হিন্দুত্ববাদীদের চাপে নতজানু ভারতের সেন্সর বোর্ড, নাম বদলে যাচ্ছে ‘পদ্মাবতী’র

কট্টর হিন্দু সংগঠনগুলিরই নৈতিক জয় হল! ‘পদ্মাবতী‘ নিয়ে ভারতের সিবিএফসি যা সিদ্ধান্ত নিল, তাতে এ কথা বলা যেতেই পারে। সঞ্জয় লীলা বানশালিকে জানিয়ে দেওয়া হল, ছবির মুক্তি চাইলে পালটে ফেলতে হবে ছবির নাম।
অর্থাৎ পরিচালকের স্বপ্নের প্রজেক্ট আর ‘পদ্মাবতী’ নাম নিয়ে নয়, মুক্তি পাবে ‘পদ্মাবত’ হিসেবে।
ইতিহাসকে বিকৃত করা হয়েছে পরিচালক বানশালির ‘পদ্মাবতী’ ছবিতে। এমন অভিযোগ তুলেই সরব হয়েছিল বিভিন্ন হিন্দু সংগঠনগুলি। রাজস্থানে ছবির শুটিং থেকে কর্ণি সেনার তাণ্ডব শুরু হয়েছিল। তারপর একে একে পোস্টার পুড়িয়ে দেওয়া, সেটে আগুন লাগিয়ে দেওয়ার মতো ঘটনা সামনে আসে। ভারতজুড়ে পরিস্থিতি এতটাই উত্তপ্ত হয়ে ওঠে যে পর্যটকদের জন্য বন্ধ হয়ে যায় চিতোর দূর্গও। প্রতিবাদের আঁচ গিয়ে পড়ে দীপিকা পাড়ুকোনের উপরও। নায়িকার শিরোশ্ছেদ করার হুমকিও আসে।
প্রতিবাদ, বিক্ষোভ থামাতে আসরে নেমেছিলেন পরিচালক স্বয়ং।
তিনি জানিয়েছিলেন, ছবিতে ইতিহাসকে বিকৃত করা হয়নি। পাশাপাশি তিনি এও জানান, হুবহু ইতিহাস নির্ভর নয়। বরং সুফি কবি মালিক মোহাম্মদ জায়সির কবিতা অবলম্বনেই তৈরি হয়েছে ‘পদ্মাবতী’। কিন্তু তাতেও পরিস্থিতি পালটায়নি। উলটো লাগাতার প্রতিবাদে নির্ধারিত দিনে ছবি মুক্তি রুখে দিতে বাধ্য হয় সিবিএফসি।
অবশেষে গত বৃহস্পতিবার সেন্ট্রাল বোর্ড অফ ফিল্ম সার্টিফিকেশনের পর্যবেক্ষক কমিটির বৈঠকে ‘পদ্মাবতী’ নিয়ে নেওয়া হল সিদ্ধান্ত। জানানো হয়, ইউএ সার্টিফিকেট নিয়ে মুক্তি পাবে ছবি। আর সেই সঙ্গে পালটে ফেলতে হবে ছবির নাম। চিতোরের রানি পদ্মাবতীকে নিয়ে তৈরি ছবির নাম হবে ‘পদ্মাবত’। এর পাশাপাশি ছবিতে আরও কিছু কাটছাঁট করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ২৬টি সিনে কাঁচি চালাতে বলেছে বোর্ড। নির্মাতাদের তরফে সব শর্তপূরণ হলে তবেই মিলবে চূড়ান্ত সার্টিফিকেশন।
ছবি বন্ধের দাবি তুলে যেভাবে হিন্দু সংগঠনগুলি নিজেদের ক্ষোভ উগরে দিয়েছিল, তা মাথায় রেখেই এই পরিবর্তনগুলি আনা হচ্ছে বলে জানা যাচ্ছে। তবে ছবি মুক্তির দিন এখনও পর্যন্ত চূড়ান্ত হয়নি। শোনা গিয়েছিল আগামী ৫ জানুয়ারি দীপিকার জন্মদিনেই মুক্তি পেতে পারে ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপটে তৈরি ছবিটি। নাহলে ১২ জানুয়ারিও ছবি মুক্তির চেষ্টা করা হচ্ছে।

ভাগ