সুযোগ পেয়েই স্টেডিয়াম মাতালেন সৌদি নারীরা

প্রথমবারের মতো স্টেডিয়ামে গিয়ে খেলা দেখলেন সৌদি নারীরা। ১২ জানুয়ারি তাই সৌদি নারীদের কাছে ইতিহাস হয়ে থাকল। দেশটির ইতিহাসে আর কখনো নারীদের এই স্বাধীনতা ছিল না। সম্প্রতি সৌদি যুবরাজ বিন সালমান দেশটিতে ২০৩০ সালের মধ্যে যে সংস্কার কর্মসূচি হাতে নিয়েছেন তার অংশ হিসেবেই নারীদের স্টেডিয়ামে গিয়ে খেলা দেখার অনুমতি দেওয়া হয়। ওই সংস্কার কর্মসূচির অংশ হিসেবে নারীদের গাড়ি চালানোর অনুমতিও দেওয়া হয়।মার্কিন গণমাধ্যম নিউইয়র্ক টাইমস বলেছে, শুক্রবার স্থানীয় দুটি দল আল-আহলি ও আল-বাতিনের মধ্যকার ফুটবল খেলা উপভোগ করেন দেশটির নারীরা। জেদ্দার রেড সি শহরের স্টেডিয়ামে এ ফুটবল খেলা অনুষ্ঠিত হয় স্থানীয় সময় বিকাল ৫টায়।আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমগুলো জানায়, দেশটির স্টেডিয়ামগুলোতে নারীদের জন্য আলাদা বিশ্রামাগার, প্রবেশপথ ও পার্কিং সুবিধা রাখা হয়েছে। পুরুষদের ভিড় এড়াতে নারীদের জন্য রয়েছে পৃথক ফ্যামিলি সেকশন।চলতি মাসে আরও দুটি ফুটবল ম্যাচে দেশটির নারী দর্শকদের দেখা যাবে। শনিবার জেদ্দার কিং আব্দুল্লাহ স্পোটর্স সিটিতে আল-হিলাল বনাম আল-ইতিহাদ এবং ১৮ জানুয়ারি দাম্মামের প্রিন্স মোহাম্মদ বিন ফাহদ স্টেডিয়ামে আল-ইত্তেফাক বনাম আল-ফয়সালির মধ্যকার ম্যাচে নারী দর্শকদের গ্যালারিতে দেখা যাবে।বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শুক্রবার ফটবল ম্যাচের আগে দেশটিতে প্রথমবারের মতো শুধু নারী ক্রেতাদের জন্য একটি গাড়ির শো-রুম উদ্বোধন করা হয়েছে, যা নারীদের স্বাধীনতা দেওয়ার আরেকটি চিহ্ন। শুক্রবার স্টেডিয়ামে খেলা দেখতে আসা ৩২ বছর বয়সী লামিয়া খালিদ নাসের বার্তা সংস্থা এএফপিকে বলেন, তিনি এ ঘটনায় গর্বিত।তিনি বলেন, ‘এ ঘটনা প্রমাণ করে যে, আমরা একটি সমৃদ্ধ ভবিষ্যতের দিকে যাচ্ছি। ঐতিহাসিক এই পরিবর্তনের সাক্ষী হতে পারায় আমি গর্বিত।’ জেদ্দার অপর বাসিন্দা রুয়াদা আলি কাসেম বলেন, ‘এই পরিবর্তনে আমি খুবই আনন্দিত ও গর্বিত।’এদিকে, স্টেডিয়ামে নারী দর্শকদের স্বাগত জানান সরকারের নিয়োগ করা নারী সহকারীরা। দর্শক ও সহকারী উভয়ের পরনে ঐতিহ্যবাহী কালো ঢিলা গাউন ছিল।
ভাগ