মুনাফার অনিশ্চয়তা নিয়েই বছরে ব্যয় ২০ হাজার কোটি ডলার

বিশ্বব্যাপী পঞ্চম প্রজন্মের নেটওয়ার্ক সেবা ফাইভজির বাণিজ্যিক ব্যবহার প্রচলনে ব্যাপক পরিসরে কাজ চলছে। সংশ্লিষ্ট প্রযুক্তি উন্নয়ন ও বিদ্যমান নেটওয়ার্ক ব্যবস্থা হালনাগাদে মোবাইল ফোন কোম্পানি, ডিভাইস নির্মাতা ও সফটওয়্যার ডেভেলপারদের বছরপ্রতি গবেষণা বাবদ মূলধন ব্যয় হবে ২০ হাজার কোটি ডলার। তবে ফাইভজির বাণিজ্যিক ব্যবহার শুরু হলেও সেবাটি থেকে মুনাফা কেমন হবে, তা নিয়ে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। বিদ্যমান নেটওয়ার্ক ব্যবস্থা ফাইভজিতে হালনাগাদ করতে যে ব্যয় হবে, তার বিপরীতে এ খাতের প্রতিষ্ঠানগুলোর মুনাফা করার সুযোগ খুব কম। খবর বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড।
বৈশ্বিক ওয়্যারলেস প্রযুক্তি খাতের প্রকৌশলীদের স্বপ্ন, ভবিষ্যৎ মোবাইল নেটওয়ার্ক ব্যবস্থা গাড়ি নিয়ন্ত্রণ ও বাসার রেফ্রিজারেটরের সঙ্গে মুদি দোকানের সংযোগ স্থাপনের মতো গুরুত্বপূর্ণ কাজ করবে। পাশাপাশি নির্ভরযোগ্য ও দ্রুতগতির ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেট সংযোগ সেবা সরবরাহে সহায়তা করবে, যা কেবল কোম্পানি নির্ভরতা কমাবে।
বিশ্লেষকদের তথ্যমতে, ফাইভজি নিয়ে যে উচ্চকাঙ্ক্ষা, তা নিয়ে সফল হলেও বড় অংকের বিনিয়োগের বিপরীতে মুনাফা করা বেশ কঠিন হবে। এর কারণ টেলিকম ইন্ডাস্ট্রিতে নতুন করে খুব বেশি প্রবৃদ্ধির সুযোগ নেই। এখন যুক্তরাষ্ট্রের মতো বিশ্বের উন্নত দেশের ওয়্যারলেস বাজারগুলোর প্রবৃদ্ধি একটি নির্দিষ্ট পর্যায়ে পৌঁছেছে। এ ধরনের বাজারগুলোয় খুব কমসংখ্যক গ্রাহক আছেন, যারা নতুন করে টেলিকমসেবার সঙ্গে যুক্ত হবেন।
বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় সেলফোন অপারেটর কোম্পানিগুলো ফাইভজি নিয়ে এরই মধ্যে পরীক্ষা-নিরীক্ষা শুরু করেছে। এ তালিকায় মার্কিন টেলিকম কোম্পানি ভেরাইজন কমিউনিকেশন্স থেকে শুরু করে চায়না মোবাইলের মতো বৃহৎ টেলিকম কোম্পানি আছে। পরবর্তী প্রজন্মের নেটওয়ার্কসেবা নিয়ে বৃহৎ টেলিকম কোম্পানিগুলোর মধ্যে এক ধরনের প্রতিদ্বন্দ্বিতা শুরু হয়েছে। ফাইভজি উন্নয়ন ও বাণিজ্যিক ব্যবহার শুরুতে কে নেতৃত্ব দেবে। ফাইভজি সেবা সরবরাহের প্রথম প্রযুক্তিগত স্ট্যান্ডার্ড