২ হাজার কোটি ডলারে সিএ টেকনোলজিস কিনছে ব্রডকম

মার্কিন বিজনেস সফটওয়্যার কোম্পানি সিএ টেকনোলজিস অধিগ্রহণে সম্মত হয়েছে চিপ নির্মাতা ব্রডকম। ব্যবসায় বৈচিত্র্য আনতে ১ হাজার ৮৯০ কোটি ডলারে প্রতিষ্ঠানটিকে কিনতে যাচ্ছে ব্রডকম। গত বুধবার মার্কিন চিপ নির্মাতা ব্রডকমের পক্ষ থেকে অধিগ্রহণ চুক্তির বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে। খবর রয়টার্স ও ব্লুমবার্গ।
গত বুধবার দিন শেষে সিএ টেকনোলজিসের শেয়ারদর ৩৭ দশমিক ২১ ডলার ছিল। ব্রডকম বলছে, সিএর বিনিয়োগকারীদের তারা শেয়ারপ্রতি ৪৪ দশমিক ৫০ ডলার পরিশোধ করবে, যা গত বুধবারের শেয়ারদরের চেয়ে ২০ শতাংশ বেশি।
বিশ্লেষকদের তথ্যমতে, সিএ অধিগ্রহণের জন্য ব্রডকমকে ঋণ নিতে হবে। এতে প্রতিষ্ঠানটির ঋণের বোঝা আরো বাড়বে। ৬ মে পর্যন্ত ব্রডকমের ঋণ ১ হাজার ৭৫০ কোটি ডলারে পৌঁছেছে।
সিএ টেকনোলজিস মেইনফ্রেম কম্পিউটারের সফটওয়্যার সরবরাহ করে অর্ধেকের বেশি রাজস্ব আয় করে। গত বছর সিএ পরিচালন মুনাফা বাবদ ১২০ কোটি ডলার আয় করেছে। একই সময়ে প্রতিষ্ঠানটি ৪২০ ডলার রাজস্ব আয় করেছে।
সিএ টেকনোলজিস অধিগ্রহণকে ব্রডকমের কৌশলগত বিজয় হিসেবে দেখা হচ্ছে। এর আগে ব্রডকম তার প্রতিদ্বন্দ্বী কোয়ালকম ইনকরপোরেশনকে অধিগ্রহণে ব্যর্থ হয়েছে। জাতীয় নিরাপত্তার জন্য যুক্তরাষ্ট্র ব্রডকমের কোয়ালকম অধিগ্রহণকে হুমকি মনে করেছে। এ কারণে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প কোয়ালকম অধিগ্রহণ চুক্তি আটকে দেন। এর ফলে ব্রডকম পরে প্রস্তাবিত চুক্তিটি পরিত্যক্ত ঘোষণা করে।
ব্রডকমের সিএ টেকনোলজিস অধিগ্রহণ সম্পন্ন করতে যুক্তরাষ্ট্র, ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) ও জাপানের নিয়ন্ত্রক সংস্থার অনুমোদন পেতে হবে। সিএ এবং ব্রডকমের পরিচালনা পর্ষদ এরই মধ্যে অধিগ্রহণ চুক্তির অনুমোদন দিয়েছে। এ চুক্তির মাধ্যমে ব্রডকম সফটওয়্যার ব্যবসায় আধিপত্য বিস্তারের সুযোগ পাবে।
মার্কিন সরকারের জাতীয় নিরাপত্তা প্যানেল ‘কমিটি অন ফরেন ইনভেস্টমেন্ট ইন দ্য ইউনাউটেড স্টেটস (সিএফআইইউএস)’ এবং সরকারের আন্তঃসংস্থার কাছ থেকে এবার অনুমোদন চাওয়া হবে কিনা, তা এখনো স্থির হয়নি বলে জানিয়েছে ব্রডকম। এসব সংস্থার কারণে কোয়ালকম অধিগ্রহণ চুক্তি আটকে গেছে। চলতি বছরের শুরুর দিকে ব্রডকম তাদের করপোরেট সদর দপ্তর সিঙ্গাপুর থেকে যুক্তরাষ্ট্রে স্থানান্তর করেছে। এর পরও প্রতিষ্ঠানটির কোয়ালকম অধিগ্রহণ চুক্তি আটকে দেয় যুক্তরাষ্ট্র।
