দানের কম্বল ফের বিক্রি ৮০ টাকায়!

ইতিহাসের সর্বনিম্ন তাপমাত্রার শীতে কাঁপছে সারা দেশ। বিপর্যস্ত জনজীবন। তীব্র এই শীতের প্রকোপে সবচাইতে বেশি সমস্যায় পড়েছেন ঢাকা শহরের ফুটপাতে বসবাসকারী ছিন্নমূলরা। তাদের সাহায্যার্থে এগিয়ে এসেছেন সমাজের বিত্তশালীসহ অনেকেই। প্রায় প্রতিদিনই কোনো না কোনো লোক অথবা প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে কেউ কেউ এদের জন্য বিতরণ করছেন শীতবস্ত্র। এর মধ্যে রয়েছে কম্বলও।
তবে এই ছিন্নমূলদের মধ্যেই কিছু অসাধু লোকের কারণে সাহায্যের প্রকৃত সুফল ভোগ করতে পারছেন না দুস্থ এই মানুষগুলোর বেশিরভাগ অংশ। কারণ, এই অসাধু লোকগুলো নিজেদের গায়ে ছিন্নমূল তকমা লাগিয়ে রাজধানীর যেসব পয়েন্টে এই শীতবস্ত্র বিতরণ করা হয়, সেসব জায়গায় অবস্থান নিয়ে কাড়াকাড়ি করে সংগ্রহ করেন দানের কম্বল ও অন্যান্য শীতবস্ত্র। পরে তারাই আবার এগুলো বিক্রি করছেন অসহায় এই মানুষগুলোর কাছে। দাম ৮০ থেকে ৯০ টাকা। এই কম্বল এবং শীতবস্ত্রগুলোর গ্রাহকও অনেক। এমনই এক দৃশ্য ধরা পড়ে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার প্রাঙ্গণে।
মঙ্গলবার বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে সেখানে দেখা হয় রিকশাচালক জাহাঙ্গীরের সাথে। তার বাড়ি নীলফামারী। থাকেন পুরান ঢাকার বকশিবাজারে। তাকে দেখা যায় শহীদ মিনার প্রাঙ্গণে শুয়ে থাকা রিনার (বয়স ৫৫) কাছ থেকে দান করা কম্বল কিনতে। জিজ্ঞেস করলে তিনি বলেন, ‘আমি বাড়িতে পাঠানোর জন্য কম্বলডা কিনসি। বাড়িত বুড়া বাপ-মা আছে, হেগোর লাইগা ফাডামু। হেরা তো শীতে কষ্ট পায়। আর এই কম্বলডা মার্কেট থেইকা কিনতে গেলে না গেলেও ২০০-২৫০ টেকা লাগতো। হের (রিনা) কাছ থেইকা কিনলাম মাত্র ৮০ টেকায়। ডিসকাউন্ট পাইলাম হেই হিসাবে ১২০ টেকা। হে প্রায় সময়ই এহানে কম্বল বেচে। হে (রিনা) এই কম্বলগুলা যহন দান করে তহন কালেকশন করে। পরে বেচে। আমিও গত রবিবার পাঁচটা কম্বল পাইসি। রায়শা বাজার (রায়সাহেব বাজার) শাহবাগ আর কারওয়ান বাজার মোড়ে বড়লোকরা গাড়ি থামাইয়া এডি দিছিলো। সেই সময় এডি পাইছি।’
ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বহিঃবিভাগের সামনে পান বিক্রেতা মরিয়মকেও (বয়স ৬৫) দেখা যায় কম্বল বিক্রি করতে। তিনি বলেন, ‘এই কম্বলগুলা পাইছি। বড়লোকেরা দিসিল। এহন দরকার নাই। ঘরে আরো আছে। ১০০ টেকা হইলেই বেইচা দিমু।’ দুস্থ মানুষের সাহায্যার্থে দেয়া এই কম্বলগুলো প্রকৃত অসহায় মানুষদের কাছে পৌঁছায় কি না- এমন প্রশ্নে জাহাঙ্গীর ও মরিয়ম পরিবর্তনকে বলে, এই কম্বলের কালেকশনের লাইগা গ্রুপ আছে। আসলে যাগো (যাদের) দরকার হেরা (তারা) পায় না। শেষ পর্যন্ত হেগো (তাদের) কিন্নাই (কিনে) লইতে হয়। এর মাধ্যমে যারা বিক্রি করে হেরাও লাভ পাইতাসে। আর যাগো দরকার হেরাও কম দামে পাইতাসে। সবাইরই লাভ হইতাসে।’

ভাগ