৩৪ বছর পর বিমান দুর্ঘটনায় এত বাংলাদেশির প্রাণহানি

প্রায় ৩৪ বছর পর বিমানের বড় দুর্ঘটনার শিকার হলো বাংলাদেশ। এর আগে ১৯৮৪ সালে বাংলাদেশ বিমানের ফকার এফ-২৭-৬০০ মডেলের একটি বিমান বিধ্বস্ত হলে তখন যাত্রীসহ ৪৯ জন নিহত হয়েছে। এরপর বিভিন্ন সময়ে বিমান দুর্ঘটনায় পড়লেও একসঙ্গে এত মানুষের প্রাণহানি ঘটেনি। প্রায় ৩৪ বছর সোমবার (১২ মার্চ) নেপালে ইউএস বাংলার বিমান দুর্ঘটনায় যাত্রী ও ক্রুসহ ৫০ জন আরোহী নিহত হয়েছেন বলে নেপালের সেনা বাহিনী জানায়। নিহতদের মধ্যে ২৫ জন বাংলাদেশি বলেও জানা গেছে।
নেপাল টাইমস-এর খবরে জানানো হয়, সোমবার (১২ মার্চ) নেপালের ত্রিভুবন আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণের সময় স্থানীয় সময় দুপুর ২টা ২০ মিনিটে ইউএস-বাংলার ড্যাশ-৮ কিউ-৪০০ মডেলের বিমানটি বিধ্বস্ত হয়। বিমানের ৫০ আরোহীর প্রাণহানির খবর ইতোমধ্যে নেপাল আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমগুলোকে নিশ্চিত করেছে। বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ জানায়, যাত্রীদের মধ্যে ৩৭ জন পুরুষ, ২৭ জন নারী ও দুই জন শিশু। ত্রিভুবন বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ ও নেপাল সেনাবাহিনী উদ্ধার অভিযান চালাচ্ছে।
ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্স নিশ্চিত করেছে, ৭৮ জন ধারণে সক্ষম ওই বিমানে ৪ জন ক্রু ও ৬৭ যাত্রী মিলে ৭১ জন আরোহী ছিলেন। এর মধ্যে ৩৭ জন পুরুষ, ২৮ জন নারী ও দু’টি শিশু ছিল। এই যাত্রীদের মধ্যে ৩২ জন বাংলাদেশি, ৩৩ জন নেপালি, একজন চীনা ও একজন মালদ্বীপের নাগরিক।এছাড়া বিমানে চার জন বাংলাদেশি ক্রু ছিলেন। এরমধ্যে ২৫ জন বাংলাদেশি নিহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। এরআগে, বিমান দুর্ঘটনায় সর্বোচ্চ ৪৯ জনের প্রাণহানি ঘটে ১৯৮৪ সালে। ওই বছরের ৫ই আগস্ট বাংলাদেশ বিমানের ফকার এফ২৭-৬০০ মডেলের ছোট একটি বিমান চট্টগ্রাম ‌থে‌কে ঢাকায় আসে। রানওয়ে অবতরণের সময় বিমান বন্দরের খুব কাছেই বিধ্বস্ত হয় বিমানটি। দুর্ঘটনায় বাংলাদেশ বিমানের অভ্যন্তরীণ সে ফ্লাইটের ৪৫ জন যাত্রী ও ৪ জন ক্রুর সবাই নিহত হন। প্লেনটি চালাচ্ছিলেন বাংলাদেশের প্রথম মহিলা পাইলট কানিজ ফাতেমা রোকসানা। এর আগে ১৯৭২ সালের ১০ অক্টোবর প্রশিক্ষণ বিমান ডিসি-৩ বিমান বিধ্বস্ত হয়ে পাইলটসহ পাঁচজনের প্রাণহানি ঘটে। ১৯৭৯ সালের এছাড়া, ১৮ নভেম্বর সাভার বাজারে এফ ২৭-২০০ (এস২-এবিজি) দুর্ঘটনার শিকার হয়। ১৯৮০ সালের ৩ এপ্রিল সিঙ্গাপুর এয়ারপোর্ট থেকে ছেড়ে ১০০মিটার উচ্চতায় বিমানের ইঞ্জিন বিকল হলে বোয়িং ৭০৭-৩২০সি (ফ্লাইট এস২-এবিকিউ) রানওয়েতে ফিরে আসার সময় দুর্ঘটনার কবলে পড়ে। ১৯৯৭ সালের ২২ ডিসেম্বর এফ২৮-৪০০০ (এস২-এসইজে) ৮৯ জন ঢাকা থেকে সিলেট যাওয়ার সময় সিলেট ওসমানী বিমানবন্দরে রওনা হয়, কুয়াশার কারণে সিলেট বিমানবন্দরের অদূরে জরুরি অবতরণ করে। ২০০৪ সালের ৮ অক্টোবর এফ২৮-৪০০০ (এস২-এসইএইচ) ৭৯ জন যাত্রী নিয়ে ঢাকা থেকে সিলেটের ওসমানী বিমানবন্দরে বৃষ্টিপাতের কারণে পিচ্ছিল থাকায় রানওয়ে থেকে ছিটকে পড়ে। ২০০৫ সালের ১ জুলাই চট্টগ্রাম থেকে ডিসি১০-৩০ ইআর (এস২-এডিএন) ২১৬ জন যাত্রী নিয়ে ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম বিমানবন্দরে অবতরণের সময় হেলে পড়ে ও বিমানের ইঞ্জিনে আগুন ধরে যায়। ২০০৭ সালের ১২মার্চ বাংলাদেশ বিমানের এ ৩১০-৩০০ (এস২-এডিই) ২৩৬ জন যাত্রী নিয়ে দুবাই বিমানবন্দর থেকে রওনা হয়। এ সময় ল্যান্ডিং গিয়ার অকেজো হয়ে যাওয়ায় রানওয়ের শেষ প্রান্তে গিয়ে থেমে যায়। তবে এসব দুর্ঘটনায় কোনও হতাহতের ঘটনা ঘটেনি।

ভাগ