মনিরামপুরে ভুয়া দাখিল পরীক্ষার্থী আটক, শিক্ষকসহ ৬ জনের সাজা

স্টাফ রিপোর্টার, মনিরামপুর (যশোর)॥ যশোরের মনিরামপুরে বুধবার দাখিল পরীক্ষার একটি কেন্দ্র থেকে এক ভুয়া পরীক্ষার্থীকে আটক করেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। পরে আদালত ওই ভুয়া পরীক্ষার্থী স্বপ্না খাতুনকে দুই বছর এবং কক্ষ পরিদর্শক আবু তৈয়বকে এক বছরের বিনাশ্রম সাজা দিয়েছেন। এ ছাড়া আদালত পাড়দিয়া মহিলা দাখিল মাদ্রাসার ভারপ্রাপ্ত সুপার মাওলানা মহিবুল্লাহসহ আরো চারজনকে বিভিন্ন সাজা দেন। বেলা ১২ টার দিকে উপজেলার নেংগুড়াহাট দারুল উলুম সিনিয়র ফাজিল মাদ্রাসা কেন্দ্রে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মুহাম্মদ ওবায়দুর রহমান।
আদালত ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, পাড়দিয়া গ্রামের আব্দুস সামাদের মেয়ে সোনিয়া খাতুন এবার পাড়দিয়া মহিলা দাখিল মাদ্রাসা থেকে দাখিল পরীক্ষায় অংশ নেয়। কিন্তু অভিযোগ রয়েছে পরীক্ষার দ্বিতীয় দিন থেকে সোনিয়ার পরিবর্তে তার চাচাত বোন স্বপ্না খাতুন পাখি পরীক্ষায় অংশ নিয়ে আসছিল। স্বপ্না গত বছর দাখিল পাশ করে। বুধবার বাংলা প্রথমপ্রত্র পরীক্ষা চলাকালীন গোপন সংবাদের ভিত্তিতে কেন্দ্রে অভিযান চালান নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ওবায়দুর রহমান। তিনি কেন্দ্রের ৬ নম্বর কক্ষে গিয়ে স্বপ্নাকে ভুয়া পরীক্ষার্থী হিসেবে আটক করেন। অভিযোগ রয়েছে, এ সময় পাশের কক্ষে দায়িত্বে থাকা পাড়দিয়া মাদ্রাসার সহকারী শিক্ষক আবু তৈয়ব স্বপ্নাকে রক্ষা করতে আদালতকে ভুল তথ্য দিয়ে প্রভাবিত করার চেষ্টা করেন। পরে অবশ্য স্বপ্না এবং শিক্ষক আবু তৈয়ব নিজেদের দোষ স্বীকার করে জবানবন্দি প্রদান করেন। এ সময় আদালত স্বপ্না খাতুনকে দুই বছর, কক্ষ পরিদর্শক আবু তৈয়বকে এক বছরের বিনাশ্রম সাজা প্রদান করেন। এ ছাড়া মূল পরীক্ষার্থী সোনিয়া খাতুনকে (রোল নম্বর-৩৩৭৬৪৭) তিন বছরের জন্য পরীক্ষা থেকে বহিষ্কার এবং একই সাথে ভুয়া পরীক্ষার্থীকে সহযোগিতার অপরাধে পাড়দিয়া মহিলা দাখিল মাদ্রাসার ভারপ্রাপ্ত সুপার মাওলানা মহিবুল্লাহর বিরুদ্ধে থানায় নিয়মিত মামলা রুজু করার জন্য কেন্দ্র সচিবকে নির্দেশ দিয়েছেন। এ ছাড়া আদালত পরীক্ষা কেন্দ্রের ৬ নম্বর কক্ষের দুই পরিদর্শক নেংগুড়াহাট ফাজিল মাদ্রাসার সহকারী শিক্ষক মাওলানা ইব্রাহিম হোসেন ও হাজরাকাটি মহিলা আলীম মাদ্রাসার সহকারী শিক্ষক মাওলানা জয়নাল আবেদীনকে দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেন। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ওবায়দুর রহমান বলেন,‘পরীক্ষায় অসৎ উপায় অবলম্বন করায় পাবলিক পরীক্ষাসমূহ (অপরাধ) আইন ১৯৮০ এর ৩ (খ) ধারায় স্বপ্নাকে দুই বছর ও শিক্ষক আবু তৈয়বকে ওই আইনের ১৩ ধারায় এক বছরের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেয়া হয়েছে।

ভাগ