সাগর-রুনি হত্যা মামলা: উচ্চ আদালতকে হস্তক্ষেপ করার দাবি

সাংবাদিক দম্পতি সাগর-রুনি হত্যা মামলা তদন্তে দেশের আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ব্যর্থতার কারণ জানতে উচ্চ আদালতের হস্তক্ষেপের দাবি জানিয়েছেন সাংবাদিক নেতারা। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ব্যর্থ হলে তাদের প্রকাশ্যে তা বলার দাবিও তুলেছেন তারা। রবিবার (১১ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে (ডিআরইউ) আয়োজিত সমাবেশে বক্তব্য রাখেন সাংবাদিকদের বিভিন্ন সংগঠনের নেতারা। অবিলম্বে হত্যাকারীদের চিহ্নিত করে বিচারের দাবি জানিয়েছেন তারা।
ডিআরইউ সভাপতি মো. সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘গত ছয় বছরে তদন্ত প্রতিবেদন দেওয়ার কথা বলে তদন্ত কর্মকর্তা কেবল সময়ক্ষেপণ করেছেন। কিন্তু তদন্তে কোনও অগ্রগতি নেই। উচ্চ আদালতকে এ বিষয়ে হস্তক্ষেপের দাবি জানিয়েছেন আমাদের সাংবাদিক নেতারা। আমারও দাবি, উচ্চ আদালত বিভিন্ন বিষয়ে স্বপ্রণোদিত হয়ে রুল জারি করে। উচ্চ আদালত জানতে চাইতে পারে, কেন তদন্ত সংস্থা ব্যর্থ হচ্ছে।’ সংগঠনটির সভাপতির প্রশ্ন, ‘কেন আমাদের সিআইডি, ডিবি ও র‌্যাব ব্যর্থ?’ তিনি মনে করেন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ব্যর্থতার কারণে সরকারও ব্যর্থ হচ্ছে। তার কথায়, ‘রাষ্ট্রের নাগরিকদের খুনের ঘটনার বিচার হবে না, এটা কোনও কল্যাণ-রাষ্ট্র হতে পারে না।’ দীর্ঘ সময় পর মানবতাবিরোধী অপরাধী ও বঙ্গবন্ধুর খুনিদের বিচারের উদাহরণ টেনে ডিআরইউ’র সভাপতি আশাবাদী কণ্ঠে বলেন, ‘দীর্ঘদিন পর যদি এসব খুনের বিচার হতে পারে, তাহলে সাগর-রুনি হত্যার বিচারও একদিন হবে। তারা কেন কপালে ব্যর্থতার তকমা নিচ্ছেন? আমরা জানতে চাই। যদি র‌্যাব ব্যর্থ হয়ে থাকে, তাহলে অন্য কোনও তদন্ত সংস্থাকে তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হোক।’
ডিআরইউ’র সভাপতির ভাষ্য, ‘যতদিন বিচার না হবে, আমরা আন্দোলন থেকে সরবো না। আমরা বিচার চেয়েই যাবো। সাগর-রুনি হত্যার বিচার একদিন না একদিন হতেই হবে।’ সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক শুক্কুর আলী শুভর কণ্ঠেও একই সুর, ‘আমরা বিচার না পাওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাবো। এখানে কোনও রাজনীতির সুযোগ নেই। আমরা সাংবাদিক দম্পতি হত্যার বিচারের দাবি জানাবোই।’ এর রেশ ধরে সাগর-রুনি হত্যায় জড়িতদের বিচারের দাবিতে শুরু থেকে ডিআরইউ আন্দোলন করে আসছে বলে জানান সংগঠনটির সাবেক সভাপতি সাখাওয়াত হোসেন বাদশা। আগামীতেও একই দাবিতে আন্দোলন করে যেতে চান তারা।
জাতীয় প্রেসক্লাবের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক ইলিয়াস খান মনে করিয়ে দিলেন হত্যাকারীদের দ্রুত চিহ্নিত করে গ্রেফতারে তখনকার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সাহারা খাতুন ও আইজিপির আশ্বাস। কিন্তু তাদের প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন হয়নি। খুনিরা আজও গ্রেফতার হয়নি। এই সাংবাদিক দম্পতির খুনিদের অবিলম্বে গ্রেফতারের দাবি জানান তিনি। একই দাবি জানিয়ে ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের সাবেক সাধারণ সম্পাদক কুদ্দুস আফ্রাদ মনে করেন, সাগর-রুনি হত্যার হত্যা মামলার তদন্ত এখনও শেষ না হওয়া খুবই দুঃখজনক। এছাড়াও বক্তব্য রাখেন ডিআরইউ’র ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়ন, বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়ন ও জাতীয় প্রেসক্লাবের নেতারা। ২০১২ সালের ১১ ফেব্রুয়ারি সাংবাদিক দম্পতি সাগর সারোয়ার ও মেহেরুন রুনি ঢাকায় পশ্চিম রাজাবাজার এলাকায় নিজেদের বাসায় নির্মমভাবে খুন হন। ঘটনার সময় বাসায় থাকা তাদের একমাত্র শিশুসন্তান মেঘ বেঁচে যায়। এখন তার বয়স প্রায় ১২ বছর।

ভাগ