দাবি না মানলে কাল থেকে সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ

আজ বুধবারের (৩ জানুয়ারি) মধ্যে আন্দোলনরত নন-এমপিও শিক্ষকদের এমপিওভুক্তির দাবি না মানলে আগামীকাল বৃহস্পতিবার (৪ জানুয়ারি) থেকে দেশের সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ করে দেওয়া হবে। শিক্ষকদের সঙ্গে সংহতি জানিয়ে কাল থেকে রাজপথে থাকবেন বাংলাদেশ শিক্ষক সমিতির নেতারাও। বাংলাদেশ শিক্ষক সমিতির সভাপতি নজরুল ইসলাম রনি তাদের এই ঘোষণার কথা নিশ্চিত করেছেন।
এদিকে, রাজধানীর জাতীয় প্রেস ক্লাবে চলমান আমরণ অনশনের চতুর্থ দিনে যোগ দিয়েছেন আরও শিক্ষক। নন-এমপিও শিক্ষা প্রতিষ্ঠান শিক্ষক কর্মচারী ফেডারেশনের সভাপতি গোলাম মাহমুদুন্নবী বলেন, ‘আমাদের সঙ্গে আন্দোলনে যোগ দিয়েছেন আরও শিক্ষক। বিভিন্ন জেলা থেকে তারা এসেছেন। এর মধ্যে রাজশাহী ও ফরিদপুর জেলার শিক্ষকের সংখ্যা বেশি। তাদের তালিকা করা হচ্ছে। এখন পর্যন্ত ৪৬ জনের কথা আমরা জানতে পেরেছি।’ শিক্ষকদের এই আন্দোলনে অংশ নিয়ে গতকাল মঙ্গলবার (২ জানুয়ারি) অসুস্থ হয়ে পড়েছিলেন মাহমুদুন্নবী নামের একজন শিক্ষক। তাকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে চিকিৎসা দেওয়া হয়। তবে তিনি প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়ে বুধবার (৩ জানুয়ারি) আবার অনশনে যোগ দিয়েছেন। তবে এখন পর্যন্ত আমরণ অনশন পালন করতে গিয়ে ৪৪ জন শিক্ষক অসুস্থ হয়ে পড়েছেন বলে জানা গেছে। তাদের মধ্যে চার জনকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
বুধবার সকালে আন্দোলনকারী শিক্ষকদের সঙ্গে সংহতি জানাতে উপস্থিত হয়েছিলেন লেখক, কলামিস্ট ও নাগরিক সমিতির প্রতিনিধি সৈয়দ আবুল মকসুদ। তিনি সাংবাদিকদের বলেন, ‘দুর্ভাগ্যের ব্যাপার, যাদের আজ শ্রেণিকক্ষে থাকার কথা ছিল, তারা আজ রাজপথে। তারা ন্যায্য দাবির জন্য আন্দোলন করছেন। সরকার বারবার আশ্বাস দিলেও এর কোনও বাস্তবায়ন চোখে পড়েনি।’ সরকারের উদ্দেশে আবুল মকসুদ বলেন, ‘আজকের দিনের মধ্যে সুস্পষ্ট ব্যাখ্যা সরকারকে দিতে হবে। আন্দোলনরত শিক্ষকদের কেউ মারা গেলে এর জন্য সরকার দায়ী থাকবে।’ এর আগে, আমরণ অনশন কর্মসূচির তৃতীয় দিন সোমবার সকালে শিক্ষকদের অনশন ভাঙাতে এসেছিলেন শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ। এমপিওভুক্তির আশ্বাস দিয়ে তিনি অনশন ভাঙার জন্য অনুরোধ করলে শিক্ষকরা তা প্রত্যাখ্যান করে। শিক্ষকদের দাবি, সরকারের কাছ থেকে সুস্পষ্ট ব্যাখ্যা আসতে হবে। শিক্ষামন্ত্রীর বক্তব্য সুস্পষ্ট না বলে জানান সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক বিনয় ভূষণ। এদিকে, শিক্ষকদের অনশন কর্মসূচিতে জেলা সিভিল সার্জন কার্যালয় থেকে দু’জন চিকিৎসককে পাঠানো হয়েছে। তাদের একজন ডা. রায়হানা বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘আন্দোলনরত শিক্ষকদের সার্বিক স্বাস্থ্য পরিস্থিতি দেখার জন্য আমাদের পাঠানো হয়েছে। দেখে আমরা অফিসকে জানাব। এই মুহূর্তে আর কিছু বলতে পারছি না।’
উল্লেখ্য, এমপিওভুক্তির দাবিতে দেড় বছরেরও বেশি সময় ধরে আন্দোলন করে আসছেন নন-এমপিও শিক্ষকরা। আমরণ অনশন, অবস্থান ধর্মঘট, শিক্ষামন্ত্রী ও প্রধানমন্ত্রী বরাবর বিভিন্ন সময়ে তারা স্মারকলিপি দিয়েছেন এই একই দাবিতে। তা সত্ত্বেও ২০১৬-১৭ ও ২০১৭-১৮ অর্থবছরের বাজেটে নন-এমপিও শিক্ষকদের এমপিওভুক্তি অথবা বাড়তি ভাতার ব্যবস্থা করতে কোনও বরাদ্দ রাখা হয়নি। তাই আবার রাজপথে নেমেছেন শিক্ষক-কর্মচারীরা। গত ২৬ ডিসেম্বর থেকে তারা অবস্থান নিয়েছেন জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে। এর মধ্যে শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ তাদের ঘরে ফিরে যাওয়ার আহ্বান জানালেও সেই আহ্বান প্রত্যাখ্যান করে তারা আমরণ অনশন ধর্মঘট পালন করছেন।

ভাগ