যশোরে এক উপ-সচিবের ভাইকে আটক করে হাতিয়ে নেয়া ৪০ হাজার টাকা ফেরত দিল পুলিশ

স্টাফ রিপোর্টার ॥ যশোরে একজন উপ-সচিবের ভাইকে তার প্রাইভেটকারসহ পুলিশ শ্বশুরবাড়ি এলাকা থেকে ধরে নিয়ে যাওয়ার ঘটনা ব্যাপক আলোচিত হচ্ছে। তাকে ধরে নিয়ে যাওয়ার দু’ঘন্টা পর পুলিশ ছেড়েও দেয়। তার কাছ থেকে ৪০ হাজার টাকা নেয়া হয়েছিলো বলে প্রচার রয়েছে। যা হজম করতে না পারায় ফিরিয়ে দেয়া হয়েছে। অবশ্য পুলিশের দাবি, একটি ইনফরমেশনের প্রেক্ষিতে গাড়িসহ তাকে নিয়ে আসা হয়। কিন্তু ইনফরমেশন সঠিক না হওয়ায় তাকে ছেড়ে দেয়া হয়েছে। আর টাকা নেওয়ার কথা সত্য নয়।
একাধিক সূত্র জানায়, শার্শা উপজেলার কাগজপুকুর এলাকার মৃত জালাল উদ্দিনের ছেলে আব্দুর রউফ মিয়া এলজিআরডি মন্ত্রাণালয়ের উপ-সচিব। তার ভাই আব্দুর রহমান ও গাড়িচালক ফারুক হোসেনকে গত ১০ জানুয়ারি বুধবার বিকেলে যশোর শহরের নাজির শংকরপুর এলাকা থেকে ধরে নিয়ে আসেন কোতয়ালি মডেল থানা পুলিশের এএসআই আমিনুল ইসলাম ও এএসআই ইকবাল মাহমুদ। নাজির শংকরপুরে আব্দুর রহমানের শ্বশুরবাড়ি। তার শ্বশুরের নাম গাজী আরমান কাশেম। আব্দুর রহমান ও ফারুক হোসেনকে তাদের প্রাইভেটকারসহ নিয়ে আসার দু’ঘন্টা পর ছেড়ে দেয় পুলিশ। আব্দুর রহমানের একজন ভাই উপ-সচিব এ বিষয়টি জানতে পেরে তাকে পুলিশ ছেড়ে দেয়। শহরের চৌরাস্তা এলাকা থেকে তাদের ছেড়ে দেয়া হয়। তবে অভিযোগ রয়েছে, পুলিশ আব্দুর রহমানের কাছে থাকা ৪০ হাজার টাকা নিয়ে নেয়। যা পরদিন ফিরিয়ে দিয়ে আসে। এ বিষয়টি জানাজানি হওয়ায় তোলপাড় শুরু হয়েছে। অবশ্য আব্দুর রহমান এ বিষয়ে পুলিশের উর্ধ্বতন মহলে কোন অভিযোগ করেননি বলে জানা গেছে।
এদিকে যোগাযোগ করা হলে আব্দুর রহমান জানান, তিনি সিঅ্যান্ডএফের ব্যবসা করেন। এছাড়া তার অন্যান্য ব্যবসা রয়েছে। তিনি ঢাকা থেকে একটি প্রাইভেটকার নিয়ে এসেছেন। ওই গাড়িসহ তাকে এবং তার চালক ফারুককে পুলিশ নিয়ে যায়। ‘কিছু জিজ্ঞাসাবাদ’ করা হবে এমন কথা বলে তাদের নিয়ে যাওয়া হয়। কিন্তু পুলিশ বলেনি কী বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করবে। এরপর দু’ঘন্টা পর তাদের ছেড়ে দেয় পুলিশ। তবে শহরের কোথায় তাদের ছেড়ে দেয়া হয় তা মনে নেই। পুলিশ ৪০ হাজার টাকা নিয়েছিলো এমন প্রচার সম্পর্কে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, পরদিন ফিরিয়ে দিয়ে গেছে।
অপরদিকে যোগাযোগ করা হলে এএসআই আমিনুল ইসলাম বলেন, গাড়িতে ফেনসিডিল আছে তার সহকর্মী ইকবাল মাহমুদের তথ্যের ভিত্তিতে তাদেরকে নিয়ে এসেছিলেন। কিন্তু বিষয়টি সঠিক নয় জানতে পেরে চৌরাস্তায় বাটারফাই শো-রুমের সামনে ২০ মিনিট পর তাদের ছেড়ে দেয়া হয় সম্মানের সাথে। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, তার (আব্দুর রহমান) কাছ থেকে কোন টাকা নেয়া হয়নি। উল্টো তাকে চা পান করিয়ে পাঠিয়ে দেয়া হয়েছে। অপরদিকে এএসআই ইকবাল মাহমুদ জানান, বেনাপোল পোর্ট থানায় চাকরি করার সময় আব্দুর রহমানের সাথে তার পরিচয় হয়। দুজনের মধ্যে সম্পর্ক ভালো। সম্পর্কের কারণে ডেকে এনে তারা চা পান করেছেন মাত্র।

ভাগ