শ্যামনগরে গাবুরার ৭০ ভাগ মানুষ সুন্দরবনের বিকল্প কর্মসংস্থান চান

শ্যামনগর (সাতক্ষীরা) সংবাদদাতা ॥ সাতীরা জেলার শ্যামনগরে সুন্দরবনের গা ঘেঁষা একটি দ্বীপ গাবুরা ইউনিয়ন। ইউনিয়নটি চারপাশে নদীবেষ্টিত। এখানকার অধিবাসীরা অধিকাংশই অসহায় ও হতদরিদ্র। জীবন-জীবিকার তাগিদে সকাল বেলায় ডিঙ্গি নিয়ে ছুটতে হয় সুন্দবনের দিকে। ইউনিয়নের শতকরা ৭০ ভাগ নর-নারী সুন্দরবনের উপর নির্ভরশীল। ফলে বন্যপ্রাণির হামলার শিকার হয়ে মৃত জেলে, বাওয়ালী, মৌয়ালের সংখ্যা অন্যান্য ইউনিয়ন থেকে অনেক গুণ বেশি ।
স্বামী মারা যাওয়ার পর অনেকের ঠাঁই হয়নি শ্বশুর বাড়িতে। সন্তান প্রতিপালন, অন্ন-বস্ত্র, বাসস্থানের সমস্যা নিয়ে দুর্বিষহ জীবন-যাপন করছেন এসব ভাগ্যাহত নারী। তাদের ছেলে মেয়েদের পড়ালেখা শেখানোর কোন সুযোগ নেই। তাদের সন্তানরা মায়ের সাথে নদ-নদীতে যায় মাছ ধরতে। সম্প্রতি তারা জীবিকার তাগিদে খোলপেটুয়া নদীতে রেণু ধরতে গেলে কোস্টগার্ডের সদস্যরা খোলপেটুয়া নদীতে হানা দিয়ে তাদের জালগুলো নদী থেকে তুলে নিয়ে আসে। তাদের কাকুতি আর আহাজারি দেখে অনেকে। জালগুলো ছেড়ে দিতে অনেকে অনুরোধ করলেও কে শোনে কার কথা। অসহায় মানুষের জালগুলো আগুন দিয়ে পুড়িয়ে দেওয়া হয়েছে।
সুন্দরবনের উপর চাপ কমাতে এতদাঞ্চলের বননির্ভরশীল ব্যক্তিদের বিকল্প কর্মসংস্থানের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে এনজিও সংস্থা। এসব বিধবা নারীর বিধবা ভাতা দেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট ইউপি চেয়ারম্যান, এনজিও সংস্থা, সমাজসেবা কর্মকর্তা, মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা সমন্বয়ে কাজ করছে বলে জানা যায়। সচেতন মহলের অভিমত বেসরকারি সংস্থার পাশাপাশি সরকারি উদ্যোগে বনজীবিদের বিকল্প কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করলে এলাকার মানুষ উপকৃত হবে। একই সাথে নদ-নদী ও সুন্দরবনের উপর বনজীবিদের চাপ কমবে অন্যদিকে সুন্দরবন থাকবে সুরক্ষিত।

ভাগ