যশোরে চোরাচালান পণ্য ধরিয়ে দেয়ার অভিযোগ এনে ফেরিওয়ালাকে নির্যাতন

স্টাফ রিপোর্টার ॥ যশোরে পুলিশ দিয়ে চোরাচালান পণ্য ধরিয়ে দেওয়ার অভিযোগ এনে জাহাঙ্গীর হোসেন নামে এক ফেরিওয়ালাকে দুদিন ধরে নির্যাতন করেছেন আব্বাস আলী নামে এক চোরাচালানী। তাকে বৈদ্যুতিক শক দিয়ে ও মারধর করে তিনটি সাদা স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর করিয়ে নেওয়ার অভিযোগ করা হয়েছে। এ ঘটনায় জাহাঙ্গীর হোসেন বাদী হয়ে বৃহস্পতিবার কোতয়ালি মডেল থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।
অভিযোগে জানা গেছে, যশোর শহরের বারান্দী নাথপাড়ার মৃত আব্দুল জব্বারের ছেলে জাহাঙ্গীর হোসেন বিভিন্ন ধরনের ফল ফেরি করে বিক্রি করে থাকেন। অপরদিকে অভিযুক্ত সদর উপজেলার পতেঙ্গালী গ্রামের আব্বাস আলী বর্তমানে শহরের আর এন রোডের ডাচ-বাংলা ব্যাংকের সামনের একটি বাড়িতে ভাড়া থাকেন। তবে পেশায় আব্বাস আলী একজন চোরাচালানী। গত ২১ ডিসেম্বর রাত ১০টার দিকে আব্বাস আলী তার ব্যবহৃত ০১৯১৩-৩৩৫২৯৬ নম্বর মোবাইল ফোন থেকে জাহাঙ্গীরকে ফোন করেন রাস্তায় আসার জন্য। রাস্তায় এসময় আব্বাসের সাথে আরো ৫/৭ জন ছিলেন। তারা জাহাঙ্গীরকে ধরে রেলস্টেশন এলাকায় নিয়ে যায় এবং সেখানে একটি বাড়িতে তাকে আটকে রাখেন। তাকে বলা হয়, ‘আব্বাসের চোরাচালান পণ্য পুলিশকে তথ্য দিয়ে ধরিয়ে দিয়েছিস।’ এজন্য তার কাছে ক্ষতিপূরণ দাবি করা হয়। কিন্তু ক্ষতিপূরণ দিতে রাজি না হওয়ায় তাকে মারধর করা হয়। এছাড়া পরে গোহাটা রোডের জাতীয় পার্টি অফিস ভবনের ছাদের ওপর নিয়ে শরীরে বৈদ্যুতিক শক দেয়া হয়। একই সাথে তিনটি সাদা স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর করিয়ে নেয়া হয়। তাছাড়া আব্বাসের চাহিদামত টাকা দিতে রাজি না হওয়ায় জাহাঙ্গীরের ভাই মুক্তার আলীর হাটচান্নি মার্কেটের কাপড়ের দোকান বন্ধ করে দেয়া হয়। মুক্তার আলীর দোকানে বর্তমানে আব্বাস আলীর দুটি তালা লাগানো আছে। গত ২২ ডিসেম্বর থেকে এ পর্যন্ত দোকানটি বন্ধ রয়েছে।

ভাগ