হলো, নতুন নেটওয়ার্ক অবকাঠামো নকশা করা এবং ফাইভজি সমর্থিত ডিভাইস ও চিপ উন্নয়ন করা। টেলিকম, ডিভাইস নির্মাতা ও চিপ প্রস্তুতকারক কোম্পানিগুলো এরই মধ্যে প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে। সম্প্রতি লিসবনে এক সম্মেলনে ফাইভজি সমর্থিত নেটওয়ার্ক প্রযুক্তি, ডিভাইস ও চিপ উন্মোচন করেছে বেশকিছু প্রতিষ্ঠান।
টেলিকম কোম্পানিগুলোর বৈশ্বিক সংগঠন জিএসএমএর তথ্যমতে, ২০২০ সাল নাগাদ ফাইভজি প্রযুক্তির প্রাথমিক বাণিজ্যিক ব্যবহার শুরুর লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে একাধিক মোবাইল ফোন কোম্পানি। ফাইভজি প্রযুক্তিতে ইন্টারনেট গতি এখনকার চেয়ে ১০ গুণ হবে এবং ডাটা স্থানান্তর অত্যন্ত দ্রুত হবে। সেবাটি চালুর পর ২০২৫ সাল পর্যন্ত ওয়্যারলেস অপারেটর কোম্পানিগুলোর রাজস্ব বছরপ্রতি ২ দশমিক ৫ শতাংশ করে বাড়বে, যা এখনকার চেয়ে মাত্র দশমিক ৫ শতাংশীয় পয়েন্ট বেশি।
এটিঅ্যান্ডটি ল্যাবের প্রেসিডেন্ট ও প্রধান প্রযুক্তি কর্মকর্তা অ্যান্দ্রে ফুয়েসচ বলেন, এখন থেকে পাঁচ বা ১০ বছরের মধ্যে ফাইভজি প্রযুক্তি টেলিকম কোম্পানিগুলোর জন্য কী পরিমাণ রাজস্ব সরবরাহ করবে, তা নিশ্চিত নয়। এছাড়া ফাইভজির জন্য নতুন অ্যাপ্লিকেশন উন্নয়ন ও এগুলোর ব্যবহার উপযোগী ডিভাইস উন্নয়নে কয়েক বছর লেগে যাবে।
তিনি বলেন, প্রকৌশলীদের প্রথমে নির্ধারণ করতে হবে, ফাইভজি প্রযুক্তি কীভাবে কাজ করবে। বৃষ্টি, কুয়াশা ও বৃক্ষ হাই ফ্রিকোয়েন্সি রেডিও ওয়েভের সঞ্চাচলে বাধা সৃষ্টি করবে। কাজেই সব ধরনের পরিবেশে ফাইভজি যাতে সঠিকভাবে কাজ করে, সে প্রতিবন্ধকতা আগে দূর করতে হবে।
বিশ্লেষকদের মতে, ফোরজির চেয়ে ফাইভজি চালুতে মূলধন ব্যয় বেশি হবে। এছাড়া ফাইভজির প্রযুক্তিগত মান এখনো চূড়ান্ত হয়নি। নতুন এ নেটওয়ার্ক ব্যবস্থায় কীভাবে অর্থায়ন করা হবে, তা নিয়ে যথেষ্ট সংশয় রয়েছে। এক্ষেত্রে মূলধন ব্যয়ের বিপরীতে মুনাফা করার বিষয় নিয়ে সংশয় দেখা দিয়েছে।
২০১৮ সালে চায়না মোবাইল ফাইভজির পরীক্ষামূলক ব্যবহার শুরুর কথা জানিয়েছে। এছাড়া ২০১৯ সালের মধ্যে ফাইভজির প্রাক-বাণিজ্যিক সেবা উন্মোচন করার কথাও ঘোষণা করেছে। ২০২০ সালের মধ্যে সম্পূর্ণভাবে বাণিজ্যিক ভিত্তিতে ফাইভজি চালুর লক্ষ্যে কাজ করছে চায়না মোবাইল।

ভাগ