পিয়ংইয়ংয়ের ওপর নিষেধাজ্ঞা বহাল থাকবে: যুক্তরাষ্ট্র

পুরোপুরি পরমাণু নিরস্ত্রীকরণ না হওয়া পর্যন্ত উত্তর কোরিয়ার ওপর নিষেধাজ্ঞা বহাল থাকবে বলে জানিয়েছেন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাইক পম্পেও। বৃহস্পতিবার দক্ষিণ কোরিয়ার রাজধানী সিউলে এক যৌথ সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা জানান। সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন দক্ষিণ কোরিয়া ও জাপানের পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা।
উত্তর কোরিয়ার বিতর্কিত পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে দেশটির নেতা কিম জং উনের সঙ্গে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ঐতিহাসিক বৈঠকের একদিন পরই এ ধরনের কথা বললেন পম্পেও। মঙ্গলবার সিঙ্গাপুরে ওই বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়, যা ছিল ক্ষমতাসীন কোনো মার্কিন প্রেসিডেন্টের সঙ্গে উত্তর কোরীয় কোনো নেতার প্রথম বৈঠক। দুই দেশের মধ্যে নতুন অধ্যায় শুরুর ব্যাপারে চুক্তিও সই করেন ট্রাম্প ও কিম।
মঙ্গলবারের বৈঠক শেষ করে সিঙ্গাপুর থেকে সরাসরি সিউলে যান মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী। বৈঠকের বিষয়টি দুই মিত্র দক্ষিণ কোরিয়া ও জাপানের কাছে স্পষ্ট করতেই পম্পেও সিউল যান বলে বিবিসির প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। বিশেষ করে যখন ট্রাম্প দক্ষিণ কোরিয়ার সঙ্গে নিয়মিত সামরিক মহড়া বন্ধের ঘোষণা দিয়েছেন তখন পম্পেওর এই সফর জরুরি ছিল।
ট্রাম্প-কিমের বৈঠক যুক্তরাষ্ট্র ও উত্তর কোরিয়ার সম্পর্কের ক্ষেত্রে টার্নিং পয়েন্ট বলেও উল্লেখ করেন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী।
উত্তর কোরিয়ার পারমাণবিক কর্মসূচি ধাপে ধাপে বর্জনের ব্যাপারে ট্রাম্প-কিম একমত হয়েছেন বলে দেশটির (উত্তর কোরিয়া) গণমাধ্যমে যে খবর প্রকাশ করা হয়েছে তা প্রত্যাখ্যান করেন পম্পেও।
মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, উত্তর কোরিয়াকে ‘পুরোপুরি পরমাণু নিরস্ত্রীকরণে’র ব্যাপারে ওয়াশিংটন অঙ্গীকারাবদ্ধ।
উল্লেখ্য, মঙ্গলবার সিঙ্গাপুরের ওই বৈঠকে উত্তর কোরিয়ার পারমাণবিক কর্মসূচি বন্ধ এবং কোরীয় উপদ্বীপকে পরমাণু অস্ত্রমুক্ত করার ব্যাপারে একমত হন ট্রাম্প ও কিম। এর বিনিময়ে পিয়ংইয়ংয়ের ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের কথা ওয়াশিংটনের।
তবে ট্রাম্প-কিমের মধ্যকার ওই চুক্তির ব্যাপারে ইতোমধ্যে সন্দেহ পোষণ করেছেন বিশ্লেষকরা। কারণ কখন ও কীভাবে উত্তর কোরিয়া পরমাণু কর্মসূচি বর্জন করবে এবং পিয়ংইয়ং যে পারমাণবিক কর্মসূচি বর্জন করেছে তা কীভাবে নিশ্চিত করা হবে- এসব বিষয় স্পষ্ট করা হয়নি চুক্তিতে। তাছাড়া মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সর্বশেষ বক্তব্য (নিষেধাজ্ঞা রাখা) ওই চুক্তির সঙ্গে সাংঘর্ষিক বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

ভাগ