মিয়ানমার কর্তৃপক্ষকে অবশ্যই সহিংসতা বন্ধ করতে হবে : ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী

ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী থেরেসা মে বলেছেন, আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় একটি স্পষ্ট বার্তা দিয়েছে যে বার্মা (মিয়ানমার) কর্তৃপকে অবশ্যই সহিংসতা বন্ধ করতে হবে। বুধবার (১১ সেপ্টেম্বর) ব্রিটিশ সংসদ হাউস অব কমন্সে এক প্রশ্নের জবাবে থেরেসা মে একথা জানান। ব্রিটিশ কনজারভেটিভ পার্টির কলচেস্টারের এমপি উইল কুইন্স-এর প্রশ্ন করেছিলেন, কোন ধরনের চাপ রোহিঙ্গাদের নিপীড়ন বন্ধ ও তাদের নিজ ভূমিতে ফিরে আসার জন্য মিয়ানমার সরকারকে বাধ্য করতে পারে। এই প্রশ্নের জবাবে ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী বলেন, রোহিঙ্গাদের েেত্র যা ঘটছে তাতে আমরা গভীর উদ্বিগ্ন। আমরা জানি বাংলাদেশে ৫ লাখের বেশি শরণার্থী রয়েছে। এই পরিস্থিতি বড় ধরনের মানবিক সংকট। রোহিঙ্গাদের সহযোগিতার কথা তুলে ধরে থেরেসা মে বলেন, আমরা আন্তর্জাতিক উন্নয়ন ও ত্রাণ সংস্থার মাধ্যমে সহযোগিতা প্রদান করছি। আমরা বার্মায় রেডক্রসকে অর্থ দিয়েছি। বাংলাদেশে যারা আশ্রয় নিয়েছে তাদের দ্বিপীয় সহযোগিতা করছি। রোহিঙ্গাদের নিপীড়ন বন্ধে যুক্তরাজ্যের পদপে তুলে ধরে ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী বলেন, জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদে আমরা বিষয়টি তিনবার উত্থাপন করেছি। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় একটি স্পষ্ট বার্তা দিয়েছে যে বার্মা কর্তৃপকে অবশ্যই সহিংসতা বন্ধ, শরণার্থীদের নিরাপদে ফিরে আসার সুযোগ দিতে এবং ত্রাণকর্মীদের পূর্ণাঙ্গ যাতায়াতের অনুমোদন দিতে হবে। রোহিঙ্গা সংকটে উদ্বেগের কারণে মিয়ানমারের সঙ্গে প্রতিরা সহযোগিতা যুক্তরাজ্য বাতিল করেছে বলেও উল্লেখ করেন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী।
ব্রিটিশ এমপি কুইন্স সম্প্রতি বাংলাদেশে রোহিঙ্গা ক্যাম্প পরিদর্শন করেছেন। রোহিঙ্গাদের পরিস্থিতিকে তিনি মানবিকতার বিপর্যয় হিসেবে উল্লেখ করেছেন। রোহিঙ্গাদের জন্য যুক্তরাজ্য সরকারের পদেেপর প্রশংসা করেন তিনি। উল্লেখ্য, ২৫ আগস্ট রাখাইনে সামরিক অভিযান শুরুর পর বাংলাদেশে পালিয়ে আশ্রয় নিয়েছে পাঁচ লাখ বিশ হাজারের বেশি রোহিঙ্গা। মাঝখানে কয়েকদিন রোহিঙ্গাদের ঢল কিছু মাত্রায় কমে আসলেও চলতি সপ্তাহে তা আবার বেড়েছে। সোমবার বাংলাদেশে প্রায় এগারো হাজার রোহিঙ্গা প্রবেশ করেছে। জাতিসংঘ মিয়ানমারের সেনাবাহিনীর অভিযানকে জাতিগত নিধনযজ্ঞের প্রামাণ্য উদাহরণ হিসেবে আখ্যায়িত করেছে। মিয়ানমার সরকার এসব অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে। সূত্র: হাউস অব কমন্সের ওয়েবসাই

ভাগ