সাতক্ষীরায় বাবা’র দায়ের করা অপহরণ মামলা মিথ্যে বলে দাবি মেয়ের

শেখ মাসুদ হোসেন, সাতক্ষীরা ॥ সাতক্ষীরায় বাবা’র দায়ের করা অপহরণের মামলা মিথ্যে দাবি করে আশাশুনি উপজেলার চেচুয়া গ্রামের ইউসুফ আলী সরদারের মেয়ে মোছাঃ রীমা আক্তার শিউলী জানিয়েছে, সে ভালবেসে স্বেচ্ছায় মোঃ আব্দুল্লাহ সানাকে বিয়ে করে স্বামীর সাথে ঢাকায় একটি গার্মেন্টসে চাকুরি করছে। তাকে কেউ অপহরণ করেনি। বৃহস্পতিবার দুপুরে সাতক্ষীরা প্রেসকাবে এক সংবাদ সম্মেলনে হাজির হয়ে সাংবাদিকদের একথা জানান রীমা আক্তার শিউলী।
লিখিত বক্তব্যে শিউলী জানান, আমি সাবালিকা বিধায় জীবন সর্ম্পকে আমার যথেষ্ট জ্ঞান হয়েছে। ঘাষ্টিয়া গ্রামের জামাল সানার ছেলে আব্দুল্লাহ সানা ও আমি পরষ্পরকে ভালবাসি। আব্দুল্লাহ ও সাবালক হওয়ায় আমরা উভয়ে বিয়ে করা সিদ্ধান্ত নেই। বিষয়টি বাবাকে জানালে তিনি আমার প্রস্তাবে রাজি না হয়ে ইচ্ছার বিরুদ্ধে অন্যত্রে আমার বিয়ে ঠিক করেন। সে কারনে আমার ভবিষ্যৎ জীবনের কথা ভেবে সম্পূর্ন নিজের ইচ্ছায় আমি আব্দুল্লাহ সানার সঙ্গে ঢাকায় চলে যাই এবং ইসলামিক শরীয়ত মোতাবেক রেজিঃ কাবিন মূলে পচাত্তর হাজার টাকার দেন মোহর ধার্য্যে বিয়ে বন্ধনে আবদ্ধ হয়ে স্বামী-স্ত্রী হিসাবে বসবাস শুরু করি। পরে আমরা উভয়ে ঢাকার পেনিয়ন গ্রুফ গার্মেন্টেসে চাকুরী নেই।
তিনি অভিযোগ করে বলেন, আমি স্বেচ্ছায় বাড়ি থেকে চলে আসার পরও আমার বাবা ২০১৭ সালের ২৩ ডিসেম্বর সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে আমার ইচ্ছার বিরুদ্ধে আমাকে জোরপূর্বক অপহরণ করা হয়েছে উল্লেখ করে ২৯ ডিসেম্বর আশাশুনি থানায় একটি অপহরণ মামলা দায়ের করেন। মামলায় আমার স্বামী আব্দুল্লাহ সানা, ভাসুর আজিজুল সানা, শশুর জামাল সান, শাশুড়ি মারুফা বেগম, ভাসুরের স্ত্রী অসমা খাতুনকে আসামী করা হয়েছে। তারা কেউ আমাকে অপহরণ করেনি। রাগের বশতঃ আমারা বাবার দায়ের করা মামলায় বর্ণিত অভিযোগ সম্পূর্ন মিথ্যে। আমি সম্পূর্ন নিজের ইচ্ছায় বাবার বাড়ি থেকে চলে গিয়ে আব্দুল্লাহ সানার সঙ্গে বিয়ে বন্ধনে অবদ্ধ হয়ে বর্তমানে সুখে শান্তিতে বসবাস করছি। তিনি স্বামী -শশুরসহ তার পরিবারের অন্যান্য সদস্যদের নামে দায়ের করা মিথ্যে অপহরণের মামলা প্রত্যাহারের জন্য সাতক্ষীরা পুলিশ সুপারসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরী হস্তক্ষেপ কামনা করেন।

ভাগ