প্রধানমন্ত্রীর এবারের সফরেও হতাশ যশোরবাসী

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আগমন ঘিরে প্রত্যাশার পারদ উর্ধ্বমূখী ছিল যশোরবাসীর। জনসভায় প্রধানমন্ত্রীর ভাষণের শেষ পর্যন্ত অধীর আগ্রহে ছিল আপামর সাধারণ মানুষ। প্রধানমন্ত্রীর মুখ থেকে যশোর বিভাগ, সিটি কর্পোরেশন কিংবা মাইকেল মধুসূদন দত্তের নামে সংস্কৃতি বিশ্ববিদ্যালয় ঘোষণার দাবি শেষ পর্যন্ত পূরণ হয়নি। পাঁচ বছর আগের প্রতিশ্রুতি সিটি কর্পোরেশনের দাবিটাও অধরা থেকে গেল। এইসব দাবির ব্যাপারে কোন ঘোষণা ছাড়াই প্রধানমন্ত্রী ভাষণ শেষ করেন। ভাষণ শেষে বহুল প্রত্যাশিত দাবিগুলোর কোনটি ব্যাপারে কোন ঘোষণা না আসায় সর্বস্তরের মানুষের মাঝে মিশ্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও যশোরবাসীর হতাশা প্রকাশের ঝড় বইছে। মিলছে না কোন হিসেব নিকেশ। যশোরবাসীর নেতার শূণ্যতা নিয়েও কেউ কেউ প্রশ্ন তুলছেন।
২০১২ সালের ২০ ডিসেম্বর যশোর শহরের ঈদগাহ ময়দানে আওয়ামী লীগের জনসভায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছিলেন ‘আগামী নির্বাচনে আওয়ামী লীগকে ভোট দিন। দল ক্ষমতায় গেলে যশোরকে সিটি কর্পোরেশন করা হবে।’ কিন্তু পরবতীতে সরকার গঠন করে ২০১৪ সালের ২৩ জানুয়ারি অভয়নগরের যান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সেখানে জনসভায় তিনি সমকালীন রাজনীতি নিয়ে নানা বিষয়ে বক্তব্য দেন। সেইদিনের জনসভায় যশোরবাসী অধীর অপেক্ষায় ছিলেন যশোর সিটি কর্পোরেশন ঘোষণা হতে যাচ্ছে। কিন্তু সেদিন নতুন কোন ঘোষণা ছাড়াই জনসভার বক্তব্য শেষ করেন। আশায় বুক বেঁধেছিল সামনে হয়তো ঘোষনা আসবে।
এরই মধ্যে পাঁচ বছর আবারও সেই একই স্থান ঈদগাহ ময়দানে আওয়ামী লীগের জনসভায় প্রধান অতিথি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তার আগমন ঘিরে যশোরবাসী নতুন করে আশায় বুক বাধেন। যশোর বিভাগ, যশোর সিটি কর্পোরেশন, মাইকেল মধুসূদন দত্তের নামে সংস্কৃতি বিশ্ববিদ্যালয়সহ বিভিন্ন দাবিতে সোচ্চার হয় যশোরবাসী। যদিও আওয়ামী লীগের নেতাকমীদের ব্যানার, তোরণে কোন দাবি দাওয়া ছিল না। তারপরও সুশীল সমাজ ও সাধারণ মানুষের প্রত্যাশা ছিল অনেক বেশি।
তাই বিকেল তিনটার জনসভায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উপস্থিতিতে নতুন আশার সঞ্চার হয়। কিন্তু আধা ঘণ্টার ভাষণে সেই আশা পূরণ হয়নি যশোরবাসীর। কারণ মোটা দাগের দাবি দাওয়ার কোনটি পূরণ হয়নি। এক রাশ হতাশা নিয়ে বাড়ি ফিরে যান যশোরবাসী। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে হতাশার নানা চিত্র ফুটে উঠেছে।
ঝিকরগাছার সাংবাদিক ইমরান রশিদ ফেসবুকে লিখেছেন, যশোর সিটি কর্পোরেশন কিংবা বিভাগ অধরায় থেকে গেল। দলীয় গ্রুপিং আরও সহিংসতায় রুপ নিল। আর কি পাওয়া গেল?। যশোরের সাংবাদিক মনিরুল ইসলাম তার ফেসবুকে লিখেছেন, ‘কী পেলেন যশোরবাসী।’ তার এমন স্ট্যাটাসের উত্তরে অনেকেই হতাশা প্রকাশ করে মন্তব্য করেছেন।
সামাজিক যোগাযোগ ফেসবুকে যশোর সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটের সভাপতি সানোয়ার আলম খান দুলু বলেন, অবিভক্ত বাংলার প্রথম জেলাকে আর কত বছর অপেক্ষায় থাকতে হবে? তার স্ট্যাটাসে হেদায়েতুল্লাহ হৃদয় লিখেছেন ‘ সাংস্কৃতিক কর্মীরা সেইভাবে আওয়াজ তুলতে সম্পূর্ণরুপে ব্যর্থ……..। মঞ্জুরুল আলম নামে একজন লিখেছেন ‘যতদিন নেতারা যশোরকে নিয়ে ভাববে না ততদিন।’ যদিও ভাষণে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ২৮টি উন্নয়ন প্রকল্পের উদ্বোধন শেষে যশোরবাসীর উদ্দেশ্যে বলেন, এইগুলো আপনাদেরকে উপহার দিয়ে গেলাম।’

ভাগ