‘নারী বৈষম্য’র প্রতিবাদে পদ ছাড়লেন বিবিসি’র সম্পাদক

বিবিসি’র বিরুদ্ধে নারীর প্রতি কাঠামোগত বৈষম্যের অভিযোগ তুলে সম্পাদকের পদ ছেড়েছেন স্বনামধন্য ওই ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যমের একজন সম্পাদক। চীনা সংস্করণের সম্পাদক ক্যারি গ্রেসির অভিযোগ, সমমর্যাদার পুরুষ সহকর্মীদের তুলনায় ৫০ শতাংশ বেতন কম পান তিনি। তার দাবি, এই বেতন বৈষম্যের মধ্য দিয়ে বিবিসি নারীর প্রতি সমতার প্রতিশ্রুতি রক্ষা না করে ‘আস্থার সংকট’ সৃষ্টি করেছে। বৈষম্যের বিরুদ্ধে সোচ্চার হওয়ার ক্ষেত্রে সম্পাদক পদটিকে প্রতিবন্ধকতা হিসেবে দেখছেন গ্রেসি। সে কারণেই নিউজরুমে ফিরে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তিনি। বিবিসি অবশ্য গ্রেসির আনা ‘কাঠামোগত বৈষম্য’র অভিযোগ অস্বীকার করেছে।
গত বছরের মাঝামাঝি বিবিসি কর্তৃক প্রকাশিত কর্মীদের বেতন তালিকায় দেখা যায়, শীর্ষ বেতনভোগীদের মধ্যে দুই তৃতীয়াংশই পুরুষ। তালিকা অনুযায়ী, বিবিসির যুক্তরাষ্ট্রের সম্পাদক জন সোপেল বছরে আয় করেন দুই থেকে ‌আড়াই লাখ পাউন্ড। সংবাদমাধ্যমটির মধ্যপ্রাচ্যবিষয়ক সম্পাদক জেরেমি বোয়েন আয় করেন দেড় থেকে দুই লাখ পাউন্ড। আন্তর্জাতিক সম্পাদকদের মধ্যে জেসি-সহ আরেকজন হলো নারী কর্মী। গ্রেসির দাবি, পুরুষ সম্পাদকেরা তাদের দু’জনের চেয়ে অন্তত ৫০ শতাংশ বেশি বেতন পান।
বেতন কাঠামোতে লিঙ্গ বৈষম্য দূর করার আহ্বান জানিয়ে জুলাইয়ে একটি খোলা চিঠি লিখেছিলেন বিবিসির কর্মীরা। সেই খোলা চিঠি ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম টেলিগ্রাফে প্রকাশিত হয়েছিল। পরে এতে গ্রেসি এবং বিবিসি ইউরোপের সম্পাদক কাটিয়া এডলার স্বাক্ষর করেছিলেন। সেই ধারাবাহিকতায় নারী ও পুরুষ কর্মীদের বেতন বৈষম্যের প্রতিবাদে পদ থেকে সরে দাঁড়ালেন গ্রেসি। নিজের ব্লগসাইটে তিনি লিখেছেন, যেখানে বেতন সমতা নিয়ে ঊর্ধ্বতনদের সঙ্গে লড়াই করছেন তখন তিনি এতো উচ্চ পর্যায়ের পদে নিয়োজিত থাকতে পারেন না। তাই নিউজরুমে ফিরে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তিনি। প্রত্যাশা জানিয়েছেন, সেখানে বেতন দেওয়ার সময় তার প্রতি বৈষম্য করা হবে না।
গ্রেসির অভিযোগ: ‘সমতা আইন ২০১০-এ বলা হয়েছে, ‘যে নারী ও পুরুষরা সমপর্যায়ের কাজ করছেন তাদেরকে অবশ্যই সমবেতন পরিশোধ করতে হবে। অথচ গত জুলাইয়ে আমি জানতে পারলাম আগের অর্থ বছরে দুই পুরুষ দুই নারীর চেয়ে অন্তত ৫০ শতাংশ বেশি বেতন পেয়েছেন।’ প্রতিশ্রুত ‘বিশ্বাস, সততা ও জবাবদিহিতার মূল্যবোধ রক্ষা’ না করে বিবিসি ‘আস্থার সংকট’ সৃষ্টি করেছে বলে অভিযোগ করেন তিনি। প্রতিবাদী ওই সাংবাদিক আরও বলেন, গত বছর বেতনের তালিকাটি প্রকাশের মধ্য দিয়ে বিবিসির নারী কর্মীদের দীর্ঘদিনের সন্দেহ সত্য বলে প্রমাণ হয়েছিল; তারা জেনেছিল, আসলেই তাদেরকে সমভাবে মূল্যায়ন করা হচ্ছে না।
গ্রেসির দাবি, চার বছর আগে চীনা সংস্করণের সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের জন্য বিবিসি কর্তৃপক্ষই তাকে প্রস্তাব দিয়েছিল। সমবেতন কাঠামো অনুসরণ করে বেতন দেওয়ার শর্তেই তিনি প্রস্তাবে সম্মতি দিয়েছিলেন বলে দাবি তার। সংকটের কথা স্বীকার, ক্ষমা প্রার্থনা এবং কর্মীদের জন্য সম ও স্বচ্ছ বেতন কাঠামো গঠনের জন্য বিবিসি কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন গ্রেসি। বিবিসি অবশ্য গ্রেসির অভিযোগ অস্বীকার করেছে। তারা কাঠামোগত বৈষম্যকে ভিত্তিহীন আখ্যা দিয়েছে। গত বছরের নিজেদের করা এক জরিপভিত্তিক গবেষণার ভিত্তিতে ওই সংবাদ সংস্থা দাবি করেছে, সর্বোচ্চ ১০ শতাংশ বৈষম্য রয়েছে বেতন কাঠামোতে।

ভাগ