দিল্লিতে গ্যাস দুর্ঘটনায় ৩১০ শিক্ষার্থী হাসপাতালে

দক্ষিণ দিল্লির একটি সরকারি স্কুলে গ্যাস লিকের ঘটনায় তিন শতাধিক শিক্ষার্থী অসুস্থ হয়ে পড়ে। তাদের পার্শ্ববর্তী হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস এ খবর জানিয়েছে। শনিবার সকালে দিল্লির তুঘলকাবাদ এলাকায় অবস্থিত রানি ঝাঁসি সর্বদয়া কন্যা বিদ্যালয়ের পাশের গ্যাস ডিপোতে একটি কন্টেনার থেকে গ্যাস লিক করে। কন্টেনার থেকে গ্যাস ছড়িয়ে পড়লে ঝাঁঝালো গ্যাসে ভরে যায় পুরো এলাকা।
ঘটনার পর সব শিক্ষার্থীদের স্কুল থেকে বের করে আনা হয়। সকাল ৭টা ৩৫ নাগাদ খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছায় দমকল বাহিনী। দমকল কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ঠিক কোন জায়গা থেকে গ্যাস লিক হয়েছে, তা এখনও স্পষ্ট নয়। তবে সাতটি দল ঘটনাস্থলে পাঠানো হয়েছে গ্যাস লিক আটকানোর জন্য। বিষাক্ত গ্যাসের প্রভাবে স্কুলের তিন শতাধিক শিক্ষার্থী অসুস্থ হয়ে পড়ে। স্কুলের প্রিন্সিপাল জানান, স্কুলের শিক্ষার্থীদের নিঃশ্বাস নিতে কষ্ট হওয়ার পাশাপাশি চোখে প্রদাহ হচ্ছিল। যে গ্যাস লিক হয়েছে তার নাম মিথেল কোরো পেন্টজাইম। এর প্রভাবে বমি, চোখ জ্বালা, গা চুলকানো, পেটের সমস্যার মতো উপসর্গ দেখা দিতে পারে বলে চিকিৎসকেরা জানিয়েছেন।
পুলিশের ডেপুটি কমিশনার রমিল বানিয়া বলেন, ‘স্থানীয় চারটি হাসপাতালে মোট ৩১০ জন শিক্ষার্থীকে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। এদের কারও অবস্থা আশঙ্কাজনক নয় এবং পরিস্থিতি বর্তমানে স্বাভাবিক রয়েছে। গ্যাস লিক হওয়ার ঘটনায় শিার্থীরা মানুষের চোখে কিছুটা প্রদাহ হচ্ছে।’ দিল্লির উপ-মুখ্যমন্ত্রী মনিশ সিসোদিয়া বলেন, ‘চোখে প্রদাহের কারণে তিনটি হাসপাতালে ৮৫ জনকে ভর্তি করা হয়েছে। তাদের কারও অবস্থাই আশঙ্কাজনক নয়।’ শনিবার ওই গ্যাস লিক হওয়ার সময় স্কুলে একটি পরীা হওয়ার কথা ছিল। পরীাটি বাতিল করা হয়েছে বলে সিসোদিয়া জানান। গ্যাস লিক হওয়ার সঠিক কারণ সম্পর্কে এখনও নিশ্চিত হওয়া যায়নি। এ ঘটনায় ম্যাজিস্ট্রেট পর্যায়ের তদন্তের নির্দেশ দিয়েছে অরবিন্দ কেজরিওয়ালের সরকার। পুলিশের পক্ষ থেকে একটি সাধারণ দায়েরি (এফআইআর) নথিভুক্ত করা হয়েছে।

ভাগ