অচল ক্রেন ও ফর্কলিফটে পণ্যজট বেনাপোল বন্দরে

0

 

বেনাপোল (যশোর) সংবাদদাতা ॥ বেনাপোল বন্দরে পণ্য উঠানামার কাজে ব্যবহৃত বেশির ভাগ ক্রেন ও ফর্কলিফট দীর্ঘদিন ধরে অকেজো হয়ে পড়ে থাকলেও মেরামতের উদ্যোগ নেই। আমদানি পণ্য খালাসে বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। পাশাপাশি বন্দরে সৃষ্টি হচ্ছে পণ্যজট।
বন্দর সূত্রে জানা যায়, স্থলপথে ভারতের সঙ্গে যে আমদানি বাণিজ্য হয়, তার বড় অংশ দেশের শিল্পকারখানা স্থাপনের যন্ত্রাংশ, রেল-বিদ্যুৎ প্রকল্প ও সেতু-কালভার্ট নির্মাণের মালামাল। পাঁচ বছরের চুক্তিতে বেনাপোল বন্দরে ভারী পণ্য উঠানামানোর কাজ করছে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান গ্রেড বেঙ্গল এন্টারপ্রাইজ। ভারী মালামাল লোড-আনলোডের জন্য বন্দরে কমপক্ষে ১৫টি ক্রেন ও ১০টি ফর্কলিফট প্রয়োজন রয়েছে। তবে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানটির রয়েছে মাত্র সাতটি ক্রেন ও আটটি ফর্কলিফট। এর মধ্যে সচল আছে মাত্র একটি ক্রেন ও একটি ফর্কলিফট । তাতে স্বাভাবিক সময়ে দিনে সাত শ ট্রাক পণ্য লোড-আনলোড হলেও এখন তা কমে দাঁড়িয়েছে অর্ধেকের নিচে। তাতে খালাস কমে বন্দরে পণ্যজটের পাশাপাশি দেশের শিল্পকারখানায় উৎপাদন ও উন্নয়ন প্রকল্পের কাজ ব্যাহত হচ্ছে। ব্যবসায়ীদের দাবি, ক্রেন, ফর্কলিফট পুরনো হওয়ায় বেশির ভাগ সময় নষ্ট হয়ে পড়ে থাকছে। বন্দর ও ঠিকাদার কর্তৃপক্ষকে বারবার অভিযোগ দিলেও সমস্যা সমাধানে কোনও উদ্যোগ দেখা যাচ্ছে না।
বেনাপোল ট্রাক ট্রান্সপোর্ট মালিক সমিতির সেক্রেটারি আজিম উদ্দীন গাজী বলেন, ক্রেন, ফর্কলিফট অচল থাকায় পণ্য খালাস করতে না পারায় বাণিজ্য ব্যাহত হচ্ছে। অভিযোগ জানালেও কোনো প্রতিকার মিলছে না। বেনাপোল আমদানি-রপ্তানি সমিতির সহসভাপতি আমিনুল হক বলেন, প্রতিদিন বেনাপোল বন্দরে অন্তত সাত শ ট্রাক পণ্য উঠানামানোর কাজ হয়। এসব পণ্যের মধ্যে তিন শ ট্রাক ভারী পণ্য রয়েছে। যা খালাস করতে ক্রেন ও ফর্কলিফট প্রয়োজন হয়। সবচেয়ে বেশি রাজস্ব এ বন্দর থেকে দেওয়া হলেও সেবার বেহাল দশা।
বেনাপোল সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের বন্দরবিষয়ক সম্পাদক মো. মেহেরুল্লাহ বলেন, বেনাপোল বন্দর দিয়ে বর্তমানে বিদ্যুৎ ও রেল প্রকল্পের মালামাল বেশি আসছে। কিন্তু বন্দরে চাহিদার তুলনায় এসব ভারী মালামাল উঠানো ক্রেন, ফর্কলিফট কম। তা ছাড়া বেশির ভাগ সময় এসব নষ্ট থাকায় বন্দরে পণ্যজট বেড়েছে। অচল হয়ে পড়া ক্রেন-ফর্কলিফট মেরামতের জন্য কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন জানানো হলেও প্রতিকার মিলছে না।

এ বিষয়ে গ্রেড বেঙ্গল এন্টারপ্রাইজের মেকানিক বাদশা মিয়া বলেন, নষ্ট হয়ে পড়ে থাকা ক্রেন, ফর্ক লিফটের যন্ত্রাংশ জরুরিভিত্তিতে সংগ্রহ করতে না পারায় মেরামত করা সম্ভব হচ্ছে না। এতে পণ্য খালাসে বিঘ্ন ঘটছে। বিষয়টি কর্তৃপক্ষকে অবগত করা হয়েছে।

বেনাপোল সিঅ্যান্ডএফ স্টাফ অ্যাসোসিয়েশনের সেক্রেটারি সাজেদুর রহমান বলেন, এক বছর ধরে বন্দরে ক্রেন, ফর্কলিফটের সমস্যা চলছে। এখন তা আরও বাজে অবস্থায় নেমেছে। গত সপ্তাহ থেকে চাহিদার বিপরীতে ২০ শতাংশ ভারী পণ্য বন্দর থেকে খালাস হচ্ছে। এতে দাঁড়িয়ে থাকা তিন শ ভারতীয় ট্রাকপ্রতি দিনে ৩ হাজার টাকা জরিমানা দিতে হচ্ছে। এ ছাড়া বন্দরে ইয়ার্ডে পড়ে থাকা প্রায় দেড় লাখ মেট্রিক টন পণ্যের বন্দর ভাড়া বাবদ প্রতিদিন মাশুল গুনতে হচ্ছে। ভারী পণ্য উঠনামানোয় বন্দরের নিয়োগ করা ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের ম্যানেজার মোয়াজ্জেম হোসেন বলেন, আড়াই বছর আগে যখন বন্দরের সঙ্গে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের চুক্তি হয়, তখন মাসে ৫০ হাজার মেট্রিক টন পণ্য খালাসের কথা ছিল। তবে গত মাসে তাদের খালাস করতে হয়েছে ৯২ হাজার মেট্রিক টন পণ্য। অতিরিক্ত চাপ নেওয়ায় ক্রেন, ফর্কলিফটের যন্ত্রাংশ বারবার অচল হচ্ছে। টেন্ডারের শর্ত সংশোধন না করলে অতিরিক্ত ক্রেন, ফর্কলিফট সংযুক্ত করা সম্ভব হচ্ছে না।
এ বিষয়ে বেনাপোল স্থলবন্দরের ভারপ্রাপ্ত পরিচালক আব্দুল জলিল বলেন, ‘ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সমন্বয়ের চেষ্টা চলছে। আশা করছি, দ্রুততম সময়ের মধ্যে চলমান সংকটের সমাধান হবে।’

 

 

Lab Scan