বিষাক্ত ইলিশ থেকে সাবধান

গত ৩ জানুয়ারি ইংরেজি কয়েকটি দৈনিক ইলিশ মাছ নিয়ে একটি উদ্বেগজনক খবর ছেপেছে। মিয়ানমার ও ফিলিপাইন থেকে আমদানিকৃত দেখতে চকচকে চন্দনা বা চান্দিনা নামের বিষাক্ত ইলিশে ছেয়ে গেছে দেশ। বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ ল্যাবরেটরি টেস্ট করে এ মাছে মাত্রাতিরিক্ত সিসা ও কেডমিয়াম পেয়েছে। মাছে সিসার সহনীয় মাত্রা ০.৩ শতাংশ। অথচ আমদানিকৃত চন্দনা ইলিশে সিসা পাওয়া গেছে ১.৫৫৩ থেকে ১.৬৯৯ শতাংশ পর্যন্ত। এ মাত্রা স্বাভাবিকের চেয়ে ৫ গুণ বেশি। কেডমিয়াম পাওয়া গেছে সহনীয় মাত্রার চেয়ে দ্বিগুণ। আমদানিকৃত ইলিশে সিসা ও কেডমিয়ামের এ মাত্রা মানবদেহের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। অথচ এ বিষাক্ত ইলিশ মহানগরী ঢাকাসহ সারা দেশে দেদার বিক্রি হচ্ছে। কিন্তু কীভাবে? জানা গেছে আমদানিকৃত এ ইলিশ প্রতিমাসে ১ টন করে সরাসরি টেকনাফ থেকে শাহ্জালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর হয়ে দেশে ঢোকে।
মিয়ানমার ও ফিলিপাইন থেকে আমদানিকৃত চান্দিনা ইলিশ বিভিন্ন নামেও আসে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন। এ মাছ কিনে সারাদেশের ক্রেতারা প্রতারিত হচ্ছেন প্রতিনিয়ত। অনেক ক্রেতার কাছে পদ্মার ইলিশ বলেও এ ভেজাল মাছ চড়া দামে বিক্রি করে বলে অভিযোগ রয়েছে। উল্লেখ্য, এ মাছ দেখতে ইলিশের মতো হলেও রান্নার পর কালচে রং ধারণ করে। খেতেও তেতো এবং বাজে গন্ধযুক্ত। আরও কয়েক প্রকার মাছ বাংলা ইলিশ বলে চালিয়ে দেয়া হয়। এগুলোর মধ্যে সার্ডিন দেখতে ইলিশাকৃতির। তবে লম্বাটে। এ ছাড়া কিংফিশ নামেও কয়েক প্রকার সামুদ্রিক মাছ ঢাকার বিভিন্ন মাছবাজারে বিক্রি হতে দেখা যায়। এগুলোও সম্ভবত বাইরে থেকে আমদানিকৃত এবং অনিরাপদ বা মানবদেহের জন্য ক্ষতিকর। অনেক ক্রেতা সামুদ্রিক মাছ খাওয়া স্বাস্থ্যের জন্য ভালো মনে করে কেনেন। কিন্তু সেগুলোতে মাত্রাতিরিক্ত সিসা, কেডমিয়াম, ক্রোমিয়াম ইত্যাকার ক্ষতিকর পদার্থ রয়েছে কিনা কে জানে?
আমদানিকৃত বিষাক্ত ইলিশ বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ সম্প্রতি আটকে দিয়েছে। এ জন্য সংশ্লিষ্টদের ধন্যবাদ জানাতেই হয়। কিন্তু এতোদিন পরীক্ষা ছাড়া চন্দনা ইলিশ আমদানি হলো কী করে? এ ইলিশ বেশি দামে কিনে ক্রেতাসাধারণ কি কেবল আর্থিকভাবে প্রতারিত হচ্ছেন? না, বিষাক্ত মাছ খেয়ে ইতোমধ্যে স্বাস্থ্যঝুঁকিতেও পড়েছেন তারা। তাই কাদের অবহেলায় ক্ষতিকর মাছ আমদানি হতে পারলো এবং ক্রেতাসাধারণের তা খেয়ে কীরকম স্বাস্থ্যঝুঁকি সৃষ্টি হয়েছে সেটা অবিলম্বে তদন্ত করে জড়িতদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেয়া উচিত।

ভাগ