অগ্নিঝরা মার্চ

মাসুদ রানা বাবু ॥ ১৯৭১ সালের ১২ মার্চ। এদিন পশ্চিম পাকিস্তানের ও স্থানীয় রাজনৈতিক নেতাদের সাথে শেখ মুজিবুর রহমান দফায় দফায় বৈঠক করেন। সকাল থেকে রাত পর্যন্ত তার ধানমন্ডি ৩২ নম্বর বাসায় এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছিল। বৈঠকের মাঝে মাঝে তিনি বারান্দায় এসে হাত নেড়ে শুভেচ্ছা জানান বিভিন্ন জায়গা থেকে আসা সংগ্রামী ছাত্র-জনতাকে। একই সঙ্গে সবাইকে নিজ নিজ এলাকায় গিয়ে সংগ্রাম পরিষদ গঠনের আহ্বান জানিয়েছিলেন। সেদিন বগুড়া জেলখানা ভেঙে ২৭ কয়েদি পালিয়ে গিয়েছিল। সারাদেশের চলচ্চিত্র প্রেক্ষাগৃহ বন্ধ রাখা হয়েছিল।
গণঐক্য আন্দোলনের প্রধান এয়ার মার্শাল (অব.) আসগর খান লাহোরে এক সংবাদ সম্মেলন করে পাকিস্তান সরকারকে পরামর্শ দিয়ে বলেন, পাকিস্তানকে রক্ষা করতে শেখ মুজিবুর রহমানের হাতে ক্ষমতা হস্তান্তর ছাড়া বিকল্প কোন পথ নেই। এ জন্য তিনি ইয়াহিয়াকে তাগিদ দিয়ে বলেন, হাতে সময় খুবই কম। সংখ্যাগরিষ্ঠ দলের প্রধানের সাথে বৈঠকের পরামর্শ দেন। রাওয়ালপিন্ডিতে এক সরকারি ঘোষণায় ২৩ মার্চ পাকিস্তান দিবসের নির্ধারিত কর্মসূচি বাতিল করতে বাধ্য হয়েছিল রেডিও পাকিস্তানের করাচি কেন্দ্রের প্রখ্যাত বাংলা খবর পাঠক সরকার কবীর উদ্দিন আন্দোলনের খবর প্রচারের নিয়ন্ত্রণ আরোপের প্রতিবাদে রেডিও পাকিস্তান বর্জন করেছিলেন। তার কর্মবর্জন অন্য সহকর্মীদের ওপর ব্যাপক প্রভাব পড়েছিল। শক্তি প্রয়োগের নীতি অব্যাহত থাকলে পূর্ব পাকিস্তানে বিচ্ছিন্নতার মনোভাব শক্তিশালী হবে বলে মন্তব্য করেছিলেন ন্যাপের মহাসচিব সিআর আসলাম। এইদিন তিনি এক বিবৃতিতে আরও বলেছিলেন- প্রেসিডেন্ট ইয়াহিয়ার উচিত, অবিলম্বে চারদফা দাবি মেনে নেয়া। পাকিস্তানের অখন্ডতা ও সংহতি রক্ষার জন্য পিপলস পার্টির পক্ষ থেকে সব ধরনের সহায়তা করার ঘোষণা দিয়েছিলেন দলটির চেয়ারম্যান জুলফিকার আলী ভুট্টো। লারকানা থেকে লাহোরে যাওয়ার পথে মুলতান বিমানবন্দরে তিনি এ ঘোষণা দেন।

ভাগ