ে প্রদত্ত নির্দেশনা অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করবে। কমিটি প্রয়োজনে ব্যাংক ও আর্থিক বিষয়ে সংশ্লিষ্ট যেকোনো কর্মকর্তাকে কো-অপ্ট করতে পারবে। বাংলাদেশ ব্যাংক কর্তৃক চলতি বছরের ১৫ মে তারিখে জারিকৃত বিআরডিপি সার্কুলার নং-০৫ এর আওতায় গ্রাহক কর্তৃক ঋণ পুনঃতফসিল ও এককালীন এক্সিট সংক্রান্ত প্রতিটি আবেদনের বিষয়ে ব্যাংক ভিত্তিক তথ্য সংগ্রহ করে গৃহীত কার্যক্রমের হালনাগাদ অগ্রগতি পর্যবেক্ষণ করবে।
আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের একজন কর্মকর্তা বলেন, মূলত রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন ব্যাংকগুলোর খেলাপী ঋণ নিয়ন্ত্রণ, খেলাপী ঋণ পুনঃতফসিল সংক্রান্ত কার্যক্রম এবং এককালীন এক্সিট সংক্রান্ত প্রতিটি আবেদন পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যাচাই করার জন্য কমিটি পুনঃগঠন করা হয়েছে। রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন ব্যাংকগুলোর অডিটে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার ওপর জোর দেয়া হয়েছে।

ভাগ