যশোরে ইজিবাইক ব্যবসায়ীরা চাঁদাবাজদের অত্যাচারে অতিষ্ঠ

স্টাফ রিপোর্টার ॥ দেশের দক্ষিণাঞ্চলের ‘ইজিবাইক পল্লী’ হিসেবে খ্যাত যশোর উপশহরের ইজিবাইক ব্যবসায়ীরা ভাল নেই। চাঁদাবাজ আর ধান্ধাবাজদের অত্যাচারে তারা আজ অতিষ্ঠ। এই অত্যাচার থেকে বাঁচতে কেউ কেউ ব্যবসা গুটিয়ে নেয়ার চিন্তা করছেন। তবে বেশিরভাগ ব্যবসায়ীর মন্তব্য, চাঁদাবাজদের বিরুদ্ধে এবার তারা কঠোর হবেন।
প্রায় দেড় যুগ আগে যশোর উপশহরে (উপশহর বিআরটিসি বাস ডিপো এলাকা) ব্যাটারিচালিত ইজিবাইকের দোকান গড়ে ওঠে। প্রথমদিকে দু চারটি দোকানের দেখা মিললেও আজ এটি দক্ষিণাঞ্চলের সর্ববৃহৎ ইজিবাইকের মোকাম। এখান থেকে যশোরের পাশাপাশি নড়াইল, ঝিনাইদহ, মাগুরা, চুয়াডাঙা, কুষ্টিয়া, মেহেরপুর, ফরিদপুর, রাজবাড়িসহ উত্তরবঙ্গের জেলাগুলোর ক্রেতারাও কেনাকাটা করেন। দামে কম ও আরামদায়ক এই ইজিবাইক আমদানি করা হয় চায়না থেকে। বৈধ এ ব্যবসার মাধ্যমে সরকার মোটা অংকের রাজস্ব আয় করে। তবে বর্তমান সময়ে ইজিবাইকের সর্ববৃহৎ এই মোকাম থেকে কেউ কেউ ব্যবসা গুটিয়ে নেয়ার পরিকল্পনা করছেন। কী কারণে তাদের এই সিদ্ধান্ত ? এমন প্রশ্নের জবাবে মিলেছে চাঁদাবাজ আর ধান্ধাবাজদের কথা। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ব্যবসায়ীরা জানান, সম্প্রতিকালে মোবাইল ফোনে নানাভাবে হুমকি-ধামকি দিচ্ছে একশ্রেণীর লোক। এদের বেশিরভাগ নিজেদের ‘সাংবাদিক’ বলে পরিচয় দিচ্ছে। এরপর তারা ইজিবাইক, ব্যাটারি ইত্যাদি সম্পর্কে নানা কল্পকাহিনী ও অভিযোগ তুলে ব্যবসায়ীদের ওপর চাপ প্রয়োগ করছে। এক পর্যায়ে পত্রিকায় সংবাদ প্রকাশের ভয় দেখিয়ে কৌশলে দাবি করছে চাঁদা। ফোনে তারা নিজেদেরকে বড় মাপের সাংবাদিক এমনকী আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী ও কাস্টমসের সাথে খাতিরের কথা বলে ব্যবসায়ীদের মাঝে ভীতির সৃষ্টি করছে। মাঝেমধ্যে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী দিয়ে অভিযানেরও ভয় দেখানো হচ্ছে। ব্যবসায়ীরা আরও জানান, এদের দৌরাত্ম্যে ব্যবসা করা কঠিন হয়ে পড়েছে। কেউ কেউ ব্যবসা গুটিয়ে নেয়ার চিন্তা করছেন। এদিকে ব্যবসায়ীদের একটি সূত্র জানায়, দেশের দক্ষিণাঞ্চলের সর্ববৃহৎ এই ইজিবাইকের মোকাম তারা ধ্বংস হতে দেবেন না। প্রয়োজনে তারা কঠোর হবেন। ব্যবসায়ীরা বলছেন, চাঁদাবাজরা কারো ওপর অত্যাচার-জুলুম করলে তাদের ধরে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে তুলে দেয়া হবে। এজন্য তারা সকল ব্যবসায়ীকে সতর্ক থাকতে পরামর্শ দিয়েছেন।

ভাগ