নীল চোখের মায়াবী শিশুর জন্য কাঁদছে বিশ্ব

সাত বছরেরও বেশি সময় ধরে সিরিয়ায় হত্যাকাণ্ড চলছে। শত শত প্রাণ নিয়েও মৃত্যু যেমন পরিতৃপ্ত নয়, খুনিরাও রক্তপাতে ক্লান্ত হয়নি। সিরিয়ার দামেস্কের অবরুদ্ধ পূর্ব ঘৌতায় সরকারি বাহিনীর চলমান ধ্বংস ও নৃশংস হত্যাযজ্ঞ চলছেই। আসাদ সরকার ও তার ঘনিষ্ঠ মিত্র রাশিয়া লাগাতার ক্ষেপণাস্ত্র ও বিমান থেকে বোমা ফেলছে। তাদের অব্যাহত হামলায় পূর্ব ঘৌতা যেন এখন কোনো প্রাচীন জনপদের ধ্বংসাবশেষ, যাদের কোনো শক্তিশালী প্রাকৃতিক দুর্যোগ প্রকম্পিত করে ধ্বংসস্তূপে পরিণত করেছে। শত শত নিরপরাধ মানুষ ও নিষ্পাপ শিশুদের লাশে ভরে উঠেছে সিরিয়ার পূর্ব ঘৌতা। অবরোধের শুরু থেকে এখন পর্যন্ত নিহত ৮ শতাধিক ছাড়িয়ে গেছে। সেখানে আহতদের সংখ্যা হবে আরও কয়েক হাজার!
প্রতিদিন সেখানে নিরপরাধ নিরস্ত্র মানুষের লাশ বনে যাওয়ার ঘটনা বাড়ছে। দু’দিন আগেই এই তালিকায় যুক্ত হলো নিষ্পাপ পুষ্পকলি ‘হালা’। সে গত শুক্রবার ঘৌতার বেইত শহরে সরকারি বাহিনীর বিমান হামলায় মারা যায়। এরপর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোতে হালার লাশ ও আগের ছবি ভাইরাল হয়।ছবিগুলো দেখে কাঁদছে পূর্ব ঘৌতাবাসী। সঙ্গে কান্নার রোল পড়েছ গোটা বিশ্বেই। সবারই অভিন্ন প্রশ্ন, মাটি কীভাবে হালার নিষ্পাপ চেহারাকে ঢাকবে? আর এটা কেমন জুলুম আর নিষ্ঠুরতা যা নিষ্পাপ শিশুদের মায়েদের আলিঙ্গন থেকে ছিনিয়ে নিচ্ছে?

হালার ধুসর নীল দু’চোখ আর হত্যাপূর্ব হাসি মাখা উজ্জ্বল মুখোচ্ছবি তাবৎ হৃদয়কে রক্তাক্ত করছে প্রতিনিয়ত। এরপর যখন কোলে বহন করে তার সাদা কাফন মোড়ানো লাশের ছবি এলো, তা যেন গোটা মানব সত্যতাকে নির্বাক করে দিল। এটা যেন ধ্বংসযন্ত্রের ব্যারেলে নিষ্পাপ শিশুর চরমাক্রান্ত শেষ চিৎকার ‘না, আমরা যুদ্ধ চাই না। শান্তি চাই। একই সঙ্গে এই আর্তনাদ বিশ্ব বিবেকের গালে একটি বড় চপেটাঘাত হয়েই রইল। হায়, তবুও হালা যদি একাই হতো! বরং এমন আরও শত নিষ্পাপ ফুলশিশুকে শেষের এই চলমান রক্তাক্ত দিনগুলিতে আসাদ সরকার ও তার মিত্র রাশিয়া বিরামহীন বোমা বর্ষণে হত্যা করেছে।

ভাগ