বাজার গবেষণা প্রতিষ্ঠান গার্টনারের বিশ্লেষক মার্ভ অ্যাডরিন বলেন, অ্যাপ্লিকেশন ডেভেলপমেন্ট অ্যান্ড টেস্টিং, আইডেন্টিটি এবং অ্যাকসেস ম্যানেজমেন্ট সফটওয়্যারের মতো সিএর বেশকিছু ব্যবসা কার্যক্রমকে ব্রডকম তাদের ‘ওয়ান-স্টপ-শপ’ নির্মাণে ব্যবহার করতে পারবে।
প্রায় এক দশক আগে সিএ টেকনোলজিসের বিরুদ্ধে হিসাব জালিয়াতির অভিযোগ ওঠে। তখন এর প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) ছিলেন সঞ্জয় কুমার। ২০০৬ সালে আদালত তাকে ১২ বছরের জেল দেন। গত বছর তিনি মুক্তি পেয়েছেন।
স্মার্টফোন, কম্পিউটার ও নেটওয়ার্কিং সরঞ্জামের জন্য চিপ তৈরি করে ব্রডকম।
অন্যদিকে সিএ টেকনোলজিস মেইনফ্রেম ও বড় ধরনের সার্ভারে সফটওয়্যার সরবরাহ করে। সিএ ক্রমে ক্লাউড কম্পিউটিং ব্যবসায় প্রবেশ করছে। তবে সফটওয়্যার ব্যবসা সম্প্রসারণ অব্যাহত রাখতে চায়। সিএর সবচেয়ে বড় অংশীদার কারিয়েল প্রপার্টি গ্রুপ এজি। সিএ টেকনোলজিসে এ প্রতিষ্ঠানটির ২৫ শতাংশ শেয়ার রয়েছে।
ব্রডকমের চিপ ব্যবসা ক্রমে প্রতিযোগিতার মুখে পড়ছে। কারণ অ্যাপল ও স্যামসাংয়ের মতো প্রধান ক্রেতা অন্য প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে চিপ কিনছে। এ কারণে চিপ ব্যবসায় টিকে থাকতে কোয়ালকমকে অধিগ্রহণে আগ্রহ দেখায় ব্রডকম। তবে গত মার্চে ডোনাল্ড ট্রাম্প সেমিকন্ডাক্টর খাতের বৃহৎ চুক্তিটি আটকে দেন।
গত বছর ৫৫০ কোটি ডলারে নেটওয়ার্কিং সরঞ্জাম নির্মাতা ব্রোকেড কমিউনিকেশন্স সিস্টেমসকে অধিগ্রহণ করে ব্রডকম। চিপ ব্যবসার পাশাপাশি ডাটা সেন্টার পণ্যবাজারে দৃঢ় অবস্থান তৈরির লক্ষ্যে ব্রোকেডকে অধিগ্রহণ করে ব্রডকম।
সিএ টেকনোলজিস অধিগ্রহণ বিষয়ে ব্রডকমের প্রধান আর্থিক কর্মকর্তা টম ক্রুজ বলেন, সিএর ব্যবস্থাপনা বিভাগ ও টিমের সঙ্গে কাজ করতে পারবেন, এটা ভেবে তারা খুবই উত্ফুল্ল। চলতি বছরের শেষ প্রান্তিক (অক্টোবর-ডিসেম্বর) নাগাদ তিনি সিএ অধিগ্রহণ চুক্তি সম্পন্নের প্রত্যাশা করছেন।

ভাগ