বিএনপিকে নির্বাচনের বাইরে রাখা যাবে না : খালেদা জিয়া

বিএনপিকে আগামী একাদশতম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বাইরে রাখা যাবে না বলে সরকারকে উদ্দেশ‌্য করে বলেছেন দলটির চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়া। একই সঙ্গে তিনি এও বলেছেন যে, দলীয় সরকারের অধীনে এবং সংসদ বহাল রেখে কোনো নির্বাচন হবে না। মঙ্গলবার সন্ধ্যায় রাজধানীর রমনায় ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে এক ছাত্রসমাবেশে তিনি এ কথা বলেন। জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে এ ছাত্রসমাবেশের আয়োজন করে সংগঠনটি।
তিনি বলেন, ‘আমরা নির্বাচনী দল, আমরা নির্বাচন করব। বাইরে রাখতে চাইলেই রাখা যাবে না। নির্বাচন করবো আমরা। কিন্তু সেই নির্বাচনটা হতে হবে নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে, হাসিনার (প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা) অধীনে নয়। আপনারা (সরকার) যদি মনে করেন, আমাদের লোকজন ধরে নিয়ে যাবেন। তারপর নির্বাচন ঘোষণা করবেন, সেটা আর হবে না।’ বিএনপিকে বাদ দিয়ে দেশে কোনো নির্বাচন হবে না জানিয়ে বিএনপি প্রধান বলেন, ‘বিএনপি সবচেয়ে বড় দল, তাকে (বিএনপি) বাদ দিয়ে গ্রহণযোগ্য নির্বাচন হতে পারে। কারণ সারা পৃথিবী বুঝে গেছে যে, হাসিনার অধীনে সুষ্ঠু নির্বাচন হয়নি, হবে না।’
খালেদা জিয়া বলেন, ‘দেশে গণতন্ত্র নেই। আজ দেশ এক ব্যক্তির ইচ্ছা অনুযায়ী চলছে। হাসিনা যা বলে সেই অনুয়ায়ী চলে। আসলে কিছু চলছে না। দেশ পিছিয়ে যাচ্ছে। সব কিছু অচল হয়ে যাচ্ছে। এক ব্যক্তির শাসন তো এদেশে চলতে পারে না। এজন্য দেশের মানুষ মুক্তিযুদ্ধ করেনি, যুদ্ধ করেছে সংসদীয় গণতন্ত্রের জন্য।’ সদ্য পদত্যাগকারী প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহাকে ‘অস্ত্রের মুখে’ পদত্যাগে বাধ্য করা হয়েছে বলে দাবি করেন খালেদা জিয়া। নতুন প্রধান বিচারপতি নিয়োগে বিলম্বের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘এখন পর্যন্ত প্রধান বিচারপতি নিয়োগ দেওয়া হয় নাই। কাজেই এখনো মতলবটা তাদের ভালো নয়। মওদুদ সাহেব (মওদুদ আহমদ) বলেছেন একদিনও না কী ওই পদ খালি রাখা যায় না।’
দেশে জঙ্গির উত্থানের জন্য আওয়ামী লীগকে দায়ী করে বিএনপি চেয়ারপার্সন বলেন, ‘নিজেরা বোমা রাখে, অস্ত্র রাখে। তারপর যাকে ইচ্ছা তার বিরুদ্ধে মামলা দিয়ে তুলে নিয়ে যায়। জঙ্গি সৃষ্টি আওয়ামী লীগ করেছিলো। শায়খ আবদুর রহমান, বাংলা ভাই সব তাদের জ্ঞাতি-গোষ্ঠী। কথায় কথায় কিছু হলে জঙ্গির ভয় দেখায়।’ তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশে মানুষ জঙ্গি নয়, তারা শান্তিপ্রিয় মানুষ, তারা জঙ্গি হতে চায় না। মিথ্যা অপবাদ দিয়ে তাদেরকে জঙ্গি বানানো হচ্ছে, জঙ্গি বানাচ্ছে তারা (সরকার)। বিদেশীদের কাছে জঙ্গি হিসেবে দেখানো হচ্ছে।’
খালেদা জিয়া বলেন, ‘আওয়ামী লীগের সঙ্গে যারা আছেন, যারা থাকবেন তারা রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে যে কাজগুলো করছেন, এ জন্যে একদিন তাদের বিরুদ্ধেই রাষ্ট্রদ্রোহ মামলা হবে। কারণ, তারা সব কিছু রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে করছে। দেশের এতোগুলো মানুষকে গুম করা, খুন করার কাজ করছে।’ ছাত্রদলের নেতা-কর্মীদের সুশৃঙ্খল ও ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহবানও জানিয়ে বিএনপি চেয়ারপারসন বলেন, ‘ঐক্য, ঈমান ও শৃঙ্খলা-এই তিনটি জিনিস তোমাদের মধ্যে থাকতে হবে। তোমাদের আরো সুশৃঙ্খল হতে হবে।’
রমনায় ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে রাতে এই ছাত্র সমাবেশ হয়। জাতীয়তাবাদী ছাত্র দলের ৩৯তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে দুপুর ২টায় এই মিলনায়তনে এই অনুষ্ঠান হওয়ার কথা থাকলেও ইনস্টিটিউশন কর্তৃপক্ষ সুপ্রিম কোর্ট এলাকায় রাষ্ট্রপতির অনুষ্ঠানের কথা বলে মিলনায়তনে তালা ঝুলিয়ে দেয়। দুপুর ২টা থেকে ছাত্রদলের নেতা-কর্মীরা ইনস্টিটিউশন প্রাঙ্গনে জড়ো হয়। বিকাল সাড়ে ৪টার দিকে খালেদা জিয়া এসে পৌঁছালে তুমুল করতালিতে সমাবেশস্থল মুখর হয়ে উঠে। বিএনপি চেয়ারপারসন পাজারো জিপে অবস্থান করেন। বিকাল ৫টা ২০ মিনিটে ইনস্টিটিউশন কর্তৃপক্ষ মিলনায়তন খুলে দেয়। সঙ্গে সঙ্গে নেতা-কর্মীরা মিলনায়তনে প্রবেশ করে মঞ্চ সাজানোর কাজটি শেষ করে। বেগম খালেদা জিয়া ১২ মিনিট পরেই মঞ্চে আসেন।
ছাত্রদলের সভাপতি রাজীব আহসানের সভাপতিত্বে ও ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক আসাদুজ্জামান আসাদের পরিচালনায় সমাবেশে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্থায়ী কমিটির সদস্য মওদুদ আহমদ, আবদুল মঈন খান, ভাইস চেয়ারম্যান আবদুল্লাহ আল নোমান, আবদুল আউয়াল মিন্টু, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা কাউন্সিলের সদস্য আমানউল্লাহ আমান, কেন্দ্রীয় নেতা হাবিব উন নবী খান সোহেল, ফজলুল হক মিলন, শহীদউদ্দিন চৌধুরী এ্যানি, কামরুজ্জামান রতন, এবিএম মোশাররফ হোসেন, হাবিবুর রশীদ হাবিব, শফিউল বারী বাবু, সুলতান সালাউদ্দিন টুকু বক্তব্য রাখেন।
অনুষ্ঠানে অধ্যাপক এজেডএম জাহিদ হোসেন, শামসুজ্জামান দুদু, সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, খায়রুল কবির খোকন, নাজিমউদ্দিন আলম, শিরিন সুলতানা, রেহানা আখতার রানু, শাম্মী আখতার ও নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

ভাগ