নিকাহ হালালার বিরুদ্ধে লড়াই চালিয়ে যাচ্ছেন তারা

মোড়লরা ফতোয়া দিয়েছেন। ঘরে-বাইরে টিপ্পনি কাটছেন অনেকেই। পদে পদে অাছে বাধা। তার পরেও তারা হার মানেননি। দাঁতে দাঁত চেপে লড়াইটা চালিয়ে যাচ্ছেন সেই কবে থেকে।নাসিমা খাতুনের বয়স ৩৫ বছরের মতো। বাড়ি ভারতের জঙ্গিপুরের সাইদাপুরে। অন্যজন, ৬৪ বছরের রেহেনা খাতুন। তিনি উত্তর ২৪ পরগনার শ্যামনগরের বাসিন্দা।
দু’জনের কেউ কাউকে চিনতেন না। কিন্তু দু’জনকেই এক সুতোয় বেঁধে দিয়েছে তাদের লড়াই। তাদের জেদ। তিন তালাকের পক্ষে গাঁয়ের মোড়লদের নিকাহ-হালালা (অন্য পুরুষের সঙ্গে বিয়ে করে তিন মাস দাম্পত্য জীবন কাটানোর পরে তালাক নিয়ে প্রথম স্বামীর সঙ্গে আবারো বিয়ে করা) ফতোয়ার বিরুদ্ধে রেহেনা ৩০ বছর ধরে ও নাসিমা গত ছয়মাস ধরে লড়াই চালিয়ে যাচ্ছেন।
সম্প্রতি বহরমপুর রবীন্দ্রসদনে রোকেয়া নারী উন্নয়ন সমিতির অনুষ্ঠানে ওই দুই লড়াকুকে সংবর্ধনা দিয়ে তাদের সম্মান জানান সিকিম হাইকোর্টের অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি মলয় সেনগুপ্ত।
২০১৭ সালের ২২ অগস্ট তাৎক্ষণিক তিন তালাককে নিষিদ্ধ ঘোষণা করে সুপ্রিম কোর্ট। তা সত্ত্বেও মাস ছয়েক আগে নাসিমাকে তিন তালাক দেন তার স্বামী। নিকাহ হালালার নিদান দেন গ্রামের মোড়লরা। নাসিমা সেই ফতোয়ার বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ান। নবম ও অষ্টম শ্রেণিতে পড়ুয়া দুই সন্তানকে নিয়ে ঘর ভাড়া করে অতি কষ্টে দিনযাপন করছেন তিনি।
রবীন্দ্রসদনের অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন তালাকপ্রাপ্ত বহু নারী। নাসিমা বলেন, সরকারিভাবে তালাক নিষিদ্ধ। তবু মোড়লরা ওই অবৈধ তালাকের পক্ষ নিয়ে আমাকে নিকা হালালার ফতোয়া দেন। স্বামী মেনে নিলেও আমি ফতোয়ার বিরোধিতা করে দুই সন্তানকে নিয়ে থাকি। যত কষ্টই হোক না কেন সকলেরই এই অবৈধ ফতোয়ার বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানো উচিত।
কয়েক দশক আগে ডোমকালের ফতেপুরের রেহেনা খাতুনের বিয়ে হয়েছিল উত্তর ২৪ পরগনার শ্যামনগর পৌরসভার এক কর্মীর সঙ্গে। এক ছেলে ও দুই মেয়ের মা রেহেনাকে তার স্বামী তিন তালাক দেন ৩০ বছর আগে। তিনিও সেই ফতোয়া অগ্রাহ্য করে সন্তানদের নিয়ে স্বামীর বাড়িতেই জোর করে থেকে যান।
রেহেনা বলেন, কত কষ্ট, যন্ত্রণা সহ্য করতে হয়েছে। কিন্তু হার মানিনি। পরে তাঁর স্বামী অন্যত্র এক নারীকে বিয়ে করে পৃথক সংসার পাতেন।
রেহেনা বলেন, নিজের পায়ে দাঁড়ানোর শিক্ষা গ্রহণ করুক মেয়েরা। আয়োজক সংস্থার সম্পাদক খাদিজা বানু বলেন, শ্যামনগরে রোকেয়া উন্নয়ন সমিতির শাখা গড়ে নারীর সমান অধিকারের দাবি আদায়ের জন্য কয়েক বছর ধরে লড়াই জারি রেখেছেন রেহেনা খাতুন।

ভাগ